সর্বশেষ
Home / সাক্ষাৎকার / ‘জনগণের ভোটেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরবে’: একান্ত সাক্ষাৎকারে জেলাপরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল আবেদিন খোকন

‘জনগণের ভোটেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরবে’: একান্ত সাক্ষাৎকারে জেলাপরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল আবেদিন খোকন

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ তা অনেকটাই স্পষ্ট। ক্ষমতাসীনদের জন্য বড় মাথাব্যথা দলের ভিতরে অনৈক্য। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গার দুটি সংসদীয় আসনে ভিন্নমত এতটাই প্রবল একপক্ষ অন্যপক্ষের ছায়া মাড়ান না। দলীয় গ্রুপিংএ পড়ে অনেক ত্যাগী কর্মীরা রাজনৈতিক মাঠ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন।

যাদের বেশিরভাগই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এখন তাদেরকে আবার দলীয় কর্মসুচীতে সামিল করা অনেকটাই অসম্ভব বলে মনে করেন দলটির প্রতি সহনাভুতিশীল অনেকেই। দলের এই অবস্থায় একাদশ সংসদীয় নির্বাচন। দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থী গতবার যারা ছিলেন এবারেও তারাই।

আবার লবিংগ্রুপিং নিরসনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি। সঙ্গত:ভাবে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাই অনেকেরই চোখ এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কেমন ফলাফল করে তার ওপর। স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দানকারী দলটিকে নিয়ে সাধারণ মানুষের উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে দেশের অগ্রগতির চাকা সামনে এগিয়ে যাবে না পিছিয়ে পড়বে।

নির্বাচনের সামনে বিবেকবান মানুষের আরো একটি প্রশ্ন,জঙ্গী সন্ত্রাসহীন সুন্দর আগামীর দিকে আমরা এগিয়ে যাবো,নাকি আবার মুখ থুবড়ে পড়বো। এবিষয়ে জানতে আমাদের প্রতিনিধি মুখোমুখি হন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আবেদীন খোকনের।

পরিছন্ন রাজনীতিবিদ হিসাবে যিনি চুয়াডাঙ্গাবাসীর মন জয় করেছেন। মার্জিত রুচিশীল সজ্জন সর্বোপরি একজন শিক্ষিত মানুষ হিসাবে যার পরিচিতি রয়েছে। নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।এই বিজ্ঞ এবং জনপ্রিয় ক্লিন-ইমেজের অধিকারী রাজনীতিবিদের সাথে আলাপচারিতায় অংশ নেন দৈনিক চুয়াডাঙ্গার প্রতিনিধি, এম আব্দুল্লাহ। আলাপচারিতার চম্বুক অংশ পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো:

দৈনিক চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার এই দুই নির্বাচনী এলাকাটি আওয়ামী বিরোধী হিসাবে পরিচিত। দীর্ঘদিন পরে আসন দুটি আওয়ামী লীগের দখলে যায়। সরকার গঠনের পর দেশকে আপনারা নতুন অবস্থানে নিয়েছেন। সামনে সংসদ নির্বাচন এবিষয়ে আপনারা কি ভাবছেন?

শামসুল আবেদিন খোকন: প্রথমেই আপনাকে অভিনন্দন। রাজনীতি এমন একটি মাধ্যম যা দেশ এবং জনগণের কল্যানে। আমার দল সে বিষয়টি জানে এবং বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগ দেশে সুখশান্তি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আমাদের মহান নেত্রী জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা নিজেও এই কথাটি বিশ্বাস করেন।

জনগণের কল্যান করা সরকারের মুল লক্ষ্য। সে হিসাবে তিনি বিগত দশ বছর নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। আমাদের নেত্রী ২০ থেকে ২২ ঘন্টা জনগণের কল্যানে কাজ করেন। তিনি খুব কম সময়ই বিশ্রাম নেন। তার ধ্যানজ্ঞাণ সবই বাংলাদেশএবং জনগণকে ঘিয়ে। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর কাছে বিশেষ মর্যদা পেয়েছে। এখন আমাদের নামটি বিশ্বসভায় সম্মানের সাথে উচ্চারিত হয়।

তিনি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রকে বিশ্বসভায় সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তারপরেও হয়তো আমরা যারা স্থানীয় ভাবে রাজনীতি করি তারা সেই সব অর্জনকে জনগণের সামনে ঠিকমত তুলে ধরতে পারিনি। তবে জনগণ ঠিকই খোঁজ রাখে বলেই প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন আওয়ামী লীগের কর্মী খুঁজে পাওয়া যায়। আর এই সব কর্মীরাই হচ্ছেন আমাদের শক্তি।

তারা আমাদের সাহস জুগিয়েছেন বলেই আওয়ামী লীগ আজ শক্তিশালী। আপনি হয়তো আমাদের দলের অনৈক্যর কথা বলবেন।এটাকে আপনি অনৈক্য না বলে অভিমান বলতে পারেন। সময়মত তারা ঠিকই দলের প্রয়োজনে আবার সক্রিয় হবেন। আবার এই অভিমান অসন্তোষ ঘুচাতে আমাদের নেতৃবৃন্দ সক্রিয় রয়েছেন। আমার বিশ্বাস সহসাই আমরা এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠবো ইনশাআল্লাহ।

দৈনিক চুয়াডাঙ্গা: একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার দলের ভাবনা।

খোকন:: গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে ভাইটাল একটি প্রসঙ্গ নির্বাচন। যদিও গণতন্ত্র্রে ভোট একমাত্র নিয়ামক নয়। গণতন্ত্র বলতে বোঝায় মানুষের নিজের অধিকার বিষয়ে সজাগ করা। আর এই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নির্বাচন করা একটি অনুসঙ্গ। আবার দেখুন প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হলে আপনাকে ভোটে আসতে হবে। অনেকেই আপনার প্রতিনিধি হতে চাইবেন। তাদের ভিতর থেকে আপনি যাকে যোগ্য মনে করেন তাকে আপনি ভোট দেবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের দেশে ভোটের মাধ্যমে জনমতের প্রতিফলন খুব একটা ঘটে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমনটিই দেখা যায়। এর কারণ, প্রকৃত রাজনীতিবিদদের আমরা প্রার্থী হিসাবে পাইনা। কখনো কখনো এমনও দেখা যায় যোগ্য প্রার্থীর সঙ্কট থাকায় ভোটকেন্দ্রে যেয়ে ভোটাররা দ্বিধায় পড়েন। কাকে ভোট দেব এবিষয়টি তখন গণতান্ত্রিক অধিকারের ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাড়ায়। প্রকৃত সত্য হচ্ছে ত্যাগী রাজনীতিবিদদের ব্যালোটে রোল প্লে করতে না দেওয়া। এখানে জনগণ তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচন করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। তারপরেও দলপ্রেমিক ভোটাররা হয়তো তাদের দলীয় প্রতীকে ভোট দেন, কিন্তু দলের বাইরে যে বিপুল সংখ্যক ভোটার থাকেন তারা কি করবেন? এসময় টাকার খেলা শুরু হয়। ভাসমান ভোটারদের মনজয় করতে সুবিধাবাদী রাজীনিবিদদের লোকজন তৎপর হয়ে ওঠে। তারা টাকা দিয়ে অথবা ভয়ভীতি দেখিয়ে সেই সব ভোট নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা করে। অনেকক্ষেত্রে তারা সফলও হয়। এভাবে যারা আমাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হন তারা কোনোভাবেই জনগণের মনের কথাটি পড়তে পারেন না। বেশিরভাগ প্রতিনিধির সাথে আমজনতার বিন্দুমাত্র সর্ম্পক না থাকার কারণে তারা জনস্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নেন। তাই ভোট এবং প্রতিনিধি দুটিই এখন সোনার পাথরবাটি।

দৈনিক চুয়াডাঙ্গা:এক্ষেত্রে জনগণ তথা ভোটারদের কোনে ধরনের রোল প্লে করা উচিৎ ?

খোকন:: দেখুন,১৯৭৫ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি- জামায়াতের রাজনীতির স্বরুপ ও তার পরিনতি দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। বিএনপি ও তার মিত্ররা এখন গণতন্ত্র উদ্ধার করবে বলে মিশনে নেমেছে। কিন্তু সেটি কোন গণতন্ত্র এবং তার স্বরুপ কি তা কিন্তু তারা স্পষ্ট করছে না। বা করতে পারছে না। আমরা ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে জামায়াত- বিএনপির সম্মিলিত যে রুপ দেখেছি তা বজায় থাকলে বাংলাদেশ এতোদিনে আরেকটি পাকিস্তান বা আফগানিস্তান হয়ে যেতো।এতবড় সর্বনাশা পাকিস্তানি মতাদর্শ কোনো ভাবেই রাষ্ট্রের উন্নতি,অগ্রগতি, কর্মসংস্থান,শান্তিও সম্প্রীতির সহায়ক হতে পারে না। এ সব বাংলাদেশের স্বার্থের বিপরীত যেটি প্রমাণিত হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় দুই বিপরীত মৌলিক নীতি নিয়ে অগ্রসর হওয়া যায় না। আমি বলতে চাইছি নীতির বিষয়ে কোনো আপস করার সুযোগ নেই। আর এদেশের মানুষ সেটি গ্রহণ করেনি বা করবেও না। তাই নতুন মেরুকরন এবং সমীকরণে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। তাই আমি বিশ্বাস করি ৩০ ডিসেম্বর ৩০ লাখ শহীদের বাংলাদেশ পথ হারাবে না। ষড়যন্ত্রকারীরা কোনোভাবেই সফল হবে না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ভোটারের। তাকে ভোটকেন্দ্রে যেয়ে ভোট দিতে হবে। উন্নয়ন এবং দেশকে সত্যিকারভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষমতা যার আছে কেবল তাকেই নির্বাচিত করার শপথ নিতে হবে। যদি ভোটার তার সিদ্ধান্তে ভুল করেন তাহলে আমাদের সব প্রত্যাশা মুখ থুবড়ে পড়বে।

প্রশ্ন: আপনি যে উন্নয়নের কথা বলছেন সে বিষয়টি যদি একটু খোলাসা করতেন?

খোকন:: আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন তার ব্যাখ্যা দেওয়ার মত পরিসর এই স্বল্প সময়ে সম্ভব নয়। তারপরেও আমি সংক্ষিপ্তভাবে দুএকটি উন্নয়নের কথা বলব। যেমন ধরুন বর্তমান সরকার দেশকে নিন্ম মধ্যআয়ের দেশে নিয়ে গেছেন।এই সরকার জনগণের স্বার্থে বেশকিছু মেঘা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। দেশ এখন বিদ্যুতে স্বনির্ভর তেমনি স্বনির্ভরতা পেয়েছে খাদ্যে। আমাদের জিপিডি এখন সারা এশিয়ার ভিতরে দ্বিতীয়।আপনি ভাবলে আর্শ্চয্য হবেন আমরা জিপিডিতে বিশ্বঅর্থনীতির নিয়ন্ত্রক চীনকেও পিছনে ফেলেছি। পদ্মাসেতুর মতো একটা সেতু নির্মানের মত দুঃসাহস আমরা দেখিয়েছি কোন বিদেশী অনুদান ছাড়াই। কেবল দেখিয়েছি এমন নয় তা এখন দৃশ্যমান এবং আমরা প্রত্যাশা করছি আগামী বছরের মধ্যে তা জনগণ ব্যবহার করতে পারবে। রেলপথের আমরা ব্যপক উন্নয়ন ঘটিয়েছি। এখন রেলভ্রমন অনেক স্বস্তিদায়ক।এরপর দেখুন মহাকাশে জয়ে আমরা স্যাটালাইট পাঠিয়েছি। সমুদ্রসীমা আমরা চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি। জলে সাবমেরিন আর গ্রামে গ্রামে ডিজিলাইজেশন করেছি। এখন তথ্য আপনার হাতের নাগালে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সিট মহলের সমাধান করেছি। নিত্য নতুন ফ্লাইওভার তৈরি করেছি। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি আমরা পাটের জিন আবিস্কার করেছি।একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা করেছি। সড়কগুলোকে এক্সপ্রেস ওয়ে দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নতকরনসহ বিষ্ময়কর সাফল্য বর্তমান সরকার দেখিয়েছে।এক সময়কার খাদ্যে ঘাটতি আমদানি নির্ভর বাংলাদেশ এখন খাদ্য রপ্তানি কারক দেশে নাম লেখিয়েছে। আমাদের দেশের কৃষকেরা তাদের ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ভুমিকা রেখেছেন। এজন্য কৃষকের চাহিদা যেমন সার কীটনাশক বিদ্যুত এসবই সরকার পুরণ করতে পেরেছে। তাই কৃষক তার উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। আপনি যদি নিজেকে প্রশ্ন করেন- কোন সরকার দেশের উন্নয়নে বড় ভুমিকা রেখেছে? তখন আপনি স্পষ্ট দেখতে পাবেন বর্তমান সরকার তা অর্জন করেছে। এর আগে যারা সরকারে ছিলেন তাদের ব্যর্থতা ছিলো। সে সময় সারের জন্য কৃষককে গুলি খেতে হয়েছে, বিদ্যুতের অভাবে নিয়মিত সেচ ব্যহত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে এমন কোনো দৃষ্টান্ত আপনি দেখাতে পারবেন না। এছাড়াও সরকারের আরো অর্জন রয়েছে যা দিয়ে তারা গর্ব করতেই পারে।এসব কারনেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকার একটি বিশেষ মর্যদা লাভ করেছে। এতে বাংলাদেশি হিসাবে আমরা সকলেই গর্বিত।

প্রশ্ন: এবারে একটি ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি।একাদশ সংসদ নির্বাচনে আপনিও দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু দল তা বিবেচনা করেনি…..

খোকন:: দেখুন,দল যখন করি তখন মনোনয়ন চাওয়া কোনো দোষের নয়।অনেকেই মনোনয়ন চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। দল বিবেচনা করে যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই মনোনয়ন দেবেন। সেদিক থেকে আমি একা নই অনেকেই মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন চাওয়া আর দল যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে কাজ করা ভিন্ন কথা।

আমরা যেহেতু রাজনীতি করি অর্থাৎ দল করি আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য দল এবং জনগণের কল্যান। মনোনয়ন চাওয়া যেমন আমার রাজনৈতিক অধিকার তেমনি দল যাকে মনোনীত করবে তাকে পাশ করাতে নিজের সবটুকু ঢেলে দেওয়া আমার দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব এবং কর্তব্যবোধ যা আমাদের সামনে কেবলই জনস্বার্থ এবং দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন। আপনার জানার সুবিধার্থে বলি আমরা আওয়ামী লীগ করি। এটি দেশের সর্ববৃৎ রাজনৈতিক প্লাটফরম।

যেখানে লাখে লাখে নেতা রয়েছে, রয়েছে কোটি কোটি কর্মী। তারপরেও আমরা একটি পরিবার।এমন একটি পরিবারের ভিতরে মতের গরমিল হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে মতানৈক্য থাকলেও মন্বত্বর নেই। দল যখন প্রার্থী চুড়ান্ত করেছে তখনই আমরা সেই প্রার্থীকে জেতাতে মাঠে নেমেছি। এখন আমাদের সামনে একটি লক্ষ্য জয়ের বন্দরে পৌছে যাওয়া।

আমরা গোষ্ঠী দ্বন্দ ভুলে এখন এক কাতারে নেমেছি। লক্ষ্য স্থির, আর সেটি হচ্ছে জয়লাভ।এজন্য এখন সকল ভোটার ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার বিজয়ে কাজ করার জন্য মাঠে। নৌকায় ভোট দিয়ে জনগণ আবারো এই সরকারকে ক্ষমতা বসাবেন সে প্রত্যাশা আমি করি। কারণ, জনগণের জন্য দেশের জন্য শেখ হাসিনা সরকারের কোনো বিকল্প নেই। চুয়াডাঙ্গা ১ এবং ২ যে দুজন প্রার্থী আছেন তারা যোগ্য। বিগত সময়ে তারা এলাকাবাসীর সুখে দুখে মিলে মিশে ছিলেন। অবহেলিত চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নে তাদের ভুমিকা অনিস্বীকার্য।

জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করেছে। জেলার ভিতরে গাঁয়ের কাঁচা সড়কগুলো যেমন পাকা হয়েছে, তেমনি শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। মানুষের ভিতরে আস্থা ফিরেছে। স্বাস্থ্য সেবায় পরিবর্তন হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল সমুহ এখন একান্ন শয্যার পাশাপাশি জেলা হাসপাতালটি ২০০ শয্যায় পরিণত হয়েছে। একটি নার্সিং ইন্সিটিটিউট গড়ে ওঠেছে। গ্রামে গ্রামে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু হয়েছে। যদিও ২০০১ সালের সরকার জনকল্যানে নির্মিত এই সব কমিউনিটি স্বাস্থসেবা কেন্দ্র গুলো বন্ধ করে দিয়েছিলো। বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি কলেজ এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারিকরন হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারিকরণ করা হয়েছে। আবার বছরের প্রথমদিনেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম সাফল্য। দুঃস্থ, অসহায়, বিধবা, প্রতিবন্দীদের জন্য ভাতা প্রদান সরকারের সাফল্যের অন্যতম দিক। এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হলে আগামীতে এই সরকারকে ক্ষমতায় আনতেই হবে। জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবে না ইনশাআল্লাহ।

দৈনিক চুয়াডাঙ্গা: আমাদের সাথে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
শামসুল আবেদিন খোকন:: আপনার মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসীকে ধন্যবাদ।দেশকে এগিয়ে নিতে তারা আবারো নৌকায় ভোট দেবেন এমন প্রত্যাশা আমার। দৈনিক চুয়াডাঙ্গাকে ধন্যবাদ।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

জাতীয় যুব কনভেনশন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে: ইসলামী যুব আন্দোলন

ইসলামী যুব আন্দোলনের ২য় জাতীয় যুব কনভেনশন আগামী ২২ মার্চ (শুক্রবার) ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে  অনুষ্ঠিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *