সর্বশেষ
Home / শিক্ষা / শিক্ষা এখন বাণিজ্যে!

শিক্ষা এখন বাণিজ্যে!

97039ডেস্ক রিপোর্ট : কোচিং ব্যবসা ও নোট-গাইড বইয়ের বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই যুদ্ধে নেমেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এই ব্যবসায় শিক্ষা ব্যবসায়ীরা বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকা আয় করছে বলে জরিপ চালিয়ে তথ্যও তুলে এনেছেন। জড়িতদের ব্যবস্থা নেয়ার কথা বারবারও উচ্চারিত করেছেন তিনি। প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের খসড়ায় কোচিং ও নোট-গাইড বইয়ের সাথে জড়িতদের জেল-জরিমানার বিধান রেখে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কেউ প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং করালে কমপক্ষে দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড অথবা ছয় মাসের কারাদন্ড অথবা উভয় দন্ড দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। কিন্তু চূড়ান্ত খসড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে বৈধতা দেয়া হয়েছে শিক্ষা বাণিজ্যের। জেল-জরিমানার বিষয়টি তুলে সহায়ক বা অনুশীলন বই প্রকাশের ক্ষেত্রে অনুমোদন নেয়ার বিষয়টিও বাদ দেয়া হয়েছে। কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনির বিরুদ্ধে আগের সেই কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে ‘ছায়া শিক্ষা’ হিসেবে কৌশলে এর বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
তবে শিক্ষা আইনে কোচিং ও গাইড বইকে বৈধতা দিলে (সেটি যে নামেই হোক) শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘ মেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদেরা। তারা বলছেন, কোচিং ও গাইড নিষিদ্ধ এবং মন্ত্রী কঠোর থাকার পরও তারা যেভাবে বেপরোয়া ছিল, সেটি বৈধ হলে এর দৌরাত্ম্য কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা চিন্তারও বাইরে। কোনো রকম আইনি নিষেধাজ্ঞা বা ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ না থাকলে মূলধারার শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মূল বই পড়া বা শ্রেণিকক্ষে লেখাপড়ার অবস্থা আরও খারাপ হবে।
চূড়ান্ত খসড়ার বিষয়টি চূড়ান্ত নয় বলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, চূড়ান্ত খসড়ায় যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তার সবই যে চূড়ান্ত তা নয়। এটি মন্ত্রিসভায় পাস হলে পরবর্তীতে আরও যাচাই-বাছাই করে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদে যেটি পাস হবে সেটিই চূড়ান্ত।
তবে গত অক্টোবরে ইনকিলাবকে তিনি বলেন, দেশের বেশিরভাগ কলেজে বেলা ১১টার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ শিক্ষকরা মনে করেন ক্লাসে পড়ালে কোচিং-প্রাইভেটে শিক্ষার্থীরা আসবে না। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা সকাল সাতটায় বাড়ি থেকে আসে। তারা আসে কোচিং করতে। সকালে যে শিক্ষার্থী আসে, সে কোচিং করে ক্ষুধার্ত হয়ে বাড়ি চলে যায়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোন কোন শিক্ষক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে না পড়িয়ে কোচিংয়ে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নোট বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত উপস্থিতি প্রভৃতি অভিযোগও কোন কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাওয়া যায়। নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এ সব শিক্ষক নামধারী দুর্জন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয় জেল-জরিমানার বিধান রেখে আইনটির প্রাথমিক খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। আইনের উপর মতামত চাওয়া হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রায় ৩০০ মতামত পাওয়া গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, অধিকাংশ মতামতেই প্রাইভেট টিউশন, কোচিং এবং নোট-গাইড বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও কোচিং-প্রাইভেট বন্ধ না করে চূড়ান্ত খসড়ায় এর বৈধতা দিয়ে মন্ত্রী সভায় পাসের জন্য পাঠানো হয়েছে। আইনের চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রাইভেট টিউশনসহ ছায়া শিক্ষা (শ্যাডো এডুকেশন) প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও তদারকের জন্য সরকার আলাদা নীতিমালা বা বিধি প্রণয়ন করবে। ছায়া শিক্ষা বলতে সরকারি বা স্বীকৃতি পাওয়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে কোনো ব্যক্তি বা শিক্ষকের উদ্যোগে একাধিক শিক্ষার্থীকে কোনো প্রতিষ্ঠানে বা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অর্থের বিনিময়ে পাঠদান কার্যক্রমকে বোঝাবে। কোনো ছায়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে সরকার বন্ধের উদ্যোগ নেবে।
জেল-জরিমানা দূরে থাক, অনুমোদন নিয়ে সহায়ক পাঠ্যপুস্তক প্রকাশের সুযোগও রাখেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মতামতের জন্য দেওয়া খসড়ায় বলা হয়েছিল, সহায়ক বই প্রকাশে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদন লাগবে। এই বিধান বাদ দিতে প্রকাশকেরা আন্দোলন করে আসছেন। এখন চূড়ান্ত খসড়ায় নোট বা গাইড বই নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে, যদিও সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এই নামের বই আর নেই। এখন অনুমোদন ছাড়াই ‘সহায়ক পুস্তক’ প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা নোট-গাইডের একধরনের বিকল্প এবং সহায়ক বই বা অনুশীলন বই নামে পরিচিত। এ বিষয়ে খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো প্রকাশক বা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কেবল সহায়ক পুস্তক বা ডিজিটাল শিখন-শেখানো সামগ্রী প্রকাশ করতে পারবেন। কিন্তু কোনো ধরনের নোটবই, গাইড বই বা নকল মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশ ও বাজারজাত করা যাবে না। শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নোট-গাইডের কথা বলে ধূম্রজাল সৃষ্টি করে প্রকৃতপক্ষে যেকোনো ধরনের বই নির্বিঘেœ প্রকাশের আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রবীণ শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আইনিভাবে কোচিং ও গাইড বইয়ের অনুমোদন দেয়া বিস্ময়কর ব্যাপার। এটি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত হবে। নোট-গাইড, সহায়ক বা অনুশীলন বইয়ের নামেই বলা হোক, এগুলো শিক্ষার কোনো কাজে আসে না। কোচিং ও গাইড বইয়ের বৈধতার দেয়ার বিষয়টি হাস্যকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতোদিন এগুলো নিষিদ্ধ করা এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলো, কিন্তু হঠাৎ করে কি এমন হলো যে তা বৈধতা দেয়া হচ্ছে?
অভিভাবকরাও কোচিং ও গাইড বইয়ের বৈধতার সিদ্ধান্তে সমালোচনা করেছেন। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, গাইড বই অবৈধ থাকা অবস্থায় অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটি ও শিক্ষকরা মিলে গাইড বই ও গ্রামার কোম্পানীর সাথে লাখ লাখ টাকার চুক্তি করত। যেখানে শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট কোম্পানির বই কেনা বাধ্যতামূলক। সরকার গ্রামার ব্যাকরণ ফ্রি দিলেও অবিশ্বাস্য সত্য শিক্ষার্থীকে ৫০ টাকার বই ৫০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। পরিসংখ্যানটা এমন ডাথমিক বিদ্যলয়ের দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আর উচ্চ বিদ্যালয়ে কমপক্ষে ৩ হাজার ৫০০ টাকার বই একজন শিক্ষার্থীকে কিনতে বাধ্য করা হয় স্কুল থেকে। যা এখন জেলা থেকে থানা, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্কুলগুলোতে প্রশাসনের নাকের ডগায় ওপেন বাণিজ্য হচ্ছে ! গরীব শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া এবং বাল্য বিয়ের বর্তমান সময়ের অন্যতম কারণ এটিও৷
শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন. শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর আগে কোচিং ও গাইড বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। এখনই যদি আবার তারাই এটার বৈধতা দেয় তাহলে তো মন্ত্রণালয় নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেরাই অবস্থান নিচ্ছে। তিনি এ ধরণের পদক্ষেপকে তিনি নিন্দাও জানিয়ে বলেছেন,  কোচিং ও গাইড বাণিজ্যের বৈধতা দেওয়া খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষা আইনের খসড় প্রকাশের পর আমরা সকলের মতামত চেয়েছিলাম। যারা মতামত দিয়েছে তাদের মতামতগুলোকে আমরা সম্মান জানিয়েছে চূড়ান্ত খসড়ায় অন্তর্ভূক্ত করেছি। তবে এই চূড়ান্ত খসড়াটিই যে চূড়ান্ত আইনে পরিণত হবে এমনটি ভাবার কিছু নাই। মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের পর এটি আইনে পরিণত হওয়ার আগে আরও অনেকবার যাচাই-বাছাই করা হবে। আমি সংসদে যেটি উত্থাপন করবে সেটিকেই আমি চূড়ান্ত বলে মনে করবো।
প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

737923

আশরাফ পত্নীর জীবনাবসান

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শীলা ইসলাম মারা গেছেন। আজ …

One comment

  1. মানসম্মত শিক্ষা? অর্থ কি?
    আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহাশয় শিক্ষার পুরো মহলকে প্রায় ‘ঘাটের মরা’ অবস্থায় আনতে খুবই সফল হয়েছেন। তার এই কীর্তি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে নিশ্চয়ই। যা হোক,মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়কে প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করে মানস¤পন্ন শিক্ষা – বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে – বর্তমান বাস্তবতাবর্জিত এবং শিক্ষার্থীদেও ওপর প্রায় সম্পুর্ন অপ্রয়োজনীয় কারিকুলাম ও সিলেবাসের বোঝা চাপিয়ে কিভাবে সম্ভব সেটা বোঝা বেশ মুশকিল। কয়েকটি উদাহরন দেওয়া যায়। দেশ যখন ডিজিটাল হতে চলেছে তখন ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত যে তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি হিসেবে একটি বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে সেটা পুরো ১০০ নম্বরের সিলেবাস হওয়া দরকার ছিল। তা না করে ৫০ নম্বরের সিলেবাস করা হয়েছে। অথচ শারীরীক শিক্ষা, খেলাধুলা ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান নামীয় এক ককটেল করা হয়েছে ১০০ নম্বরের। শারীরীক শিক্ষা ও খেলাধুলা শেখার বিষয়টা প্রায় সম্পুর্ন প্র্যাক্টিক্যাল। মাঠ বাদ দিয়ে কেবল বইপুস্তক পড়ে খেলাধুলা শিখতে হয় এটা বেশ কৌতুককর বটে, কারন দেশের অধিকাংশ স্কুলেই খেলার মাঠ নেই। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান শাখার জন্য সামাজিক বিজ্ঞান এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য সাধারন বিজ্ঞান কোন বিচেনায় অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদেরকে অপ্রয়োজনীয় বোঝা বইতে বাধ্য করার কুমতলব কার, সেটাও বেশ বিস্ময়কর বটে। বরং ৮ম শ্রেনীতে ঐ স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বইটি – যাতে মানব শরীরের বিভিন্ন বৈশিষ্ট, কম্পোনেন্ট ও কার্যপদ্ধতি থাকবে – তা পাঠ্য করলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উপকার হতে পারত। তারা মানব শরীর সম্পর্কে ভাল ধারনা পেত যেটা পাকিস্তান আমলে ৮ম শ্রেনীতে পাঠ্য ছিল। ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত ১০০ নম্বরের সমাজ বিদ্যা নামীয় যে একটি বিষয় আছে সেটার সঙ্গে ভুগোলের প্রাথমিক ধারনা সম্বলিত একটি পুস্তক ৮ম শ্রেনীতে রাখা যেত যাতে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হয়ে গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ভুগোল বিষয়েও একটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রাপ্তি সম্ভব হতো। এছাড়া ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত ইংরেজী ২য় পত্রে ৫০ নম্বরের সিলেবাস করা হয়েছে। অথচ ৯ম শ্রেনীতে সেটা ১০০ নম্বরের। আমাদের শিক্ষার্থীরা এমনিতেই ইংরেজীতে দুর্বল এবং তাদেরকে ইংরেজীতে মোটামুটি চলনসই করার জন্য ইতিপুর্বে যে ভাবে সিলেবাস ছিল সেটা তবুও বেশ কার্যকর ছিল। কিন্তু ৮ম থেকে ৯ম শ্রেনীতে হঠাৎ ৫০ থেকে ১০০ নম্বরের যে বাড়তি সিলেবাস, সেটা কোন যুক্তিতে? এই শ্রেনীগুলোতে চারু ও কারুকলা এবং কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা নামীয় এক অপ্রয়োজনীয় বোঝা চাপানো এই পর্যায়ে চাপানো হয়েছে তার যুক্তি কি? এই বিষয়টি আগে ছিল না বলে কি কারো কর্মমুখী হতে গুরুতর অসুবিধা হয়েছে? এছাড়া যে দেশে প্রায় ১০/১২ লাখ শিক্ষিত বেকার সামান্য করনিকের চাকরীর জন্যও হন্যে হয়ে ঘুরছে, সেখানে কোন কর্মমুখী শিক্ষায় তারা শিক্ষিত হবে? এর বদলে দেশে ভোকেশনার ইন্সটিটিউটের সংখ্যা বাড়িয়ে, যাতে তারা অনাবশ্যক এমএ, এমএসসি, এমকম ইত্যাদি ডিগ্রীর একটা চোতা নিয়ে চাকরীর খোঁজে জুতার তলা ক্ষয় না করে এসএসসি-র পরে মেরিট বিবেচনায় এইসব ভোকেশনার ট্রেনিং ইন্সটিটিউট থেকে শিক্ষা নিয়ে তাদের অধিকাংশই স্বনিয়োজিত হতে পারে সেই ব্যবস্থা থাকা কি জরুরী ছিল না?তাছাড়া এতগুলো বিষয় একসংগে পাঠ্য করার ফলে বিদ্যালয়ের ৬টি কর্মঘন্টার মধ্যে প্রতিটি বিষয়ে কয়টি করে পিরিয়ড বরাদ্দ করা যাবে এবং সেটা যথেষ্ঠহবে কি না? আর সেই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে কতটুকুই বা শিখতে পারবে, শিক্ষকরাই বা কতটুকু শেখাতে পারবেন? এসব বিষয় যে আদৌ বিবেচনায় আনা হয়নি সেটা বর্তমানের মাধ্যমিক স্তরের তোঘলোকি কারিকুলাম ও সিলেবাসই চোখ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে বিশেষ অনুরোধ আমাদের কচিকাঁচা শিক্ষার্থীদেরকে গিনিপিগ বানিয়ে এই পাগলামী বন্ধ হোক। শিক্ষার্থীদেরকে পাঠ্যপুস্তকের বোঝায় ন্যুব্জপৃষ্ঠ করে ফেলে আর যাই হোক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *