সর্বশেষ
Home / অপরাধ-দুর্নীতি / বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধে ছাত্র খুন (ভিডিও সহ)

বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধে ছাত্র খুন (ভিডিও সহ)

7461c8e2720e68545b040ff29633219a-16-2-চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধের জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার ছুরিকাঘাতে এক ছাত্র নিহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াসা ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে নগরের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ এবং গাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
ছুরিকাঘাতে নিহত নাসিম আহমেদ ওরফে সোহেল (২৪) বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএর ছাত্র ও চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। তাঁর বাসা নগরের শেরশাহ কলোনিতে।
ছাত্ররাজনীতিতে তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নাসিম হত্যাকাণ্ডের জন্য সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত লোকজনকে দায়ী করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ৩১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর অষ্টম সেমিস্টারের বিদায় অনুষ্ঠানের দিন ধার্য ছিল। অনুষ্ঠানে কাকে প্রধান অতিথি করা হবে, এ নিয়ে ছাত্রদের দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গতকাল সকাল থেকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের তৃতীয় তলার একটি শ্রেণিকক্ষে বিদায় অনুষ্ঠানের মহড়া চলছিল। মহড়া চলাকালে বেলা একটার দিকে ২০-২৫ জন যুবক লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। এতে চারজন গুরুতর আহত হন। আহত নাসিমকে প্রথমে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

https://www.youtube.com/watch?v=RJ3TIdmEFbE

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, নাসিমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তিনি জানান, আহত শিক্ষার্থী নোটন শীল, মোহাম্মদ আহাদ ও মোহাম্মদ ইমতিয়াজকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, নাসিমের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছুরিকাঘাত করা হয়।

নগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সালেহউদ্দিন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য একই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে সপ্তাহ তিনেক আগে ওই তিনজনের সঙ্গে নাসিমের বিরোধ দেখা দেয়।

সালেহউদ্দিন বলেন, ‘হামলাকারীরা মহিউদ্দিন ভাইয়ের (মহিউদ্দিন চৌধুরী) অনুসারী। তাঁরা বিদায় অনুষ্ঠানে মহিউদ্দিন ভাইকে প্রধান অতিথি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নাসিমেরা মেয়র নাছির ভাইকে প্রধান অতিথি করতে চান। তবে নাছির ভাই রাজি না হওয়ায় নাসিমেরা উপাচার্যকে প্রধান অতিথি হিসেবে চান। এতে ক্ষুব্ধ হয় হামলাকারীরা।’

পুলিশ জানায়, নাসিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্রকে আটক করেছে। হত্যাকাণ্ডের সময় মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধারণ করা কিছু ভিডিও ফুটেজ পুলিশ সংগ্রহ করেছে। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজ আহমেদ বলেন, ফুটেজ দেখে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে নাসিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর কিছু সহপাঠী ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা নগরের প্রবর্তক মোড়, মেহেদীবাগ, ওয়াসা, আগ্রাবাদ, সিমেন্ট ক্রসিং, বাকলিয়া, নিউমার্কেট মোড়, কাস্টমস মোড়, হালিশহরের বড়পুল ও চেরাগী পাহাড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। এতে গোটা নগরে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রবর্তক মোড়, মেহেদীবাগ ও ওয়াসা এলাকায় গাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা প্রবর্তক মোড়ে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। এ সময় থেমে থেমে বিভিন্ন জায়গায় ককটেলের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার মধ্যে সব জায়গা থেকে সরে যান অবরোধকারীরা।

অবরোধের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। অবরোধ ও ভাঙচুরের কারণে কয়েকটি এলাকায় দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ ছিল।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শফিক চৌধুরী বলেন, ‘স্ত্রীকে নিয়ে মেহেদীবাগে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিলাম। ৩০-৩৫ জন ছেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে মেহেদীবাগে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় পুলিশকে অসহায়ের মতো দেখা যাচ্ছিল।’

উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্র খুনের ঘটনায় দুপুর থেকে বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। দু-একটি গাড়িও ভাঙচুর হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। সন্ধ্যার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।’

এদিকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।

ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আহমেদ রাজীব চৌধুরীকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনুপম সেন বলেন, ‘বিদায় অনুষ্ঠানে কর্তৃত্ব নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বিবিএ ফ্যাকাল্টিতে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ লেগে আছে। ওরা সবাই নেতা হতে চায়। আমাদের অন্য ফ্যাকাল্টিতে এসব সমস্যা নেই।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্র খুনের ঘটনায় নগরের কিছু এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে রাখা হয়েছে বলে আমি শুনেছি। এ ছাড়া ভাঙচুরও চলেছে। কিন্তু আমার ছাত্ররা এসবে নেই। বাইরের লোকজন এসব করছে। এই খুনের ঘটনায় পলিটিক্যাল কালারও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই খুনের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।’

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নাসিমের লাশ দেখতে গিয়ে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কিছুদিন ধরে একটি মহল রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করে আসছে। তারা দলের নীতি-আদর্শ ধারণ করে না। দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়ার জন্য নাসিম আমার কাছে এসেছিল। আমার আরেকটি অনুষ্ঠান থাকায় ওই অনুষ্ঠানে যাওয়া সম্ভব নয় বলে তাদের জানাই।’

জানতে চাইলে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুষ্ঠানে এক বছর ধরে আমি যাচ্ছি না। সেখানে যাওয়ারও দরকার কী?’ তিনি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার হাতে গড়া। প্রতিটি শিক্ষার্থী আমার সন্তানের মতো। কিন্তু তুচ্ছ ঘটনায় একজন ছেলেকে খুন করা মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে জি আর মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী আটক

মেহেদী হাসান মিলন:চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই আসাদুর রহমান আসাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *