সর্বশেষ
Home / অপরাধ-দুর্নীতি / জীবননগরে ভেজাল গুড়ে বাজার ছয়লাব

জীবননগরে ভেজাল গুড়ে বাজার ছয়লাব

Chuadanga Kajur Gur (4)মারুফ মালেক: চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানা এলাকায় প্রকৃতিগত ভাবেই জন্ম নিত খেজুর গাছ। হাজারে হাজারে খেজুর গাছ এবং শত শত গাছি থাকায়, রস এবং গুড় দু‘ই ছিল সহজ লভ্য। আজ আর সে দিন নেই। প্রতিমার সেই মনের মত “আমি মেলা থেকে তাল পাতার এক বাশি কিনে এনেছি/ বাশি আগের মত বাজে না/ মন আমার তেমন কেন সাজে না/ তবে কি ছেলে বেলা, অনেক দুরে ফেলে এসেছি. . . ।”

এমন দশা হয়েছে খেজুর গুড়ের। এলাকার সবচেয়ে বিখ্যাত খেজুর গুড়ের চাষ হত-ধোপাখালী, মহোহরপুর, গোপালনগর, কালা, মাধবপুর, আন্দুলবাড়িয়া. কুলতলা, খয়েরহুদা, সন্তোসপুরসহ প্রায় সব গ্রামেই। ক্রেতাদের রসনা মেটাতে এসব গুড় ব্যপক ভুমিকা রেখেছে। ইদানীং আর সেই নলেন গুড়ের মৌঁ মৌঁ ঘ্রাণ আর নেই। গুড়ে এখন ভেজাল। নিন্ম মানের চিনি দিয়ে গুড় তৈরী করা এখন ফ্যাশানে পরিনত হয়েছে। গুড় উৎপাদকরা এখন ক্রেতাদেরকে গুড়ের নামে বিষ খাওয়াচ্ছে। অতি সম্প্রতি ভেজাল গুড় চিহ্নিত করে কিছু লোককে শাস্তি দেয়া হয়েছে। তারপরও থেমে নেই ভেজালের কারবার।

প্রখ্যাত রায় পরিবারের দ্বিতীয় পুরুষ ছড়াকার সুকুমার রায়। তিনি অনেক কিছুকেই ভালবেসেছেন। লুচিখাস্তা খেতে বেশ মজা। এভাবে জিভে জল আসা খাবারের কথা বললেও শেষে তিনি বলেছেন, তাহার চেয়েও অধিক ভাল পাউরুটি আর ঝোলগুড়। পাউরুটি মিললেও গুড়ের দেশ যশোর,চুয়াডাঙ্গায় কিন্তু ঝোলগুড় মিলছে না। সেই ঝোলগুড়ের সন্ধানে আমাদের প্রতিবেদক মারুফ মালেক তারই তৈরী করা প্রতিবেদন দৈনিক চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার পাঠকদের জন্য পত্রস্থ করা হল।

এক সময় দেশের মিষ্টির অভাব মেটাত খেজুরের গুড়। চিনি কলের দাপট তখন আমাদের দেশে আজকের মত জমিয়ে বসেনি। আর সারাদেশের ভিতরে খেজুর গাছের বাগান ছিল যশোর,ঝিনাইদহ এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা জুড়ে। অবশ্য আমরা যে সময়কার কথা বলছি তখন, ঝিনাইদহ এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা, জেলা হিসাবে আত্ম প্রকাশ করেনি। বিভাগ পুর্ব সময়ে ঝিনাইদহ ছিল যশোর পরগোনার অধীনে একটি মহকুমা। আর চুয়াডাঙ্গা ছিল নদীয়া জেলার মহকুমা। তখনই এ এলাকাটি খেজুর গুড় ও রসের জন্য বিখ্যাত ছিল।

নদী পথে এখানকার উৎপাদিত গুড় ভাড়ে করে কলকাতার বাবুদের মোকামে চালান করা হত। দেশ ভাগের পর এদেশের এক কবি বলেছিলেন, “পাকিস্থানের অভাব কিরে-আছে যশোরের খেজুর গুড় আর পদ্মার ইলিশ।” পদ্মার ইলিশ অবশ্য এখন সোনার পাথর বাটি। ইলিশের সেই সোয়াদ আর নেই। নেই পাড়া জুড়ে ছড়ানো সেই ঘ্রাণ। ঠিক সেই পথ ধরে এখন খেজুরের গুড়ও হারাতে বসেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মানুষের সাস্থ্যের কথা না ভেবে তৈরী করে যাচ্ছে ভেজাল গুড়। এসব ভেজাল গুড় জীবননগর গুড় বাজারসহ বিভিন্ন দোকানে দেদাচ্ছে বিক্রি হচ্ছে। ভেজাল গুড়ের দৌড়াত্ব এখনই বন্ধ করা না গেলে, নলেন গুড়ের মৌঁ মৌঁ ঘ্রাণ আর পাওয়া যাবে না। ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে গ্রাম বাংলার বিখ্যাত খেজুরের গুড়।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

ভোটারহীন নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থার কবর রচিত হয়েছে: পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী অন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেন, ভোটার ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *