সর্বশেষ
Home / ছবি ঘর / চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী সরোজগঞ্জ খেঁজুর গুড়ের হাট জমে উঠেছে; সপ্তাহে দেড় কোটি টাকার গুড় বেচাকেনা হয় হাটে

চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী সরোজগঞ্জ খেঁজুর গুড়ের হাট জমে উঠেছে; সপ্তাহে দেড় কোটি টাকার গুড় বেচাকেনা হয় হাটে

Chuadanga Kajur Gur (4)রিফাত রহমান: চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী সরোজগঞ্জ খেঁজুর গুড়ের হাট জমে উঠেছে; সপ্তাহে দেড় কোটি টাকা গুড় বেচাকেনা হয় হাটে। চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ গুড়ের হাটটি স্থানীয় হাই স্কুল মাঠে ১৯৪৭ সাল থেকে সপ্তাহে সোম ও শুক্রবার বসছে। এ হাটের নামের বিষয় নিয়েও রয়েছে দারুন চাঞ্চল্য। দেশ বিভাগের আগে বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার এই স্থানটিতে দুই জমিদার কর্তৃত্ব করতো। রাস্তার উত্তর দিকে ‘সরোজ বাবু’ ও দক্ষিন দিকে ‘সরৎ বাবু’ ব্যবসা করতো। এখনও ওই দুই জমিদারের নামানুসারে রাস্তার দুধারে ব্যবসায়ীরা দু স্থানের নামে দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ব্যাংক গুলোর সাইন বোর্ডও দুই জমিদারের নামানুসারে দেওয়া।

চুয়াডাঙ্গার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজিজুল হক জানান, ১৯৬০ সালের শেষের দিকে যশোরে ব্রিটিশদের কারখানা ছিলো। সেখানে গুড় থেকে চিনি উৎপাদন হতো। সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানী হতো ট্রেনে। চুয়াডাঙ্গার পুরাতন বিডিআর ক্যাম্পের কাছে বসতো গুড়ের হাট। সেখান থেকে নৌকা ও ঘোড়ার গাড়িতে করে খেঁজুর গুড় বিক্রি হয়ে পাবনা, সাভার, বরিশাল, ফরিদপুর, গোয়ালন্দঘাটসহ বিভিন্ন হাটে বাজারে চলে যেতো। তিনি আরো জানান, বর্তমানে প্রতিটি হাটে ক্রেতারা খেঁজুর গুড় কিনে ট্রাকযোগে পাবনা, ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা, বরিশাল, ফরিদপুর ও চট্টগ্রামে নিয়ে যায়। দুদিনের হাটে ৬০০ হতে ৮০০টি মাটির ভাঁড়ে দেড় কোটি টাকার গুড় বেচাকেনা হয়। যা বহন করতে ১৫-২০টি ট্রাকের প্রয়োজন পড়ে।

ব্যবসায়ী আজিজুল হক বলেন, বেশ ক’বছর কিছু খেঁজুর গুড় ব্যবসায়ী চিনি দিয়ে গুড় বানাচ্ছে। তাদেরকে কঠিনভাবে নিবৃত করা হচ্ছে। বর্তমানে ১ কেজি খেঁজুর গুড় ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ১ কেজি চিনির দাম পড়ছে ৫০ টাকা। সেকারনে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত লাভের আশায় গুড় তৈরির সময় গোপনে চিনি ব্যবহার করছে। তাছাড়া তাঁত রসে গুড়ের মান খারাপ হচ্ছে। এতে গুড়ের চাহিদা ও দাম কমছে। গুড় তৈরি করে মাটির ভাঁড়ে ঢালার পর মুখের অংশে ভাল গুড় দেওয়া হয়। এ কারনে বোঝা যায় না ভাঁড়ে গুড় ‘ভাল’ কি ‘খারাপ’। নিন্মমানের খেঁজুর গুড় হাটে আনার কারনে সেগুলো ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। সেখানে মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তবুও কিছু নিন্মমানের গুড় বিক্রি হচ্ছেই। তিনি আরো বলেন, চুয়াডাঙ্গায় উৎপাদিত খেঁজুর  গুড় অত্যান্ত ভাল। সে কারনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিন্মমানের খেঁজুর গুড় বাজারজাত ঠেকাতে গুড় পরীক্ষার মেশিন ব্যবহার জরুরি। চুয়াডাঙ্গার গুড় ইংল্যান্ডে রপ্তানী করার প্রক্রিয়া করেছিলো চট্টগ্রাম ও সিলেটের কয়েজন ব্যবসায়ী। তারা কয়েক চালান গুড় সেখানে পাঠিয়েছিলো। গুড়ের মান খারাপ হওয়ায় গুড় রপ্তানী বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে প্রচন্ড শীতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২ লাখ ১৩ হাজার ১৫০টি খেঁজুর গাছ থেকে শুরু হয়েছে খেঁজুর রস সংগ্রহ। গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এবার ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৫৯ মেট্রিকটন।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাঈম আস সাকীব জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৮৫ হাজার ৪৫০টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১৯ হাজার ৫০০টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ৭৩ হাজার ২০০টি এবং জীবননগর উপজেলায় ৩৫ হাজারটি খেঁজুরের গাছ রয়েছে। শীত মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১ হাজার ২৫ মেট্রিক টন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২৩৪ মেট্রিক টন, দামুড়হুদা উপজেলায় ৮২০ মেট্রিক টন এবং জীবননগর উপজেলায় ২৮০ মেট্রিক টন খেঁজুর গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আশা করা যায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে গুড় বেশী উৎপাদন হবে।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

ঝিনাইদহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২জন নিহত আহত একজন

ঝিনাইদহ সংবাদদাতাঃ ঝিনাইদহে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু ঘটেছে। আহত হয়েছে একজন। সোমবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *