সর্বশেষ
Home / বিদ্যুৎ ও জ্বালানী / জীবননগরে পল্লী বিদ্যুত অফিসে গ্রাহক হয়রানি চরমে

জীবননগরে পল্লী বিদ্যুত অফিসে গ্রাহক হয়রানি চরমে

222জীবননগর অফিস: বিজলি বাতি জালিয়ে কোন সূখ নেই। নিয়মিত তা পাওয়াও দায়। তারপরেও মাস গেলেই জমা হয় বড় ছোট বিভিন্ন আকারের বিল। আর সেই বিল পরিশোধে বিড়াম্বনার শিকার হচ্ছেন স্থানীয় গ্রাহকেরা। কর্তৃপক্ষ বলছেন তাদের লোকবল কম। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। একটু বেশি পয়সা ধরে দিলেই বিল সমেত সব কিছু অতি সহজেই পার হয়ে যায়। বিষয়টি এমন যে বিল এবং বিড়াম্বনা হাত ধরাধরি করে চলছে।
জীবননগরের বিদ্যুতের এজেন্সি পেয়েছে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এতদিন এর অফিস ছিল শিল্প শহর দর্শনায়। অনেক চেষ্টা এবং তদবিরের পর অফিসটি জীবননগরে স্থানান্তর করা হয। সাব জোনাল অফিস জীবননগরে গ্রাহকের সংখ্যা অনেক বেশি। বিশেষ করে পল্লীতে তার এবং বিদ্যুতের খুঁটি যাবার কারনে সেখানকার বসতিরা বিজলীর শোভা পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। আর এই সুযোগে আগ্রহীদের বিদ্যুৎ বিভাগ বেশ ভালোভাবেই বেঁধে ফেলে। যদিও নিয়মিত বিদ্যুত দিতে তারা ব্যর্থ তারপরেও বিলের টাকার কোন ছাড় নেই। সেই বিদ্যুৎ বিল এখন গ্রাহকের গলার কাটা হয়ে পড়েছে। বিদ্যুত বিল জমা দিতে আসা বেশ কয়েকজনের সাথে সেদিন কথা হয়। তারা তাদের ক্ষোভের কথা জানালেন। ১০০টাকার বিদ্যুত বিল দিতে এসে ২০০টাকার কামলা কামাই হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করলেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। গ-ারে চামড়া যেমন সাত দিনে টের পায় তেমনি পল্লীবিদ্যুত কর্তৃপক্ষ গুনে গুনে একমাসে সেটি বুঝতে পারেন। তই জানালেন গোপালনগর থেকে বিল জমা দিতে আসা বাদল ম-ল। তার ভাষায়, আমরা বিদ্যুত নিয়মিত পাই না। তারপরেও বিল জমা রাখা আমাদের নীতিবিরুদ্ধ। বিল হাতে আসার সাথে সাথে তা পরিশোধের জন্য সব কাজ ফেলে আমাদের ছুটে আসতে হয়। কিন্তু এসেই বিপত্তি। দীর্ঘ লাইন, আবার কর্তারাও তাদের চেয়ারে থাকেন না। রেলের টিকিট কাটার মত ঠাঁই দাড়িয়ে থাকতে হয়। কখনো আবার ভিতর থেকে বলা হয় ঘোড়া বেঁধে রেখে এসেছেন নাকি! দাড়ান বিল নেওয়া হবে। এখন লোক নেই। তখনই সেই রেলকোম্পানীর টিকেট কেনার গল্প মনে পড়ে যায়। ‘সেই একঘন্টা থেকে বলছি পাঁচ মিনিট পরে দেব, পাঁচ মিনিট পরে দেব মশাই কি কানে খাটো, শুনতে পান না।’এভাবেই জনসেবা করছে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত বিভাগ!
আরো অভিযোগ রয়েছে লক্ষীপুর সাব জোনাল অফিসের কর্মকা- নিয়ে। সাব জোনাল অফিসটি সবে মাত্র উদ্বোধন হয়েছে । আর এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সাধারন মানুষের হয়রানি। অফিসে পর্যাপ্ত পরিমানে লোকবল না থাকার দোহাই দিয়ে বিদ্যুৎ বিল নিতে গড়িমসি করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিল দিতে আসা গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টার সময় জোন কামায় করে বিদ্যুৎ বিল দিতে আসি। আর সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সময় লাগে বিদ্যুৎ বিল দিতে ।তা ছাড়া এক জন মাত্র বিদ্যুৎ বিল নিয়ে থাকে। একটি মাত্র অফিস হওয়ায় জীবননগর উপজেলার সকলে এখানে বিদ্যুৎ বিল জমা দেন। আগে বিদ্যুৎ বিল ব্যাংকে জমা দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। তখন কোন সমস্যায় পড়েন নি গ্রাহকেরা। এখন বিদ্যুৎ অফিসে বিল দিতে এসে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে । তারা আরও বলেন অনেকের বিদ্যুৎ বিল মাত্র ১শত টাকা কিন্তু বিদ্যুৎ বিছিন্ন করার ভয়ে ২শত টাকার জোন কামায় করে এখানে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গ্রাহকদের এই সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ পল্লী বিদ্যুত কর্র্তপক্ষ।
গ্রাহক হয়রানি বিষয়ে জীবননগর পল্লী বিদ্যুৎ সাব জোনাল অফিসের ইঞ্জিনিয়ার আল মামুনের সাথে কথা হয়। মি. মামুন জানালেন, কয়েক দিন ধরে বকেয়া বিলের জন্য মাইকিং করার ফলে অফিসে একটু ভিড় বেড়েছে। নিয়মিত বিলের পাশাপাশি বকেয়া বিল পরিশোধ করার কারনেই এই সাময়িক বিড়াম্বনা। অবশ্য গ্রাহক হয়রানির বিষয়টি সুকেশলে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন মি. মামুন।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

Chuadanga School Student Dead Picture 19.09.2017

চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুর গ্রামে স্কুলের ছাদ থেকে পড়ে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু

রিফাত রহমান:চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামে স্কুলের ছাদ থেকে পড়ে এনামুল হক শিলন নামে ৮ম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *