সর্বশেষ
Home / শিক্ষা / ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া জবির শিক্ষক আশার ভালবাসায় ছিল সংগীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া জবির শিক্ষক আশার ভালবাসায় ছিল সংগীত

p 1আসলাম হোসেন জবি: রবিনসন ক্রুসো হতে চেয়ে ছিলেন নাবিক, কিন্তু বাবা মায়ের ইচ্ছে ছিল সে আইন পেশায় নিযুক্ত হোক। ক্রুসোর প্রবল টান ছিল সাগর যাত্রার প্রতি। মনের ভালোলাগা আর ইচ্ছের জোরে একদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে যান স্বপ্ন পূরণ করতে।

বগুড়ার মেয়ে আশা সরকারকে অবশ্য গৃহ ছাড়তে হয়নি, প্রবল মনোবল আর ভাগ্যের সহায়তায় সংগীতে আঁকড়ে ধরতে পেরেছেন। ক্রুসো আর আশার মিলটা এখানেই, কারণ ডাক্তারি পেশা নির্ধারিত হয়েছিল বাবা মায়ের তরফ থেকে যদিও কাটাছেড়ায় দারুন ভীতি তার। ছোটবেলা থেকে গানের চর্চা, নাচও শিখেছি পারিবারিক ভাবেই। সেই যে ভালোবাসা গানের প্রতি, সারাজীবন তার পিছুটান ছাড়তে পারিনা। এই ভাবেই মনে কথা গুলো বলছিলেন এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া জবির সংগীত বিভাগের শিক্ষক আশা সরকার ।

২০০৭ সালে এসএসসি পরীক্ষাতে বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ ও ২০০৯ এইচএসসি পরীক্ষাতে বগুড়ার সরকারি আযিযুল হক কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৮০ পান আশা।

আশার ভরসা ছিল সংগীতে, এরপর ইচ্ছা না থাকলেও মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দেন। একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘ঘ’ইউনিটে ১,২৩৬তম স্থান অর্জন করেন। অন্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েও তিনি ভর্তি হন স্বপ্নের বিভাগ সংগীতে। ইতিহাস বোধয় ওখান থেকেই নতুন করে লেখা শুরু। এরপর একেরপর এক সাফল্যের ঝুলি নিজের কোলে তুলে নিয়েছেন পরম ভালোবাসায় । তিনি মনে করেন যেখানে মানুষের শেষ সেখানেই নাকি সৃস্টিকর্তার শুরু।

তাই ভর্তি হয়েই থেমে থাকেননি আশা। লক্ষ্য ঠিক করে এগিয়ে যান তিনি। প্রথম সেমিস্টারে তাঁর ব্যাচের মধ্যে সর্বোচ্চ সিজিপিএ ৩.৮১  পান। প্রথম সেমিস্টারে প্রথম হওয়ার পর তাঁর আগ্রহটা আরো বেড়ে যায়, তার মধ্যে একটা সাহস চলে আসে। আর পাশে থেকে উৎসাহ দিয়েছেন আশার বড় ভাই। তাঁর বড় ভাই বলতেন, যেদিকে ইচ্ছা ও আগ্রহ সেদিকেই যাওয়া উচিত, যে বিষয় নিয়েই পড়া উচিত যাতে ভালো কিছু করা যায়।

শুধু ভালো ফলাফলেই নয়, সংগীতের নিপুন দক্ষতায় মাতিয়েছেন মঞ্চ, টেলিভিশন আর ঘরোয়া অনুষ্ঠান। ভালোবাসা নজরুল সংগীতে ছিল বেশি তাইতো তিনি নজরুল সংগীত যেখানে গাইতেন প্রথম ছাড়া দিতীয় কখনো হওয়ার কথা তিনি স্মরণ করতে পারেন না

এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্বও করেছেন আশা। ২০১৫ সালে ভারতের দিল্লিতে ‘ইয়ুথ ডেলিগেশন’ প্রোগামে বাংলাদেশ থেকে ১০০ জনের একটি প্রতিনিধিদল যায়। যেখানে আশা তাঁর সংগীত বিভাগকে প্রতিনিধিত্ব করেন। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখাজির নিমন্ত্রণে তাঁরা রাষ্ট্রপতির ভবনে যান। এটা তাঁর জীবনের বড় একটা অর্জন বলে জানান তিনি।

আশা বললেন, তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিশ্রম আর জানার আগ্রহ। ভালো ফলাফল করার জন্য পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগীতটাকে ভালোবেসে শেখা উচিত, জোর করে নয়।

উল্লেখ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর দেওয়া হয় এই ডিনস অ্যাওয়ার্ড।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

20171215_114433

দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গা- কুড়ালগাছির ৪টি পাকা সড়কের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এমপি

মিরাজুল ইসলাম মিরাজ:দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা -কুড়ুলগাছির ৪টি সড়কের রাস্তার নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *