সর্বশেষ
Home / আইন-আদালত / চুয়াডাঙ্গায় ২০ জন চোখ হারানোয় আদালত বললেন ঔষধ প্রশাসনের ব্যর্থতায় রোগীদের ভোগান্তি হয়েছে

চুয়াডাঙ্গায় ২০ জন চোখ হারানোয় আদালত বললেন ঔষধ প্রশাসনের ব্যর্থতায় রোগীদের ভোগান্তি হয়েছে

চুয়াডাঙ্গা শহরের ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চক্ষুশিবিরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ২০ জনের চোখ হারানোর ঘটনায় হাইকোর্টের জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে আগামী ২১ অক্টোবর এ বিষয়ে রায়ের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরেরও সমালোচনা করেন আদালত।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার রায়ের তারিখ ধার্য করেন।

এর আগে গত ১৭ জুলাই হেলথ সেন্টারে চোখ হারানোর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। যার প্রথমটি গত ১৩ মে এবং দ্বিতীয়টি ১৫ জুলাই চূড়ান্ত করা হয়। প্রথম প্রতিবেদনে চুয়াডাঙ্গায় চোখ হারানোর জন্য চিকিৎসায় ব্যবহূত হাসপাতালের ওষুধ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি থেকে সংক্রামক জীবাণু ছড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর দ্বিতীয় প্রতিবেদনে জীবাণু সংক্রমণকে চোখ হারানোর জন্য দায়ী করে এ ঘটনাকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ ও ‘দুর্ঘটনাজনিত’ বলা হয়েছে। এ ছাড়া ওই চক্ষু শিবিরে ব্যবহূত কিছু ওষুধে এখন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন প্রদান (ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক) করা সম্ভব হয়নি বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গতকাল ওই প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শুনানির এক পর্যায়ে আদালত বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ব্যর্থতার কারণেই এ দেশে রোগীদের এত ভোগান্তি। তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। পরে সংশ্নিষ্ট সব পক্ষের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ২১ অক্টোবর রায়ের দিন ধার্য করেন।

আদালতে গতকাল ইমপ্যাক্ট মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের পক্ষে শুনানি করেন  জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম এবং ওষুধ কোম্পানি আইরিশের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম। অন্যদিকে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনের পক্ষে আইনজীবী রফিকুল ইসলাম।

গত ২৯ মার্চ সমকালে ‘চক্ষু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রোগীদের জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করা হলে ১ এপ্রিল রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিতে এসে চোখ হারানো ২০ জনের প্রত্যেককে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি ২০ জনের চোখ অস্ত্রোপচারে কার্যকর, যথাযথ ও পর্যাপ্ত নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণে নিষ্ফ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা এবং সংশ্নিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এরপর গতকাল ওই রুলের শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

প্রচারণার পেরেক ঠুকে প্রতিনিয়ত গাছের সর্বনাশ: চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের রাজনীতি এখন গাছে গাছে!

সাইদুল ইসলাম: চুয়াডাঙ্গা-২ আসন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক সরগরম হয়ে উঠেছে। আওয়ামীলীগ, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *