সর্বশেষ
Home / বিশেষ সংবাদ / জীবননগর দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভা; সিটি কর্পোরেশনকেও টেক্কা দিচ্ছে

জীবননগর দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভা; সিটি কর্পোরেশনকেও টেক্কা দিচ্ছে

-Alomকামাল সিদ্দিকী: জীবননগর পৌরসভা মূলত দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভা। জননিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, শহর পরিস্কারের জন্য ডাস্টবিন, আর পথের ধারে শোভা পাচ্ছে ঢাকার আদলে বিন। মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের দক্ষতায় এসব সম্ভব হয়েছে। মেয়রের নেওয়া এসব নাগরিক সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন আমাদের প্রতিনিধি মারুফ মালেক।
দেশের মধ্যে সবচেয়ে ছোট উপজেলা জীবননগর। আবার এই উপজেলাটি বিগত ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৯টি ওয়ার্ড সমন্বয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ১৫০০০ বর্গ কিঃ মিঃ লোক সংখ্যা ২৫৫১২ প্রথম দিকে প্রশাসক দিয়ে পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদাধিকার বলে প্রশাসক নিযুক্ত হন। এরপর নির্বাচন হলে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। কিন্তু দলটির উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মরহুম মতিয়ার রহমান দলের সিন্ধান্তের বাইরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন ও বিজয়ী হন। মতিয়ার রহমান প্রথম পৌর পিতা। এরপর তিনি দল ত্যাগ করে আওয়ামীলীগে যোগদেন। দূর্ভাগ্য তিনি তার মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে ইন্তেকাল করেন। এসময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মোফাজ্জেল হোসেন খোকন। এরপর মধ্যবর্তী নির্বাচনে আশরাফুল হক চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। আশরাফুল হকের মেয়াদ শেষে বিএনপির উপজেলা শাখার সভাপতি হাজী নোয়াবআলী  নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন। দ্বিতীয় বারেও তিনি নির্বাচিত হলে পৌরসভার ইতিহাসে এই প্রথম কেউ পরপর মেয়র পদে দায়িত্বে থাকেন। তৃতীয় মেয়দেও তিনি প্রতিদ্বন্দিতা করেন। কিন্তু স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন। যদিও জাহাঙ্গীর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তার পরেও তার ভাগ্যে দলীয় মনোনয়ন জোটেনী। তিনি নারকেল গাছ প্রতীকে নৌকা এবং ধানের শীষের ভরাডুবি ঘটান । তিনি দলীয় পরিচয় বাদেও সকল শ্রেণীর কাছে নিজেকে গ্রহনযোগ্য করে তোলেন।
তার চৌকষ এবং দুরদর্শিতার কারনে জীবননগর পৌরসভা এখন মডেল পৌরসভায় রুপ পেতে চলেছে। নাগরিক সুবিধার দিকে লক্ষ রেখে সারা শহরকে সিসি ক্যামেরা নেটওয়ার্কের আওতায় এনেছেন। ফলে ছোট খাটো অপরাধ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে। এই প্রযুক্তি চালু করায় স্থানীয় এবং বহিরাগত অপরাধীরা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছে। যদিও এই প্রকল্পটি রাজধানী ঢাকা সিটির আগেই বাস্তবায়ন করায় নগরবাসি স্বস্তিতে রয়েছেন। এই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ মনিটরিংয়ের জন্য জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ঢাকা শহরে যেমন রাস্তার ধারে বিন বসানো হয়েছে, তারই আদলে জীবননগরেও বিন বসানোর কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে শ‘খানেক বিন নিদৃষ্ট স্থানে বসানোর কাজ চলছে। আরও বিন তৈরীর কথা জানালেন, মেয়র নিজেই। শহর পরিস্কার রাখার জন্য এই বিনের ব্যবহারে জনগণকে উদ্ভুদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন মেয়র নিজেই।
সেদিন কথা হয়, মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সাথে। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম তিনি কি ভাবে এতো বড় ঝুকি নিলেন? আরও জানতে চাওয়া হয় এ সবই কি তার নির্বাচনী ওয়াদা?
মি. জাহাঙ্গীর জানালেন, আমি নির্বাচন করার আগেই নিজেকে প্রস্তুত করেছি। নির্বাচিত হলে পৌরবাসির কি কি নাগরিক সুবিধা দিতে হবে। এজন্য আমি পৌরবাসীর সুবিধা অসুবিধা দেখতে মানুষের কাছে গিয়েছি। তাদের কথা মন দিয়ে শুনেছি। দল ক্ষমতায় থাকায় তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। এবিষয়ে আমাকে সার্বিক সহযোগিতা এবং সমর্থন দিয়েছেন, স্থানীয় সাংসদ গণমানুষের নেতা হাজী আলী আজগর টগর। যার অনুপ্রেরনায় আমি জীবননগর পৌরসভাকে মডেল পৌরসভা হিসাবে গড়ে তোলার কাজে উৎসাহ পাচ্ছি। নির্বাচন কালীন সময়ে আপনারা দেখেছেন, বিপুল জনসমর্থন এবং জনপ্রিয়তা থাকা সত্বেও আমি দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হই। কারা এর পিছনে কলকাঠি নেড়েছেন তা আপনারা জানেন। এনিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। বা আমার কোন অভিযোগও নেই। তবে এলাকাবাসীর চাপে এবং ভালোবাসায় আমি নির্বাচনে দাড়াতে বাধ্য হই। অবশ্য দলের একটি বৃহত্তর অংশ আমাকে সমর্থন যোগান। আমি দলমত নির্বিশেষে সবার ভোট পেয়েছি। ভোটের ফলাফল সেটাই প্রমান করে। আর এই জয়লাভ আমাকে নতুন শক্তি দেয়। আমি সিন্ধান্ত নেই, এই পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভায় রুপ দেব। আর আমার এই কাজের অনুপ্রেরণা এবং সাহস যুগিয়েছেন মাননীয় সাংসদ হাজী আলী আজগর টগর।
এভাবে এক বছরের মধ্যে আমি পুরো শহরটাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। পৌরবাসী এখন অনেকটাই নিরাপদ। যদিও নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসনের আওতাভুক্ত কিন্তু আমার এই কার্যক্রম তাদের কাজকে অনেকটাই সহজ করেছে।
পরিছন্ন শহর নিয়েও কথা হয় মেয়র জাহাঙ্গীরের সাথে। তিনি আমাকে জানালেন, নাগরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিছন্ন শহর গড়ে তোলাও তার লক্ষ্য। মেয়র বললেন, বাসা বাড়ির বর্জ্য ফেলার জন্যে আমি বেশ কিছু ডাস্টবিন তৈরী করে দিয়েছি। এখানে জমানো বর্জ্য সকালে তুলে নেবার জন্যে জনবল নিয়োগ দিয়েছি। তারা গাড়ী করে এসব বর্জ্য শহরের বাইরে নিয়ে পুড়িয়ে ফেলেন। বাসা বাড়ির বর্জ্য সমস্যা সমাধানের পর নজর দিয়েছি চলমান পথিকদের ফেলা বর্জ্য কি ভাবে নিয়ন্ত্রন করা যায়। আমি এলক্ষে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিন বসানোর প্রকল্প হাতে নিই। এরই মধ্যে বেশ কিছু বিন তৈরী করে তা ব্যবহার উপযোগি করে তোলা হয়েছে। এই সুবিধা শুধু মাত্র ঢাকা সিটিতেই রয়েছে।
এভাবে মেয়র জাহাঙ্গীর নগরবাসীকে নিয়ে তার সপ্নের কথা জানালেন। মেয়রের কর্মদক্ষতা এবং পরিকল্পনায় জীবননগর যে আধুনিক নাগরিক সুবিধা সম্মত শহর হিসাবে গড়ে উঠবে সে আশা অমূলক নয়।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

আন্দুলবাড়ীয়ায় নব-নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান-মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এলাকাবাসীর ভালোবাসা ও ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত

আন্দুলবাড়ীয়া প্রতিনিধি: সদ্য অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনত্তোর জীবননগর উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *