সর্বশেষ
Home / বিশেষ সংবাদ / চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের ধাওয়ায় পালিয়ে যাওয়া যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের ধাওয়ায় পালিয়ে যাওয়া যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

রিফাত রহমান: চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের ধাওয়ায় পালিয়ে যাওয়া যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছী-মাখালডাঙ্গা এলাকার একটি মাঠ থেকে সাকিব হাসান সানের (২৫) গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সান চুয়াডাঙ্গা শহরের মাঝেরপাড়া এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, সকালে বেলগাছী-মাখালডাঙ্গা রাস্তার গঙ্গাচরা মাঠে একটি গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে তারা পৌর কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনিকে বিষয়টি জানালে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, সোমবার সন্ধ্যার আগে সান মুসলিমপাড়ায় তার ফুপুর বাড়িতে ছিলো। এ সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার জন্য ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের ধাওয়ায় সে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে গেলে তার পিছনে ধাওয়া করে পুলিশ সদস্যরা। এরপর আজ মঙ্গলবার সকালে পাওয়া যায় তার গুলিবিদ্ধ লাশ।
নিহত সানের ফুপু রতœা অভিযোগ করে বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর ফাঁড়ির এএসআই আবু আল ইমরান সানসহ একদল পুলিশ সানকে গ্রেফতার করতে আসে। এ সময় তার ছেলে সবুজকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি ফোন পেয়ে সবুজকে ছেড়ে দিলেও পরিবারের কাছে ১ লাখ টাকা দাবী করে ২৪ ঘন্টার সময় দেওয়া হয়। ইমরান এ সময় সানকে উদ্দেশ্য করে বলেন- ‘সানকে ধরতে পারলেই গুলি করা হবে’। তারপর পাওয়া যায় তার গুলিবিদ্ধ লাশ।

অভিযোগের ব্যাপারে এএসআই আবু আল ইমরান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পুলিশ কি এ কাজ করতে পারে?’
এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান জানান, নিহত সান কুখ্যাত ছিনতাইকারী ও দুধর্ষ সন্ত্রাসী ছিলো। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ডাকাতিসহ ৮টি মামলা রয়েছে। তবে তাকে কে বা কারা গুলি করে হত্যা করেছে সেটা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে সকালে বেলগাছি-মাখালডাঙ্গা সড়কের গঙ্গাচরা মাঠে পড়ে থাকা অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। নিহতের বাঁ কাঁধ ও ডান পাঁজরে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। নিহতের গায়ের রং ফর্সা। মুখে দাঁড়ি আছে। পরণে কালো জিন্সের প্যান্ট। খালি গা। হাত বাঁধা ছিল একটি গেঞ্জি দিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের পরণের গেঞ্জি খুলে হাত বেঁধে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে কে বা কারা।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

চুয়াডাঙ্গায় এডাব আয়োজনে সম-নাগরিকত্ব শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

রিফাত রহমান :বাংলাদেশে কর্মরত বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সমুহের সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান এডাব চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আয়োজনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *