সর্বশেষ
Home / কৃষি / বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে চুয়াডাঙ্গার চাষীরা

বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে চুয়াডাঙ্গার চাষীরা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : শুরু হয়েছে বোরো চাষাবাদ। এখন মাঠে মাঠে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-শ্রমিক। তবে বিদ্যুত নিয়ে এবছর কোন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না । অপরদিকে, লোকসান ঠেকাতে আগামী বোরো ক্রয় মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার দাবী জানান তারা। চাষিরা বলছেন শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকমতো থাকলে সুষ্ঠু ভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে চলছে পানি সেচ, জমি প্রস্তুত ও চারা রোপনের ব্যস্ততা।

দামুড়হুদা উপজেলার ধান্যঘরা-দূর্গাপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, গভীর নলকুপ দিয়ে আমাদের চাষাবাদ করতে হয়। সবাই একসাথে জমি তৈরী করতে নলকুপের উপর কিছুটা চাপ পড়েছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এই বছর কোন প্রকার বিদ্যুতের ভেলকিবাজী নেই। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়মিত থাকলে ভালভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারব।

কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন- ডিএপি ১বস্তা ১৩শ টাকা, এমওপি ১ বস্তা ৮শ টাকা, ইউরিয়া ১ বস্তা ৮শ টাকা, কীটনাশক ১১শ টাকা, জমি চাষ ও রোপন ২ হাজার টাকা, পানি সেচ ১ হাজার ৫শ টাকা এবং কাটা-মাড়াই প্রায় ২ হাজার টাকাসহ প্রায় ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা বিঘা প্রতি খরচ হয়ে থাকে। বিঘা প্রতি ফলন হয় বিঘা প্রতি ২০-২২ মন। বর্তমান বাজারে ধানের দাম ৬২০ টাকা করে। যাদের নিজস্ব জমি তাদের কিছু থাকে। কিন্তু যারা বর্গাচাষী তাদের কিছুই থাকেনা। এতে করে প্রতিবছর আমাদের লোকসান গুনতে হয়। সরকার যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে তাহলে ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে।

জেলায় চলতি মৌসুমে চাষিদের মধ্যে বোরো চাষের ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শীতের প্রকোপ কিছুটা কম থাকায় কৃষকরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে।

কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে- চলতি বোরো মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় এবার ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৫শ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের উৎপাদন বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে ব্রি-ধান ২৮, ব্রি-ধান ৫০, ব্রি-ধান ৬৫, ব্রি- ধান ৬৭, ব্রি- ধান ৫৮, ব্রি-ধান ৮১ সহ হাইব্রিড মিনিকেট ধান চাষ হচ্ছে।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিউর রহমান জানান- চলতি বছরের বোরো মৌসুমে ৪শতাধিক কৃষককে প্রনদনা কর্মসূচীর আওতায় ১ বিঘা জমি প্রতি সার, বীজ সহায়তা প্রদান এবং ৯৩ জন কৃষক/কৃষানীকে এনএডিবির আওতায় সার, বীজ বিতরণ সহ বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

কৃষকরা জানান- প্রতিবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়ে থাকে। এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। ফলে শীত এবং কুয়াশার প্রকোপ অনেক কম থাকায় বোরো ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে কম এবং চারাও সুস্থ সবল হয়েছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে তাহলে এবছরও বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

জীবননগরে ভালোবাসায় সিক্ত হলেন যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল

জীবননগর প্রতিনিধিঃ জীবননগরে রাজনৈতিক, সুধী, সাংবাদিক ও স্থানীয় সাধারণ জনগনের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন জীবননগর উপজেলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *