সর্বশেষ
Home / ধর্ম ও জীবন / শীত ইবাদতের বসন্তকাল

শীত ইবাদতের বসন্তকাল

 মাওলানা আব্দুস সামাদ: ঋতুর পালাবদলে রূপসী বাংলায় শীতের আগমন। শীতকাল উপকারি না অপকারি সে দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে। কারও কাছে শীত ভালো, কারও কাছে গরম। কিন্তু সওয়াব বা পুণ্য অর্জনের বিচারে শীতকেই প্রাধান্য দিতে হয়। শীতের রাতে আমলের বিশেষ মর্যাদার কথা বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমি কি শীতকালে গনিমতের কথা জানাব না? তা হচ্ছে- শীতকালে দিনে রোজা রাখা এবং রাতে নামাজ আদায় করা।’ হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) বলতেন, ‘শীতকালকে স্বাগতম। কেননা তা বরকত বয়ে আনে। শীতের রাত দীর্ঘ হয়, যা কিয়ামুল লাইলের (রাতের নামাজ) সহায়ক এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখতে সহজ।’

 

কনকনে শীতের রাতে তাহাজ্জুদের জন্য অজু করলে আল্লাহ তায়ালা খুশি হন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তিনটি আমল পাপ মোচন করে। ১. সংকটকালীন দান, ২. গ্রীষ্মের রোজা ও ৩. শীতের অজু।’ (আদ দোয়া লিত তাবরানি : ১৪১৪)। রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের জানাব না, কিসে তোমাদের পাপ মোচন করবে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করবে? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল (সা.)। তিনি বললেন, শীতের কষ্ট সত্ত্বেও ঠিকভাবে অজু করা।’ (মুসলিম : ২৫১; তাফসিরে কুরতুবি)।

শীতকালকে ‘ইবাদতের বসন্তকাল’ বলা হয়। আবু সাইদ খুদরি (রা.) নবীজি (সা.) থেকে বর্ণনা করে বলেন, ‘শীতকাল মোমিনের বসন্ত।’ (মুসনাদে আহমদ)। শীতকাল আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ইবাদতের এক বিশেষ মৌসুম। সালফে সালেহিন তথা পূর্ববর্তী সৎকর্মশীল ব্যক্তিরা শীতকালকে গনিমত হিসেবে গ্রহণ করতেন। বিশিষ্ট তাবেয়ি হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘শীতকাল মোমিনের জন্য কত না উত্তম! কেননা শীতের রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া এবং দিনের বেলা রোজা রাখা সহজসাধ্য ব্যাপার।’

শীতকাল এলে হজরত ইয়াহইয়া ইবনে মুয়াজ (রহ.) বলতেন, শীতের রাত দীর্ঘ। ঘুমিয়ে তাকে খাটো করো না এবং ইসলাম পবিত্র-পরিচ্ছন্ন, গোনাহর দ্বারা তাকে কলুষিত করো না। বিশিষ্ট সাহাবি হজরত মুয়াজ (রা.) মৃত্যুকালে কেঁদে কেঁদে বলেন, গ্রীষ্ককালের দুপুরের শীতল পানি আর শীতকালের রাতের নামাজের জন্য আমি কাঁদছি। অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে তিনি রোজা রাখতেন এবং শীতকালে রাত জেগে নামাজ আদায় করতেন।

 

ইমাম মালেক (রহ.) উল্লেখ করেন, সাফওয়ান ইবনে সুলাইম (রহ.) শীতকালে ঘরের ছাদে উঠে তাহাজ্জুদ পড়তেন আর গ্রীষ্মকালে ঘরের ভেতরে পড়তেন। পূর্ববর্তী অনেক বুজুর্গানে দ্বীন সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে, তারা শীতকালে গ্রীষ্মকালীন পোশাক এবং গ্রীষ্মকালে শীতকালীন পোশাক পরে রাতে তাহাজ্জুদ পড়তেন। (লাতায়িফুল মায়ারিফ : ফছলুন ফিশ শিতা)।

শীতকাল মোমিনের বসন্ত হওয়া সত্ত্বেও বহু মানুষ এ সময়ে ইবাদত-বন্দেগি থেকে বিরত থাকে। অলসতার চাদর মুড়ি দিয়ে রাত কাটিয়ে দেয়। এমনকি এশা ও ফজরের নামাজ আদায়েও উদাসীনতা প্রদর্শন করে। শীতের রাতে ঠান্ডা পানি দিয়ে অজু করতে কষ্ট হয় বিধায় নামাজ আদায়ে অলসতা পেয়ে বসে। কিন্তু জানা দরকার, ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিপূর্ণরূপে অজু করা সর্বোৎকৃষ্ট আমল।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি কি এমন আমলের কথা জানাব না! যার দ্বারা আল্লাহ তায়ালা তোমাদের পাপগুলো মার্জনা করে দেবেন এবং আখেরাতে তোমাদের উচ্চ মর্যাদা দান করবেন।’ সাহাবারা আরজ করেন, অবশ্যই বলুন। তিনি তখন বললেন, ‘কষ্টের সময় পূর্ণরূপে অজু করা, মসজিদে বেশি বেশি গমন করা এবং এক নামাজ আদায়ের পর পরবর্তী নামাজের অপেক্ষায় থাকা। এটা রিবাততুল্য ইবাদত।’ (বোখারি ও মুসলিম)।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

ডেনমার্কে কুরআন পুড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ ও তাক্বী উসমানীর ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই: ইসলামী আন্দোলন

পাকিস্তানের সাবেক বিচারপতি, ইসলামিক স্কলার আল্লামা তাকি উসমানির ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *