সর্বশেষ
Home / জাতীয় / শেষ হয়েও হইনিকো শেষ

শেষ হয়েও হইনিকো শেষ

shajidকমান্ডার শহিদুর রহমান (অবঃ) নেভী:

আপনারদেরকে আবার আমার লেখা, আমার প্রাপ্তি উপহার । আমার প্রাপ্তির এ আনন্দ আমি ধরে রাখতে পারছিনে। না বলে আমি আত্মস্থ করতে পারছি নে। তাই শুনুন।


গতকাল আমার এক সিনিয়র নৌবাহিনী কলিগের স্ত্রীর নামাজে জানাজা ও দাফনে অংশ নেয়ার জন্য প্রথমে ডিওএহচএস বারিধারা মসজিদ ও পরে নৌসদর দপ্তরে যাই। একেতো ১৬ বছর অবসর নিয়েছি তার উপর দেশের বাইরে বাইরে থাকার জন্য অনেকের সাথেই অনেকদিন না দেখা।
কিন্তু আমি আল্লার কাছে দুহাত তুলে শোকরানা না করলে তিনি নারাজ হবেন।


প্রথমেই বারিধারা আবাসিক মসজিদ। দেখা হোল প্রায় ৩০/৩২ জন অবসর প্রাপ্ত সাবেক নৌকর্মকরতার সাথে। সবাই ওখানকার বাসিন্দা। বেশিরভাগই আমার সিনিয়র। সেকি মিলনক্ষন। আমাকে হাজারও প্রশ্ন, হাজারো কথা, হাজারো সম্বোধন, এই বিদেশি, এই অস্ট্রেলিয়ান। কেউ বলে কথা বলবোনা, অভিমান। কেউ ছেলের বিয়েতে দাওয়াত করতে না পেরে জরিমানা হিসাবে অর্ধেক খরচ না দিলে কথা বলবে না।
যাহোক সব থেকে বড় আনন্দ, বেশি পাওয়া, আমার সাবেক নৌপ্রধান (দেশের প্রথম ভাইস এডমিরাল), সরওয়ার জাহান নিজাম। যিনি আমার ফেসবুকের একজন গভীর পাঠক। আমার প্রতিটা লাইন উনি আনন্দের সাথে পড়েন। আমি সামনে যেয়ে দাঁড়াতেই আমার ঘাড়ে হাত দিয়ে আমার লেখার ভূয়সী প্রশংসা। প্রায় ১০ মিনিট তার হাত আমার ঘাড়ে ও হাতে। সেকি আনন্দ তাঁর। কত পুরানো কথা। তাঁর সাথে আরও ১০/১২ জন। সকলেই আমার শ্রোতা । এর মধ্যে পাশ থেকে এগিয়ে এলেন আমার আর এক সিনিয়র ক্যাপ্টেন হুদা। তিনি আরও যোগ করলেন, ও অমুক অমুককে এই এই লিখেছে, অমুককে এই লিখে এই ভাবে কাবু করেছে। আমার সেকি আনন্দ।


বন্ধুগন, ওখান থেকে অপর সকলেই প্রায় চলে গেলেও আমাকে ঘিরে নৌ বাহিনীর সকলেই তখনও দাঁড়িয়ে ছিলেন। অতঃপর আমি মহা তৃপ্তিতে আপ্লুত হয়ে নৌসদর দপ্তরের ২য় জানাজা শেষে দাফনের জন্য দ্রুত চলে আসি। আসবার জন্য ঘুরে দঁ]ড়াতেই কে যেন বলে উঠলো, তোমার ইলেকশনে আমাদের নিয়ে যেও, তোমার মাঠে ক্যানভাস করে আসবো। আমি বিগলিত তৃপ্তির মৃদু হাসি দিয়ে দ্রুত নিজের গাড়ির দিকে চলে এলাম ও নৌসদর দপ্তর রওয়ানা হলাম। ওখানে আরও যারা ছিলেন তাদের মধ্যে (সকলেই শ্রধেয়) কমান্ডার আবুল হসেন, ক্যাপ্টেন এ এস খান, কমান্ডার মুসলেহ উদ্দিন, ক্যাপ্টেন হাশেম, ক্যাপ্টেন কামাল ও অনেকে অনেকে। বারিধারা ডিওএইচএস এর সকলকে আমার বিগলিত শ্রদ্ধা পাঠালাম এরপর বারিধারা মসজিদ থেকে চলে এলাম সোজা নৌবাহিনী সদর দপ্তরে। এখানের মসজিদেও ২য় জানাজা শেষে দাফন। নামাজ হোল , জানাজাও হোল কিন্তু আমি যেহেতু ওখানে আগেই নামাজ ও জানাজা পড়ে এসেছি ফলে আর না।

এই ফাকে আমাদের সময়ের (সকলেই সিনিয়ার) সহকারী নৌপ্রধান (এম) ও জুলফিকার Sir দের সাথে বসে পুরানো দিনের অনেক গল্প হোল। ইতিমধ্যে নামাজ শেষ হোল। চাকুরিরত সবাই নামাজ শেষে বেরিয়ে এলো। সাক্ষাৎ হতে লাগলো সবার সাথে। অনেক বড় পদবী, এডমিরাল নিজাম (বর্তমান নৌ প্রধান) এর সাথে প্রাণবন্ত দুবার করমর্দন হোল এবং অপর প্রায় সকল ভাইস এডমিরাল , রিয়ার এডমিরাল, কমোডোর সহ সকল পদবীর কর্মরত কর্মকর্তাদের সাথে দেখা হোল, করমর্দন হোল, গভীর শুভেচ্ছা বিনিময় হোল। এর মধ্যে দেখা হোল আমার অত্যন্ত প্রিয় ও চৌকশ অফিসার নৌগোয়েন্দা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেলের সাথে। ও জিজ্ঞাসা করলো Sir, কবে জয়েন করবেন ? আমি বললাম, কোথায় ? ও বলল, কেন জাতীয় পার্টতে ? আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি তাও জানো ? ও বলল আমাকে তো এজন্যই আপনারা এখানে বসিয়েছেন। আমি বললাম ” দোয়া করো ভাই, সামনে অনেক কাজ। …………………… এরপর প্রায় সকলেই আমরা কবরস্থানে (নৌ প্রধান বাদে ) যেয়ে দাফন শেষ করে যে যার মতো বিদায় নিলাম।


নৌপ্রধান এডমিরাল নিজাম ও নৌ গোয়েন্দা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল সহ সকল চাকুরীরত অফিসাররা যে হৃদ্যতা দেখাল তাতে মনে হল আমরা ” শেষ হয়েও হইনিকো শেষ “। …………… আরও বড় হও নেভি, আমরা দূর থেকেই আমাদের স্মৃতিকে রোমন্থন করতে থাকবো আর দোয়া করতে থাকবো ইনশাআল্লাহ।

 

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

কাল টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *