সর্বশেষ

00000আজ মানবাধিকার দিবস

মানবাধিকারের ধারণাটি আঠারো শতকে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের বিকাশকালের ফসল। তবে সমসাময়িক মানবাধিকারের ধারণার উদ্ভব ঘটেছে সাম্প্রতিক কালে। মৌলিক অধিকারের ধারণার বিকাশ ঘটে মূলত ‘সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র’ (ইউডিএইচআর)-এর মাধ্যমে, যা ১৯৪৮ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ধ্বংসযজ্ঞের অভিজ্ঞতা থেকে জাতিসংঘ কর্তৃক একটি সনদ হিসেবে গৃহীত।

তবে মানবাধিকারের আলোচনা বিশ্বব্যাপি প্রসার লাভ করে বিশ শতকের চল্লিশ থেকে নববইয়ের দশকের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে। বর্তমানে যেকোন বিচারপ্রাপ্তির  ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকারের ধারণা একটি প্রাথমিক কাঠামোগত ভিত্তি হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত।

মানবাধিকার বলতে ,মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতা যা সকল মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার। প্রচলিত ধারণায় এই অধিকারগুলো হচ্ছে অখন্ডনীয় এবং মৌল। তবে এ সকল অধিকার এবং স্বাধীনতা  যেসব ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হোক, তা থাকবে বিতর্কের  জন্য উন্মুক্ত। তাই দেখা যায় যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক এবং নাগরিক  অধিকার (যা প্রথম প্রজন্মের অধিকার বলে বিবেচিত) বেশি সুবিধা দিচ্ছে বলে অনেকে প্রাধান্য দেন, আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অধিকারকে (যা দ্বিতীয় প্র্রজন্মের অধিকার বলে বিবেচিত) অনেকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। অনেকে আবার গুরুত্ব দিচ্ছেন যে সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত মানবাধিকার নির্ধারিত হয় নির্দিষ্ট সংস্কৃতির মাধ্যমে এবং বৈশ্বিক ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

এই ইস্যু শুধু সংস্কৃতি ভিত্তিক মানবাধিকার চর্চাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে ক্ষমতার অনুশীলনের রাজনৈতিক রূপকেও সামনে নিয়ে আসে। আজকের দিনে মিয়ানমার সরকার যে মানবাধিকার লংঘন করে চলেছেন সে বিষয়ে বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠন সমূহ অনেকটাই নিরব। এই নিরবতা মানবতার ক্ষেত্রে যে অশনি সংকেতের ইঙ্গিত দিচ্ছে সে বিষয়টি ভূলে গেলে বা অবহেলা করলে চলবে না। বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে এই অমানবিক ঘটনার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান যেমন প্রয়োজন তেমনি মানবতার বিরুদ্ধে যে সরকার এবং তার প্রশাসন মানবিক মূল্যবোধকে এই ভাবে ধ্বংস করছে তাদেরকে কাঠগড়ায় দাড় করাতে হবে।তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

বাংলাদেশে মানবাধিকার আন্দোলন নিয়ে কার্যত আলোচনার সূত্রপাত হয় বিশ শতকের আশির দশকে ঐতিহাসিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে। মূলত স্থানীয় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল  বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ দ্বারা।

আমরা বিশ্বাস করি দেশে বর্তমানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে এমনটি দাবি করা না গেলেও পরিস্থিতি অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ আশাপ্রদ। আমাদে মানবাধিকার সংরক্ষনে দেশে কর্মরত মানবাধিকার কমীরা সক্রিয় থাকায় সরকার মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি অতি দ্রুততম সময়ে নজরে আসে। ফলে ভয়াবহ মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা থেকে জাতি অনেকটাই মুক্ত। যদিও বিছিন্নভাবে নাসিরনগর বা গোবিন্দগঞ্জর মত কিছু ঘটনা ঘটে থাকে। তারপরেও বলা যেতে পারে সরকারের জিরো টলারেন্সের কারনে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে না। যেকোন দেশের মানবাধিকার লংঘনের বড় ভূমিকায় থাকে সরকার। উদাহরন হিসাবে আমরা মায়ানমারের ঘটনাটি সামনে আনতে পারি। যে ধরনের অভিযোগ আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপনের কোনই সুযোগ নেই।

তারপরেও আমরা এইখানে থেমে থাকতে চাইনা। আমরা বিশ্বের সেরা এবং শ্রেষ্ট মানবাধিকার পুষ্ট দেশের স্বপ্ন দেখি। আমাদের সরকার এবং রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক অধিকার বিশেষ করে মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্র হবে জনগণের এবং জনগণরাষ্ট্রিয় নিরাপত্তায় বসবাস করবেন, তারই বাস্তবায়নের জন্য আমরা এক সাগর  রক্ত দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এনেছি। সরকার এবং রাষ্ট্র নিশ্চয়ই সে ত্যাগের কথা ভূলে যায়নি।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

‘প্রসব বেদনা’- নতুনত্বের সার্থক রূপায়ন

কামাল সিদ্দিকী বাবু:  এবারের বই মেলায় কাকলী প্রকাশনী  বের করেছে উদীয়মান এবং সম্ভাবনাময় লেখক সাদাত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *