সর্বশেষ
Home / সারাবাংলা / রজিবউদ্দিন তরফদার ও ভাষা সৈনিক রেজাউল করিমের নামে ২টি সড়ক দাবি তুললেন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ

রজিবউদ্দিন তরফদার ও ভাষা সৈনিক রেজাউল করিমের নামে ২টি সড়ক দাবি তুললেন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ

29339860_1864424336910722_7066114731211227136_nনিজস্ব প্রতিবেদক :আজ ১৬ মার্চ ২০১৮ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় বগুড়ার মফিজ পাগলার মোড়ে মেক্স মটেলে বগুড়া জেলাধীন সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচি গ্রামের কৃতি সন্তান, ৫২’র জীবন কিংবদন্তী, ভাষাসৈনিক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিমকে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি বগুড়া জেলা শাখার পক্ষ থেকে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

বগুড়া জেলার জাতীয় মানব অধিকার সমিতির সভাপতি এবিএম মাজেদুর রহমান জুয়েলের সভাপতিত্বে এবং মোঃ আরমান হোসেন ডলারের পরিচালনায় সংবর্ধিত অথিতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ৫২ ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম,  প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বগুড়া পৌর মেয়র এ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা। এছাড়াও বগুড়ার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সিনিয়র সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

 

প্রধান অতিথি একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, আমারা গুনিজনদের সম্মান দিতে ভুলে গেছি সেই জন্য স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও দেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে। বগুড়ার কৃতিমান সন্তান ছিলেন রজিবউদ্দিন তরফদার। তিনি এমন এক মহান ব্যক্তি ছিলেন যে একদিকে শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের সাথে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অন্যদিকে মৌলানা মহাম্মদ আকরাম খানের সাথে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কৃষক সাধারণ মানুষের প্রাণ ছিলেন তিনি। তার স্মৃতি ও আদর্শ নতুন প্রজম্মের কাছে তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের।

 

ভাষা সৈনিক রেজাউল করিম সম্পর্কে তিনি বলেন-রজিবউদ্দিন তরফদারের সুযোগ্য নাতি, বগুড়ার কৃতি সন্তান ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সহপাঠী সানাউল্লাকে নিয়ে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। পলাশি রেলগেটে এসে জানতে পারলেন এস এম হল, জগন্নাথ হল সহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা জুড়ে পুলিশ, ইপিআর অবস্থান নিয়েছে। সেই ভয়াবহ মুহুর্তে অদম্য সাহস নিয়ে ভাষা সৈনিক রেজাউল করিম ভাষা আন্দোলণে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেন। প্রচার বিমুখ এই মহান মানুষকে আমরা সম্মান জানাতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।

 

প্রধান বক্তা মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে বগুড়ার জনগনের জন্য জীবনকে উৎস্বর্গ করেছে তাদের ইতিহাস যদি সামনে তুলে ধরা না হয় তাহলে নতুন প্রজন্ম তাদের অতীত ইতিহাস জানতে ব্যর্থ হবে। এটি আমাদের কারো কাছেই কাম্য নয় তিনি দাবি করেন অবিলম্বে বগুড়া পৌরসভার মধ্যে যেকোন দুটি সড়কের নাম রজিবউদ্দিন তরফদার ও ভাষা সৈনিক রেজাউল করিমের নামে করা সময়ের দাবি।

 

৫২’র জীবন্ত কিংবদন্তী ভাষাসৈনিক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম ১৯৩৭ সালের ৪ এপ্রিল বগুড়া জেলাধীন সারিয়াকান্দা থানার নারচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মো. মোজাহেদ উদ্দিন তরফদার এবং মাতার নাম আকলিমা খাতুন। ১৯৫২ সালে ওয়েস্ট এ্যান্ড হাইস্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তিনি একুশের আন্দোলনের সাথে জড়িত হন এবং নানা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে বহুজাতিক কোম্পানী লিভার ব্রাদার্স (পাকিস্তান) লিঃ এ যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। এর পূর্বে কিছুদিন তিনি এম.এম ইস্পাহানী লিঃ এ চাকুরীতে ছিলেন। তৎকালীন পাকিস্তান কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রি সিআইপিতে কর্মরত থাকাকালে স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। অতঃপর ১৯৭৩ সালে বদলী  বিসিআইসি’র অধীনে ঘোড়াশাল ও আশুগঞ্জ সারকারখানায় ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন। অতঃপর ফেঞ্জুগঞ্জ সার কারখানার মহা ব্যবস্থাপকের পদ থেকে অবসর নেন ১৯৯৭ সালে। ১৯৬৫ সালে তিনি বেতার ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় নজরুল গীতি কন্ঠশিল্পী সেলিমা করিমের সঙ্গে প্রণয়ের সূত্রে আবদ্ধ হন। ১ ছেলে ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রয়েছে তার। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে অবসর সময় কাটাচ্ছেন তিনি। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মাদার তেরেসা পদকসহ অসংখ্য পদক পেয়েছেন তিনি।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ভাষাসৈনিকদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে চলেছেন। জীবন্ত কিংবদন্তী ভাষাসৈনিকের দাদা রজিব উদ্দিন তরফদার (১৮৯১-১৯৫৯) নিখিল বাংলা প্রজা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন, প্রজাবন্ধু হিসাবে তাঁর কালের বিখ্যাত ব্যক্তি। তিনি ১৮৯১ সালে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দী উপজেলার নারচী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম দারাছতুল্লাহ তরফদার। রজিবউদ্দিনের পূর্ব পুরুষগণ দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট পরগনায় বসবাস করতেন। ১৮৯৬ সালে তিনি নিজগ্রাম নারচী এমভি. স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন এবং পরে হরিনা এমই, স্কুলে ভর্তি হন। মেধাবী ছাত্র বৃত্তি পরিক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করেন । ১৯০২ সালে বগুড়া জেলা স্কুলে ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এই সময় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বিপর্যয় দেখা যায়। যার কারনে তিনি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারেন নি। কিন্তু তিনি সামাজিক আন্দোলন এবং নানা ঘাত প্রতিঘাতের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সত্যিকারে অর্থেই একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। ১৯০৭ সালে নিজ গ্রাম নারচীতে একটি এমই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং স্বয়ং উক্ত স্কুলের সেকেন্ড পন্ডিত পদে শিক্ষকতা করেন।

রজিবউদ্দিন তরফদার ১৯২০ সালে খিলাফত আন্দোলনে যোগদান করেন। ১৯২৩ সালে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য পদে বিপুল ভোটাধিক্যে  নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ১৯২৪ সালে তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বাধীন স্বারাজ পার্টিতে যোগদান করে বিট্রিশ সরকার বিরোধী দলে অবস্থান নেন। ১৯৩০ সালে রজিবউদ্দিন তরফদার দুর্বার প্রজা আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই সময় তিনি ‘নিখিলবঙ্গ প্রজা সমিতি’ নামে একটি সমিতি গঠন করেন। এই সমিতি সভাপতি ছিলেন মৌলানা মহাম্মদ  আকরাম খাঁ। ১৯৩৫ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্ব›িদ্ধতায় বগুড়া হতে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন।

শেরে বাংলা একে ফজলুক হকের নেতৃত্বে একটি ব্যাপক ভিত্তিক প্রজা সংগঠক গড়ে ওঠে। সংগঠনের নাম দেয়া হয় ‘নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি’ যার সভাপতি ছিলেন শেরে বাংলা একে ফজলুক হক ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত তিনি হন। প্রজাবাহিনী নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন তিনি। একজন মহান দেশপ্রেমিক ও প্রতিভাধর প্রজা সংগঠক জননেতা ১৯৫৯ সালে ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকাল ৪টায় শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন। তাঁরই পুত্র মোঃ মোজাহেদ উদ্দিন তরফদারে পুত্র জীবন্ত কিংবদন্তি ৫২ ভাষা সৈনিক, ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম-এর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সময়ের দাবী।

 

আমরা আশা করছি বগুড়া পৌর মেয়র আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এ্যাড একেএম মাহবুবুর রহমান নিজ উদ্দোগে এই মহান দুই ব্যক্তির নামে দুটি সড়কের নামকরণ করবেন।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

ভোটারহীন নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থার কবর রচিত হয়েছে: পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী অন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেন, ভোটার ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *