সর্বশেষ
Home / শিক্ষা / জীবননগর কলেজের প্রিন্সিপালের কাছ থেকে হাজিরা খাতা ছিনিয়ে নিলেন প্রভাষক জাকিয়া ইয়াসমিন

জীবননগর কলেজের প্রিন্সিপালের কাছ থেকে হাজিরা খাতা ছিনিয়ে নিলেন প্রভাষক জাকিয়া ইয়াসমিন

জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রিন্সিপালের নিকট থেকে শনিবার সকালে শিক্ষকদের হাজিরা খাতা কলেজের আলোচিত প্রভাষক জাকিয়া ইয়াসমিন ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় কলেজ পাড়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এ দিকে ঘটনার ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাৎক্ষণিক ভাবে কলেজ পরিদর্শনে যান এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষকের অনিয়মিত ভাবে কলেজে হাজিরা ও একাধিক স্থানে চাকুরির খবর জানতে পারেন। ইউএনও সেলিম রেজা সৃষ্ট ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সব সমস্যার সমাধান আগামী ১৫ দিনের মধ্যে করতে প্রিন্সিপালকে নির্দেশ প্রদান করেন। সরজমিনে জানা যায়,জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের সমস্ত শিক্ষকেরা মিলে গত বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করতে যান। কিন্তু কলেজের প্রভাষক জাকিয়া ওই দিন সকালে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে কলেজে পৌছানোর কারণে তাকে রেখেই প্রিন্সিপাল কলেজের অন্যান্য শিক্ষকদেরকে নিয়ে রওনা হয়ে যান।

এ ঘটনায় প্রভাষক জাকিয়া তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে। এ অবস্থায় শনিবার সকালে জাকিয়া নির্ধারিত সময়ের আগেই কলেজে পৌছান এবং প্রিন্সিপাল অফিস খোলার সাথে সাথে জাকিয়া হাজিরা খাতায় তার নাম সাক্ষরের পর হাজিরা খাতাটি প্রিন্সিপালের নিকট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাতে আর কাউকে হাজিরা খাতায় সাক্ষর দেয় না। ফলে অন্য শিক্ষকরা পড়েন বিপাকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন অসহায় হয়ে পড়েন। ঘটনার কোন কুল কিনারা করতে না পেরে ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজাকে জানানো হয়। ইউএনও সেলিম রেজা সেখানে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। ঘটনার এক পর্যায়ে কোঁচো তুলতে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসার মত ঘটনা ঘটে।

ইউএনও মহোদয় জানতে পারেন কলেজের বেশ কিছু শিক্ষক কলেজে নিয়মিত হাজিরা না দিয়ে ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে থাকেন। আবার বেশ কয়েকজন শিক্ষক একাধিক স্থানে চাকুরি করেন। প্রভাষক জাকিয়া ইয়াসমিন বলেন,পরিকল্পিত ভাবে কয়েকজন শিক্ষক বৃহস্পতিবার আমাকে টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যেতে চায়নি। যে কারণে মাত্র পাঁচ মিনিটের বিলম্ব হওয়ায় আমাকে রেখে যায় জাতির জনকের কবর জিয়ারত করতে চলে যায়। আমি হাজিরা খাতা কেড়ে নিয়েছি ঠিক। তবে আমার দাবি ছিল সেদিন আমার পাঁচ মিনিট বিলম্ব মেনে নেয়া হয়নি,তাহলে আজ যারা দেরীতে কলেজে আসবে তাদেরকে সই করতে দেয়া হবে না। কিন্তু প্রিন্সিপাল বলেন,আমি ১৮ বছর ধরে কলেজ চালাচ্ছি আমাকে সে ভাবে চালাতে দেন। আমি বলি তা হবে না।

আমাদের এমপি সাহেবের শ্যালিকা প্রভাষক পাপিয়া সারমিন ইতি দুই-তিন পর পর কলেজে আসে এবং হাজিরা খাতায় সই করার পর ১৫-২০ মিনিট কলেজে অবস্থানের পর আবার চলে যান। তারা কলেজে আসল কি আসল না সেটা কোন ব্যাপার নয় আমরা একটু দেরী করলেই যত দোষ। প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন বলেন,আমি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। কিন্তু প্রভাষক জাকিয়া তা অমান্য করে জোর করেই আমার নিকট থেকে হাজিরা খাতা কেড়ে নিয়ে সবাইকে খাতায় সই করা থেকে বিরত রাখেন। আমি বার বার তাকে হাজিরা খাতা ফেরত দেয়ার কথা বললেও তা ফেরত দেয় না। ফলে বাধ্য হয়েই ইউএনও স্যারকে বিষয়টি জানাতে হয়েছে।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,বিবাদমান ব্যাপারটি নিস্পত্তি করা হয়েছে। কলেজের কয়েজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকুরির অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে কিছু শিক্ষক অনিয়মিত হাজিরা দিয়ে থাকেন। উত্থাপিত অভিযোগের ব্যাপারে কলেজ প্রিন্সিপালকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দের্শ প্রদান করা হয়েছে।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

ঝিনাইদহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২জন নিহত আহত একজন

ঝিনাইদহ সংবাদদাতাঃ ঝিনাইদহে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু ঘটেছে। আহত হয়েছে একজন। সোমবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *