সর্বশেষ
Home / অপরাধ-দুর্নীতি / জীবননগর পৌর শহরে মাদকের আকড়া: ধংসের মূখে যুব সমাজ

জীবননগর পৌর শহরে মাদকের আকড়া: ধংসের মূখে যুব সমাজ

3_21জীবননগর অফিস: জীবননগর পৌর শহরে রাতারাতি ছাতার মত জাকিয়ে বেেসছে মাদকের আড্ডা। এই সব আকড়ায় নেশার জন্য ভীড় জমাচ্ছে এলাকার উঠতি বয়সের তরুন এবং যুবকেরা।মাদকের নীল ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ। প্রশাসনের নাকের ডগার উপরে এই কারবার চললেও তারা চোখ বুজে আছে। ফলে মাদকের করাল গ্রাস বেশ ভালোমত দখলে নিয়েছে যুবসমাজকে। তবে অভিযোগরয়েছে টাকার কাছে প্রশাসন বিক্রি হয়ে গেছে। এপ্রশাসনকে এভাবে কিনতে পারায় কারনে এখন বিক্রেতারা ফ্রিস্টাইলে তাদের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে মাদকসেবীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর শহরের মকছেদ মার্কেটের চাঁকা পট্টি এখন মাদকের স্বর্গরাজ্য। এখানে দিনের বেলা বসে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পন্যের পশরা। এলাকার বিভিন্ন গ্রাম হাটবাজার থেকে পাইকাররা এসে এসব মালামাল কিনে নিয়ে যান। কেউবা ফেরি করে এই সব মালামাল গ্রামে গ্রামে বিক্রি করে থাকেন। দিনের বেলা এখানে এলে সহজে কেউ বুঝতে পারবেন না উপজেলার সেরা মাদকের হাট এইটি। খেলনা প্লাস্টিকের আড়ালে মাদক বিচিকিনির কারবার চলে। এখান থেকে মালকেনার নামে দেদারচ্ছে মাদক বিক্রি হচ্ছে। আর এইসব মাদক ছড়িয়ে যাচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামঅঞ্চলে। এত গেল দিনের কেচ্ছা। আর রাতের কেচ্ছা আরো ভয়াবহ। সাঁজবেলা থেকেই শুরু হয় মাদকের বেচিকিনি। এলাকার উঠতি মস্তান থেকে শুরু করে সাধারণ ঘরের ছেলেরা মাদকের জন্য ভীড় জমায়। সেই গানের মত, এক টানেতে যেমন তেমন দু টানেতে মজা/ তিন টানেতে উজির নাজির , চার টানেতে রাজা/ মজা দেখাব নাকি…… সেই মজা যদি দেখতে চান তাহলে এই মার্কেটে সন্ধ্যার পর চলে আসুন।
চাঁকা পট্টির কাহিনী শেষ হলো এবারে শুনুন মুরগি বাজার,কাচা বাজারের কাহিনী। এখানকার দীর্ঘদিনের বার হিসাবে পরিচিত স্বপনের বার এখন শাখা বিস্তার করে বহু বারে পনিত হয়েছে। তার পথ ধরে নাম লিখিয়েছে সুশান্ত শাহ,নির্মল,জয়,মাধব,বিপ্লবসহ বেশ কয়েক জন। যারা এলাকায় কমবেশি প্রভাবশালী। তবে বেশি লাভের আশায় এরা এখন মাদক বিকিকিনিতে বেশি উৎসাহী। মদসেবনের জন্য একসময় লাইসেন্স দিত আবগারী বিভাগ। এই লাইসেন্সে ইসু ্যহতো সুইপারদের নামে। তবে সুইপাররা ক্রেতা হিসাবে কাগজে কলমে থাকলেও অনেক ভদ্রবেশিরা তা থেকে মদ্যপানের সুযোগ নিতেন। বর্তমানে সে সময় অতীত। এখন বেশি লাভের জন্য আবগারী ব্যাবসায়ীরা তরল মদের পরিবর্তে মাদক বিক্রিতে বেশি আগ্রহী। অর্থাৎ প্রতিটি মদের দোকান এখন ইয়াবা,ড্রাগ ,ফেন্সি এবং নাম না জানা বিভিন্ন ধরনের মাদকের আকড়া। মাদকের সহজলভ্যতা এবং তা বিক্রিতে কোন বাধা না থাকায় উঠতি বয়সের যুবকরা জাহান্নামের দিকে এগিয়ে চললেও প্রশাসনের কোন মাথাব্যথা নেই।
তবে কয়েকদিন আগে হঠাৎই দৃশ্যপট বদলে যায়। খবর আসে কে বা কারা মাদকের বিরুদ্ধে লিখিত আবেদন করেছে। এই সংবাদ পেয়ে মাদকের কারবারীরা একটু নড়েচড়ে বসে। লোক দেখানোর মত তারা অবস্থান বদলায়। মাদক ব্যবসায়ী স্বপন দোকানটি সরিয়ে তা আবার বার হিসাবে চালু করে। তবে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে মাদক ব্যবসায়ী জয় মুরগি বাজারে মাদকের রাজ্য গড়ে তোলে। এদিকে মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্য মাদক বিক্রি করলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারন মানুষ হতবাক ।
মাদকের বিষয়ে প্রশাসনের আবার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। গ্রামের একজন তাড়ি খোর শহর ছেড়ে বাইরে তাড়ি খেলেই তাকে পুলিশ আর প্রশাসনের কর্মকর্তারা আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মুখোমূখি করে। সেখানে তার শাস্তির ব্যবস্থা হয়। নগদ টাকা বা জেল জরিমানা। কিন্তু প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হলেও প্রশাসন তা এড়িয়ে চলায় নানা ধরনের মূখরোচক সংবাদ এলাকায় চাউর হচ্ছে।
সচেতন মহল মাদকের এই ছোবল থেকে এলাকার যুব সমাজকে বাচাঁতে প্রশাসন বরাবরে স্মারকলিপিও দিয়েছে। কিন্তু তাতে কোন সাড়া মেলেনি। সাময়িক কয়েক দিন বিক্রি একটু লুকোচুরিতে চললেও আবার দিন বাড়ার সাথে সাথে তা খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে যুব সমাজকে রক্ষা করার আকূল আবেদন জানানো হলেও কোন ইতিবাচক ফলাফল এলাকাবাসী প্রত্যক্ষ করেনি। তাই এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসা, কার কাছে গেলে আমাদের ভবিষৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা যাবে ?

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

চুয়াডাঙ্গায় এডাব আয়োজনে সম-নাগরিকত্ব শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

রিফাত রহমান :বাংলাদেশে কর্মরত বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সমুহের সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান এডাব চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আয়োজনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *