সর্বশেষ
Home / দুর্ঘটনা / চুয়াডাঙ্গার ঝাজরী গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৭: মামলা করলে স্বপরিবারে হত্যার হুমকি!

চুয়াডাঙ্গার ঝাজরী গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৭: মামলা করলে স্বপরিবারে হত্যার হুমকি!

হিজলগাড়ী অফিস: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের ঝাজরী গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ তার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখমসহ বাড়ী ভাংচুর করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় মামলা করা হলে স্বপরিবারে গ্রামছাড়া সহ হত্যার হুমকি প্রদান করছে অভিযুক্তরা।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার সকাল ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের ঝাজরী গ্রামের ইয়ান নবীর ছেলে তৌহিদ গরুর জন্য চুরি করে কেরুজ বেগমপুর ফার্মের জি ব্লকে আখের মাথা ( ঘাস) কাটতে যায়। আখের মাথা কাটার সময় একই মাঠে কাজ করা ঝাজরী গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলীর ছেলে রেজাউল তৌহিদকে বাঁধা দিলে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এসময় মাঠের অন্য শ্রমিকরাও তৌহিদকে বাঁধা দিলে তৌহিদ বাড়ীতে চলে আসে।

 

বাড়ী এসে তার পক্ষের লোকজন নিয়ে রাস্তায় ওত পেতে থাকে। দুপুরের দিকে রেজাউল বাড়ীতে খাওয়ার জন্য আসার পথে তৌহিদ ও তার লোকজন রেজাউলকে ধাওয়া দিলে সে দৌড়ে বাড়ীতে চলে যায়।

 

রেজাউলের পিছু পিছু দৌড়ে তাদের বাড়ীতে গিয়ে তৌহিদসহ একই গ্রামের করম আলীর ছেলে শিমুল,সরফত আলীর ছেলে ইউনুস আলী,নজির মন্ডলের ছেলে সাইদ,ইউনুসের ছেলে জানিফ,চকম আলীর ছেলে হারুন ও সফত আলীর ছেলে ফারুক মিলে রেজাউলকে মারধর করতে থাকে। রেজাউলের চিৎকারে ঘর থেকে তার বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঠেকাতে আসলে তারা তাকেও বেধড়ক মারপিট করে আহত করে। এসময় এরশাদ আলীর স্ত্রী গইরণ বিবিকেও মেরে আহত করে অভিযুক্তরা। এসময় তাদের চিৎকার শুনে হামলা কারীর কাছ থেকে তাদের বাঁচাতে গিয়ে আসলে প্রতিবেশী হারুনের ছেলে জিনারুল,সেলিমের ছেলে সোহেল ও ইসলামের ছেলে কালামকেও লাটি ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত জখম ঘরের মধ্যে ঢুকে আসবাবপত্র ভাংচুরসহ সোকেসের ড্রয়ারে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা লুট করে নেয়।

 

পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা আহতের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠালে পথিমধ্যে তৌহিদের ভাড়া করা অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদসহ আহতের বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গতি রোধ করে ২য় দফায় হামলা করে গুরুত্বর আহত করে বেগমপুর গ্রামের নজির মন্ডল এর ছেলে সাইদের বাড়ীতে আটকিয়ে রাখে। যেতে করে তারা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হতে কিংবা চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা করতে না পারে।

 

পরবর্তীতে খবর পেয়ে স্থানীয় বেগমপুর ক্যাম্প পুলিশের একটি দল এসে তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। অন্যদিকে এঘটনায় যদি মামলা করা হয়, তাহলে বীর মুুক্তিযোদ্ধা এরশাদ সহ তার পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার পাশাপাশি স্বপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে।

 

এঘটনায় আজ চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী। এদিকে আহতের মধ্যে কালামের মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলীর মেয়ে ফরিদা খাতুন ও কামাল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

জীবননগরে ভালোবাসায় সিক্ত হলেন যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল

জীবননগর প্রতিনিধিঃ জীবননগরে রাজনৈতিক, সুধী, সাংবাদিক ও স্থানীয় সাধারণ জনগনের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন জীবননগর উপজেলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *