সর্বশেষ
Home / ধর্ম ও জীবন / নরমাল ডেলিভারির কিছু পরামর্শ

নরমাল ডেলিভারির কিছু পরামর্শ

হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আল মাহমুদ: নরমাল ডেলিভারির কিছু পরামর্শ– প্রথমেই বলে রাখি আমি কোন ডাক্তার নই।বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতি-পারিপার্শ্বিক অবস্থা, কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা,কিছু বাস্তবতা, কুরআন সুন্নাহ ও ফকীহগণের মতামতের আলোকে সামান্য কিছু আলোচনা করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ! সর্বপ্রথম কথা হল নরমাল ডেলিভারি যত ভীতিকর বা কষ্টকর অথবা ঝুঁকিপূর্ণ হোক এটিই একমাত্র স্বাভাবিক পন্থা।

 

আল্লাহ তায়ালা মানবসহ আরও কিছু প্রাণী দুনিয়াতে আসার জন্য এ পন্থা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আবার একান্ত অনোন্যপায় হলে সিজারিয়ান পদ্ধতি গ্রহণের বুদ্ধিও দিয়েছেন।অবশ্য আল্লাহ তাআলা কিছু প্রাণীর দুনিয়াতে আসার মাধ্যম দিয়েছেন সিজারিয়ান পদ্ধতি।যেমন মুরগীর জন্ম। তো আমরা সবাই চাই আমাদের সন্তান যেন সুস্থ সবল ও স্বাভাবিকরূপে এ ধারায় আগমণ করে।এর পাশাপাশি সন্তানের মাও যেন সুস্থ থাকেন। এক্ষেত্রে আমাদের সর্বপ্রথম করনীয় হল সুস্থ স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে সন্তান যেন দুনিয়াতে আসতে পারে এরই সাথে সাথে মাও যেন সুস্থ থাকে তাই আল্লাহ তাআলার দরবারে কায়মনোবাক্যে দুআ করতে থাকা।

 

বেশি বেশি رب يسر ولا تعسر وتمم علينا بالخير পড়তে থাকা। → সর্বপ্রথম নিজেকে সাহসী ও দৃঢ় মনোবল সম্পন্ন হতে হবে। অল্পতেই ভেঙে পড়লে চলবে না। →একান্ত প্রয়োজন না হলে অহেতুক ডাক্তারের কাছে না যাওয়া।অনেক সময় সামান্য কিছু সমস্যা হলেই আমরা ডাক্তারের কাছে চলে যাই।আর কিছু অসাধু ডাক্তার এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিজারিয়ান পদ্ধতি গ্রহণ করতে বাধ্য করে।

 

→ সব থেকে ভালো হয় অভিজ্ঞ কোন দীনদার ডাক্তারের সাথে সার্বক্ষণিক পরামর্শ করে চলা। →বাচ্চা পেটে আসার ৩/৪মাস বয়স থেকে নরমাল ডেলিভারীর জন্য হোমিও ওষুধ খাওয়া যায়।এর উপকারীতা পরিক্ষিত।

 

→ একটা বাচ্চা মায়ের গর্ভের সর্বনিম্ন সময়সীমা হল ৬মাস। অর্থাত একটি বাচ্চা তার মায়ের পেটে সর্বনিম্ন ৬মাস পর্যন্ত অবস্থান করতে পারে।এর নিচে কোন বাচ্চা প্রসব হতে পারে না।সূরা আহকাফের ১৫নং আয়াতের এ অংশ وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا থেকে সাহাবায়ে কেরাম ও মুফাসসিরগণ এবং সকল উলামায়ে কেরাম একথায় একমত পোষণ করেন যে, গর্ভের সর্বনিম্ন সময়সীমা হল ৬মাস।(দেখুন তাফসীরে ইবনে কাসীর, ৭/২৫৮; তাফসীরে মাযহারী, বাংলা সংস্করণ ১০/৫৭৮;এছাড়াও বায়হাকীর সুনানে কুবরায়, ১৫৫৪৮থেকে ১৫৫৫১পর্যন্ত হাদীসগুলি এসংক্রান্ত।)

 

আর গর্ভধারনের সর্বোচ্চ সময়সীমা ২৪মাস তথা ২বছর। অর্থাত একটি বাচ্চা তার মায়ের পেটে সর্বোচ্চ ২বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।যদিও ৯মাসে পর সর্বোচ্চ কতদিন বাচ্চা পেটে থাকতে পারে এ নিয়ে উলামায়ে কেরামের মাঝে মতভিন্নতা আছে। তবে ৯মাসের পরেও যে থাকতে পারে এ নিয়ে কোন মতবিরোধ নেই।(দেখুন, উপরে উল্লিখিত সূরা আহকাফের ১৫নং আয়াতাংশের তাফসীর)। এটি হাদীস ও ইতিহাস দ্বারাও প্রমাণিত।

হযরত আয়েশা রাঃ বর্ণনা করেন: الولد لا يبقى في البطن أكثر من سنتين، ولو بظل مغزل গর্ভে সন্তান দুই বছরের অধিক এক মুহুর্তের জন্যও অবস্থান করতে পারে না।যদিও ঘূর্ণিত চরকির ছায়া পরিমাণ হয়। (নাসবুর রায়া,৩/২৬৪;একই অর্থে আরো হাদীস দেখুন সূনানে দারা কুতনী, হাদীস নং ৩৮৭৫;সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস নং ১৫৫৫২)।

 

চার মাযহাবের অন্যতম ইমাম ইমামু দারিল হিজরাহ ইমাম মালেক বিন আনাস রহঃ তার মায়ের গর্ভে ২বছর মতান্তরে ৩বছর ছিলেন। قال معن، والواقدي، ومحمد بن الضحاك: حملت أم مالك بمالك ثلاث سنين وعن الواقدي، قال: حملت به سنتين

(দেখুন,ইমাম শামসুদ্দীন যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা,মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে প্রকাশিত ৮/৫৫)। তাই ডাক্তারের দেয়া নির্ধারিত সময় বা নিজের হিসেবে প্রসবের সময় হয়ে গেছে তবুও ওই নির্ধারিত সময়ে যদি প্রসব বেদনা না হয় বা বাচ্চা না হয় তবে বিচলিত হবার কোনই কারণ নেই।

 

কারণ এখনও অনেক সময় আছে।এক্ষেত্রে আমরা অসাধু ডাক্তারদের থেকে যে প্রতারণার শিকার হই তা হল ডাক্তাররা নির্ধারিত সময়ের আগেই একটি সময় নির্ধারণ করে দেন।আর রোগীও ওই সময় না হলে ডাক্তারের কাছে ছুটে যান।আর ডাক্তার এ সুযোগের অপেক্ষাতেই থাকেন।এবং এর পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন।এমনিভাবে নিজের হিসেব অনুযায়ী ১০মাস (মূলত পেটে বাচ্চা ৯মাস থাকে। ১০মাস নয়।এটি হিসেবের ভুল। গর্ভের সর্বনিম্ন সময়সীমা সম্পর্কিত হাদীসে ৯মাসের কথা আছে ১০মাসের নয়) পূর্ণ হয়ে গেলেও বাচ্চা না হলে ধৈর্য্য ধারণ করা। নিরাপদ ও সহজতার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করতে থাকা।

 

→একেবারেই বিশ্রামে থাকা উচিত নয়।কিছু কাজ কর্মও করা উচিত।আমাদের দাদী-নানীরা কিন্তু বাচ্চা পেটে ধারণ করে অনেক কঠিন কঠিন কাজ করত।তবুও আলহামদুলিল্লাহ তাদের সন্তানও হয়েছে অনেক বেশি এবং সুস্থ।

 

→ পেইন ওঠার পর সামান্য চেষ্টা করেই অপারশনের জন্য ব্যতিব্যস্ত না হয়ে পড়া।প্রসববেদনা ১২ঘন্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।সেক্ষেত্রে প্রথম ৮ঘন্টা নির্বিঘ্নে নরমালের জন্য চেষ্টা করা যায়।পরবর্তী ৪ঘন্টায় অপারশনের চিন্তা করা যায়।

 

→বেশি বেশি পানি পানও নরমাল ডেলিভারির জন্য উপকারী।

 

→শুধুমাত্র বাচ্চার জেন্ডার জানার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো বা সামান্য সমস্যার জন্য আল্ট্রাসনো করানো কিছুতেই উচিত নয়।যত বেশি সম্ভত এসব থেকে দূরে থাকা উচিত। এবিষয়গুলি ফলো করলে ইনশাআল্লাহ আমাদের সিজারিয়ান পদ্ধতি ছাড়াই আমাদের সন্তান-সন্ততিরা দুনিয়ার মুখ দেখবে।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

আন্দুলবাড়ীয়ায় নব-নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান-মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এলাকাবাসীর ভালোবাসা ও ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত

আন্দুলবাড়ীয়া প্রতিনিধি: সদ্য অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনত্তোর জীবননগর উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *