সর্বশেষ
Home / উপজেলার খবর / চুয়াডাঙ্গার গোবিন্দহুদা ম্যানেজিং কমিটির তদন্ত কমিটি গঠন

চুয়াডাঙ্গার গোবিন্দহুদা ম্যানেজিং কমিটির তদন্ত কমিটি গঠন

08-17স্টাফ রিপোর্টার: চু য়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর মেধাবী দুই ছাত্র জমজ দুই ভাই জাকিরুল (১৫) ও মনিরুলকে (১৫) অমানবিক ভাবে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্মীয় শিক্ষক কুতুব উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর মেধাবী দুই ছাত্রকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় সোমবার সকাল ১০ টার দিকে ম্যানেজিং কমিটি এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সর্ব সন্মতিক্রমে অভিযুক্ত ধর্মীয় শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ঘটনাটির সঠিক তদন্ত করতে ৫ সদস্য বিশিষ্ঠ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি  প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ: দা:) নূরুল হাফিজ রোববার ৩ সদস্যর একটি তদন্ত টিম গঠন করে ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, উপজেলার গোবিন্দহুদা গ্রামের মজিবর রহমানের জমজ দুু’ছেলে জাকিরুল ও মনিরুল শনিবার বেলা ১২ টা থেকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উল্লেখ্য, ১২ নভেম্বর শনিবার বেলা ১১ টার দিকে ধর্মীয় শিক্ষক কুতুব উদ্দিন ৯ম শ্রেণীর ক্লাশে ঢুকে ৭ম রুল ধারী মেধাবী ছাত্র মনিরুলকে প্রশ্ন ধরেন আমাদের শেষ নবীর নাম কি? ছাত্র সঠিক উত্তর দেয়। এবার তাকে প্রশ্ন করা হয় শেষ নবীর পিতার নাম কি? এই প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর দেয় জামিরুল। এবার তাকে প্রশ্ন করা হয় শেষ নবীর দাদার নাম কি?

এ প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর দিলে তাকে প্রশ্ন করা হয়। নবীজির দাদার দাদার নাম কি? তখন ছাত্র মনিরুল বলেন, স্যার নবীজির দাদার, দাদার নাম জানানেই। জানার দরকারও নেই। এই কথায় শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রকে কাছে ঢাকেন। ছাত্রটি শিক্ষকের হাতের নাগালের মধ্যে আসলে তিনি ছাত্রটির মাথার চুল চেপে ধরে বেতদিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। মন সময় মনিরুলের জমজ ভাই একই শ্রেণীর (৯ম শ্রেণীর) প্রথম রুল নম্বরধারী জাকিরুল ধর্মীয় স্যারকে এভাবে অন্যায় করে মারতে নিষেধ করায় স্যার তাকেও পেটানো শুরু করেন।

এরই এক পর্যায়ে দুই ভাইকে পেটাতে পেটাতে অফিস কক্ষে নিয়ে গিয়ে সেখানেও বেধড়ক পেটাতে থাকেন ধর্মীয় শিক্ষক কুতুব উদ্দিন। এসময় প্রধান শিক্ষক তাকে মারতে নিষেধ করলেও তিনি তা কর্ণপাত না করে পেটাতে থাকেন। এক পর্যায়ে জাকিরুল সজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করতে কোন শিক্ষক এগিয়ে না আসলে তার সহপাঠিরা তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

চুয়াডাঙ্গায় এডাব আয়োজনে সম-নাগরিকত্ব শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

রিফাত রহমান :বাংলাদেশে কর্মরত বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সমুহের সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান এডাব চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আয়োজনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *