সর্বশেষ
Home / Uncategorized / মলদ্ধারের সমস্যা ও চিকিৎসা

মলদ্ধারের সমস্যা ও চিকিৎসা

kkkkkkkkkkk

ডা. এস এম আব্দুল আজিজ: জীবনে কম-বেশ পাইলস্রে সমস্যায় ভোগেননী এমন ব্যাক্তির সংখ্যা অতি সমান্য। পাইলস্ বলতে আমরা বুঝি মলদ্বারে ব্যাথা ও ফুলে যাওয়া। মলদ্বার দিয়ে রক্ত বাহির হওয়া এবং মলদ্বারের বাইরে কিছু অংশ ঝুলে পড়ে আবার ভেতরে ঢুকে যায় ইত্যাদি। পাইলস্,গেজ বা অর্শ ব্যাধিটি মানুষের জটিল ও কঠিন সমস্যার মধ্যে অন্যতম । হোমিওপ্যাথিতে বিনা অপারেশনে  মেডিসিনের সাহায্যে চিকিৎসা হয়ে থাকে। মলদ্বারের ভিতরের ও বাহিরের শিরা স্ফীত, চর্ম শক্ত ও কুঞ্চিত হইয়া ছোট বলির সৃষ্টি হয়। পাইলস দেখতে আঙ্গুর ফলের থোকার মত।

পাইলস দুই প্রকার: ১.রক্ত অর্শ ২.বায়ূজনিত অর্শ ।

রক্ত অর্শ: রক্ত অর্শ এ ক্ষেত্রে পায়খানার সাথে রক্ত,হলদে কিংবা লালচে পানির মত পদার্থ বাহির হয়।

বায়ূজনিত অর্শ: এ ক্ষেত্রে পায়খানার সাথে রক্ত কিংবা লালচে বা হলদে পানি দেখা যায় না কিন্ত মলদ্বারে চুলকানী,অসহনীয় ব্যাথা ও কোষ্ঠ কাঠিন্য থাকর কারণে মলদ্বারে ফোলা থাকে।

কারণঃ যে সকল রোগীরা পাইলস্ বা অর্শ রোগের সমস্যায় ভোগেন তাদের সাধারণত কোষ্টকাঠিন্য হতে পারে এবং ডায়রিয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে,  পেটে গ্যাসও জমা হয়, পায়খানা ক্লিয়ার হয় না, পায়খানার সাথে মিউকাস বা আম যায়। গুরুপাক বা মসলা জাতীয় খাবার যেমন কুরমা-পোলাও, অতিরিক্ত ঝাল জাতীয় খাবার ও গরুর গোশত খেলেও হজমে গোলমাল দেখা দেয়। সহজে মলত্যাগ হতে চায় না, মলদ্বারে আঙ্গুল দিয়ে মলত্যাগ করতে হয়। যাদের ‘আইবিএস’ আছে তাদের এই জাতীয় সমস্যা ও পাইলস্ হতে পারে। মলত্যাগের সময় কিছু মাংস পিন্ড বের হয়ে আবার ভিতরে ঢুকে যায় । আনেকে রোগ নিয়ে ভোগে তারপরও লজ্জায় রোগের কথা প্রকাশ করে না। যার কারনে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কঠিন সমস্যায় ভোগেন। তখন অপারেশন ছাড়া আর কোন গতি থাকে না। দীর্ঘ দিনের কোষ্ঠ কাঠিন্য থাকলে, বারবার সুতা কৃমির আক্রমনের ফলে, অধিক সহবাস করার কারণে, অজির্ন রোগে বেশি দিন ভোগা, মহিলাদের গর্ভাবস্থায় জরায়ূতে চাপ পড়লে, সর্বদা বসিয়া কাজ করা,অতিরিক্ত মশল¬াযুক্ত খাবার খাওয়া, কোষ্ঠবদ্ধতার কারণে জোরে বেগ দিয়ে মলত্যাগ করা, দীর্ঘদিন রাত্র জোগে কাজ করা, পিতা-মাতার থাকলে সন্তানেরও এই রোগ হতে পারে।

লক্ষণ: মাঝে মাঝে বলিতে চুলকায়, দপদপ করে, টাটানী এবং জ্বালা কর বেদনা। মলদ্বারে বা পায়খানার রাস্ত্য়া কাটা বা কাটি থাকার অনুভুতি মনে হয়। তাছাড়া বেদনা ও জ্বালা, মলত্যাগের সময় কোথ দেওয়া। কোমরে ব্যথা দেখা দিতে পারে, মলত্যাগের সময় বলি হতে রক্তস্রাবও হয়। অর্শ হতে রক্তস্রাব হলে রক্তস্রাবী অর্শ, রক্তস্রাব না হলে অন্ধ বা অস্রাবী অর্শ বলে।

চিকিৎসা: বিশেষ করে যাদের পাইলস বড় এবং বাইরে বেরিয়ে আসে। এমন অবস্থায় অপারেশন ছাড়া হোমিও মেডিসিনের সাহায্যে চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়। আর অপারেশন করলে মলদ্বারের চতুরদিকে তিন জায়গায় বেশ কিছু অংশ কাটতে হয়। ফলে অপারেশনের পর প্রচুর ব্যাথা হয় এবং মলত্যাগেও অনেক ব্যাথা পায়। অনেকের দেখা যায় অনবরত সমান্য রক্ত ও পুজের মত নিঃশরন হয়। ক্ষতের স্থান শুকাতে দেরী হয়। অপারেশনের পরে মলদ্বার ছোট ও সঙ্কিুচিত হয়ে জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। পায়খানা আটকে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা প্রবল। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় অর্শ রোগীকে আরোগ্য করা সম্ভব। রোগীর শারীরিক, মানষিক ও দৈহিকসহ সামগ্রহীক অবস্থা বিবেচনা করে  ঔষধ নির্বাচন করে তা প্রয়োগ করলে রোগীর সমস্য বিনা কষ্টে ও অপারেশন ছাড়াই দুর হবে ইনশাল¬াহ।

রোগীর লক্ষনের দিকে বিবেচনা করে এই ঔষধসমুহ সাধারণত ব্যবহার হয়। ইষ্কিউলাস হিপ, নাক্স ভুমিকা, সালফার,হাইড্রাষ্টিস, কলিনসোনিয়া, র‌্যাটান হিয়া ইত্যাদি

পরামর্শ: পায়খানা ক্লিয়ার বা পরিস্কার হয় এমন খাবার খাওয়া উচিত। যেমন: শাক,সবজি, আঁস জাতীয় খাবার, ফল-ফলাদি বেশি খাওয়া, ইসবগুলের ভূসির শরবত পান করা ইত্যাদি। পুর্ণ বয়স্ক লোকের দৈনিক ৬-৮  গ¬াস পানি পান করা উচিত। সকল প্রকার তৈলাক্ত খাবার গুরু পাক, অতিরিক্তি মসলা জাতিয় খাবার, ভাজা-পোড়া,ঝাল জাতিয় খাদ্য অধিক ঝাল ও বাসি খাবার পরিত্যাগ করা উচিত। নিয়মিত ব্যায়ম করতে হবে এবং মানসিক চাপ কমাতে হবে।

ডা. এস এম আব্দুল আজিজ

সেক্রেটারী: আইডিয়াল ডক্টর্স ফোরাম অব হোমিওপ্যাথি ,চেম্বার:আল-আজিজ হেলথ সেন্টার, ৫৩ পুরানা পল্টন,

বায়তুল আবেদ, আজাদ প্রোডাক্টসের পার্শ্বে , ২য় তলা, রুম নং -১০৩,  ঢাকা,  মোবাইল: ০১৭১০ ২৯৮ ২৮৭ ।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

হাসপাতাল, ক্লিনিকে সেবার মূল্যতালিকা টাঙাতে নির্দেশ

আইন অনুসারে দেশের বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরীক্ষাসহ চিকিৎসাসেবাবিষয়ক মূল্যতালিকা ও ফি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *