সর্বশেষ
Home / জাতীয় / পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান খালেদার

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান খালেদার

911276মিয়ানমারের সহিংসতায় অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে এই জনগোষ্ঠীর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়া আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান।

খালেদা জিয়া বলেন, জীবন ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা পুরুষ-নারী-শিশুদের বাংলাদেশে আশ্রয় এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমি দায়িত্বরত বাংলাদেশের প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপি নেত্রীর দাবি, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার অমনোযোগী এবং দুর্বল কুটনৈতিক তৎপরতার কারণেই পরিস্থিতি শোচনীয় রূপ ধারণ করেছে। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি। গত বুধবার মিয়ানমারে রোজিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। আর এরপর দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের দিকে ছুটে আসছে।

তাদেরকে বাংলাদেশে ঠেলে দিতে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের ওপর গুলি করছে বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। খালেদা জিয়া বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-রোহিঙ্গাদের জীবন ও বসবাসের নিরাপত্তা বিধান এবং তাদের ওপর রক্তাক্ত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকার প্রাজ্ঞ ও দুরদর্শী নীতি নিয়ে অগ্রসর হবে। বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় সে দেশের রোহিঙ্গাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে অসংখ্য মানুষ হতাহতের ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এটির নিন্দা জানাচ্ছি। রোহিঙ্গারা বসতবাটি, সহায় সম্বল হারিয়ে প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সীমান্তগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে।

রাখাইন রাজ্যে গ্রামের পর গ্রামে আগুন জ্বলছে। প্রাণভয়ে রোহিঙ্গারা দিকবিদিক ছুটে বেড়াচ্ছে, গহীন অরণ্যে ঢুকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছে। আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের ওপরও মায়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনী অবিরাম গুলিবর্ষণ করে যে নারকীয় পরিবেশ তৈরি করেছে তা বর্ণনাতীত। গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত রোহিঙ্গা যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসতে সক্ষম হয়েছে তাদের অনেকেই হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এবং কারো কারো মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার এলাকায় রোহিঙ্গা পুরুষ-নারী-শিশুরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নাফ নদীর বিস্তৃত এলাকা জুড়ে তীরে বসে ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তায় প্রহর গুণছে। এই দৃশ্য অমানবিক, বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পর্কে কথা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, আবহমানকাল ধরে দু’দেশের সম্পর্ক সমমর্যাদায় অভিষিক্ত। আমি বিশ্বাস করি-সমমর্যাদার এই ঐতিহ্যকে সম্মান দেখিয়ে মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা সমাধানহীন একটি অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে নিপতিত থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্রমাগতভাবে অবনতিশীল হতে থাকবে এবং এতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ঐতিহ্যগত স্থিতিশীলতায় বিরুপ প্রভাব ফেলবে বলেও আশঙ্কা করেন খালেদা জিয়া।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

Jhenidah arrest Photo 09-02-18

ঝিনাইদহে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৫৩

ঝিনাইদহ সংবাদদাতাঃ খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতার অভিযোগে ঝিনাইদহে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৫৩ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *