সর্বশেষ
Home / বিশেষ সংবাদ / শীতের আমেজ আসতেই খেজুর গাছ ছোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার গাছিরা

শীতের আমেজ আসতেই খেজুর গাছ ছোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার গাছিরা

সালেকিন মিয়া সাগর: ভোরের কুয়াশা জানালা দিয়ে উকি দিচ্ছে! মৃদ ঠাণ্ডা যেন শীতর আমেজ নিয়ে এসেছে গ্রাম গঞ্জসহ সবখানে। রাস্তায় বের হলেই বুঝা যায় শীতের আগমন স্পষ্ট। শীত শুরুর সাথে সাথে খেজুর গাছ প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চুয়াডাঙ্গার গাছিরা। ইতিমধ্যে কিছু গাছি দা ও কোমরে দড়ি বেঁধে খেজুর গাছে উঠে নিপুণ হাতে গাছ চাছা-ছেলা শুরু করেছে। এদিকে জ্বলানী খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে রস থেকে গুড় তৈরি করে লোকসান হচ্ছে বলে গাছিরা জানান।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানাগেছে জেলা খেজুর গাছ রয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী রয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর ও দামুড়হুদা উপজেলায়। চলতি মৌসুৃমে জেলায় গুড় উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে আরো জানাগেছে, খেজুর গাছ এখন দিন দিন বাড়ছে। মাঝে অবশ্য কিছু দিন ইটের ভাটায় গাছ জ্বলানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কমে গিয়েছিলো।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানাগেছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে খেজুর গাছ প্রস্তুত করতে হয়। খেজুর গাছ থেকে রস আহরণের জন্য দা ও কোমরে দড়ি বেঁধে খেজুর গাছে উঠে নিপুণ হাতে গাছ চাছা-ছেলা করতে হয়। পরে ছেলা স্থানে নল বসানো হয়। সেই নল বেয়ে নেমে আসে সুস্বাদু খেজুর রস। কাকডাকা ভোর থেকে সকাল ৮-৯টা পর্যন্ত গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে দুপুর পর্যন্ত রস জাল দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়।

জেলার চাঁনপুর গ্রামের গাছি শাহাবুল ইসলাম জানান, ৪০ টি গাছ তোলতে বা কাটতে একজনকে ২৫০ টাকা দিতে হয়। আর ৪০ টি গাছ থেকে ৩০ ভাড় রস হয়। আর ৩০ ভাড় রসে এক ভাড় গুড় হয়। এক ভাড় গুড়ের ওজন হয় ১৮/ ১৯ কেজি। একভাড় গুড় গতবার বিক্রি হয়েছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত।

গাছি অভিন্ন ভাষায় জানান, প্রতিদিন বিকালে গাছে উপরে উঠে ভাড় বাঁধতে হয়। আর অনেক সকালে রস ভর্তি ভাড় খুলতে হয়। এটা অনেক পরিশ্রম। কিন্তু সেই তুলায় আয় হয়না। গত বছর খেজুর গাছ থেকে যা আয় হয়েছে জ্বালানি খরচ ও মুজুরিতেই শেষ। রীতিমত লোকসান গুণতে হয়েছে। এবার যদি গুড়ের দাম পাওয়া না যায় তাহলে গাছ কাটা অনেকই ছেড়ে দেবে। অন্য কাজে আয় বেশী হওয়ায়ি ইতিমধ্যেই গাছ কাটা অনেকেই ছেড়ে দিয়েছে।

একাধিক ওয়েবসাইট সূত্রে জানাগেছে, খেজুরের রসে প্রচুর এনার্জি বা শক্তি রয়েছে। এতে জলীয় অংশও বেশি। এটাকে প্রাকৃতিক ‘এনার্জি ড্রিংক’ বলা যেতে পারে। এতে গ্লকোজের পরিমাণ বেশি থাকে। খেজুরের রস কাঁচা খাওয়া যায়, আবার জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করেও খাওয়া যায়। গুড়ে আয়রন বা লৌহ বেশি থাকে এবং হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে। যারা শারীরিক দুর্বলতায় ভোগেন, কাজকর্মে জোর পান না, খেজুরের রস তাঁদের জন্য দারুণ উপকারী। খেজুরের রস প্রচুর খনিজ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। এতে ১৫-২০% দ্রবীভূত শর্করা থাকে। খেজুরের গুড় আখের গুড় থেকেও বেশি মিষ্টি, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। খেজুরের গুড়ে প্রোটিন, ফ্যাট ও মিনারেল সবই রয়েছে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তারা খেজুরের রস এড়িয়ে যাবেন।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

জীবননগরে ভালোবাসায় সিক্ত হলেন যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল

জীবননগর প্রতিনিধিঃ জীবননগরে রাজনৈতিক, সুধী, সাংবাদিক ও স্থানীয় সাধারণ জনগনের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন জীবননগর উপজেলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *