সর্বশেষ
Home / রাজনীতি / চলমান শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইনে নাস্তিক্যবাদ সৃষ্টি করবে— পীর সাহেব চরমোনাই

চলমান শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইনে নাস্তিক্যবাদ সৃষ্টি করবে— পীর সাহেব চরমোনাই

3510-660x330ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে ‘সহনশীল’ মাত্রায় ঘুষ গ্রহণের পরামর্শ প্রদান ও ঘুষ গ্রহণে বাধা দেয়ার সাহস নেই বলে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, মন্ত্রী কর্তৃক নিজেকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে ঘোষণা দেয়া সাহসিকতার পরিচায়ক হতে পারে।

তবে একই সাথে এই সৎসাহসের যথার্থতার স্বার্থেই নৈতিক অবস্থান থেকে তিনি পদত্যাগ করে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত ছিল।  শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ইতিপূর্বে মন্ত্রণালয়ের এক অধিদপ্তরের দুর্নীতির ব্যাপকতা রোধে কর্মকর্তাদের ‘সহনশীল’ মাত্রায় ঘুষ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিজেসহ মন্ত্রীপরিষদের সকল সহকর্মীদের দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মন্তব্য করেছেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, সকলক্ষেত্রে রাসূল সা.-এর আদর্শের অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে। সমাজে চলমান অশান্তি দুর করতে গিয়ে মানুষ বিভিন্ন জাগতিক মতবাদ গ্রহণ করছে। কিন্তু এতে সমাজের অশান্তি না কমে বরং বেড়েই চলেছে।  আসলে আল্ল¬াহপ্রদত্ত জীবনব্যবস্থা ইসলামকে গ্রহণ না করলে কোন সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। একমাত্র ইসলামই পারে দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্যা সমাধান করে দুনিয়াকে শান্তিময় বাসযোগ্য করে তুলতে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, চলমান শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইনে নাস্তিক্যবাদ সৃষ্টি করবে। তিনি শিক্ষানীতি ও শিক্ষাআইন সংশোধন করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। তিনি জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করায় ট্রা¤েপর কঠোর সমালোচনা করেন।
গতকাল (বুধবার) দাওয়াতুন্নবী স. উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত ২ দিনব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে শেষদিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দাওয়াতুন্নবী স. মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক

মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলমের সভাপতিত্বে মাহফিল পরিচালনায় ছিলেন নগর সেক্রেটারী মাওলানা এবিএম জাকারিয়া ও মাওলানা আরিফুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত তাফসীর মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসার মুহাদ্দিস ও নাযিমে দারুল ইকামা আল্লামা মনিরুল ইসলাম নকশাবন্দি, চরমোনাই কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল¬াহ আল-মাদানী, অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, আল্লামা মুফতী দিলাওয়ার হোসাইন, অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। সার্বিক ম। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব আলহাজ্ব মুহা. আব্দুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, উত্তর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব হারুন অর রশিদ ও আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জনতার দৃষ্টি ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনের দিকে। রাজধানীর সকল এলাকা থেকে জোহর নামাযের আগেই হাজার হাজার উৎসুক ইসলামপ্রিয় জনতা মাহফিলস্থলে পৌঁছতে থাকে। বেলা ২টার সময় জনতার উপচে পড়া ভীড় পরিলক্ষিত হয়। পীর সাহেব চরমোনাই মঞ্চে উঠেন তখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যোন কানায় কানায় ভরে যায়।

বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আল¬াহ আল¬াহ জিকিরে মুখরিত করে তোলেন লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। জনতার স্রোত যখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাহফিলমুখি এর আগেই মাহফিল সমাপ্ত করতে হয়েছে। সরকার মাহফিল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় জনমনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করে।

পীর সাহেব বলেন, ইসলাম শুধু ব্যক্তি জীবনে পালন করা কিছু আনুষ্ঠানিক ইবাদতের নাম নয়। মানুষের জৈবিক যত চাহিদা রয়েছে সবকিছুর দিকনির্দেশনা রয়েছে ইসলামে। অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাজনীতিসহ সকল বিষয়ে অনুসরণীয় আদর্শের নাম হলো ইসলাম। কোন মানুষ যদি পরিপূর্ণ ইসলামী জীবনাচার মেনে চলে, সে পরিণত হয় একজন আদর্শ মানুষে। তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্র যদি ইসলাম অনুযায়ী পরিচালিত হয়, সেই রাষ্ট্রও হবে বিশ্বের মধ্যে মডেল। তিনি সূরা আসরের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, আল¬াহতায়ালা ঈমানদার, সালেহীন, সত্যবাদী ও ধৈর্য্যধারনকারী ছাড়া সকল মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ হিসেবে উলে¬খ করেছেন। তাই তিনি সকলকে দেশ ও জাতির স্বার্থে ইসলামের সুমহান আদর্শের ছায়াতলে সমবেত হবার জন্য আহবান জানান।

পীর সাহেব চরমোনাই সাহেব বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম না থাকায় দেশ বার বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে হলে ইসলামকে ক্ষমতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে যে নেতার আদর্শ অনুসরণ করবে, কিয়ামতের দিন সে ঐ নেতার সাথে উঠবে। তাই সকলকে ভাবতে হবে তার হাসর কার সাথে হবে, নাস্তিক-বেঈমানদের সাথে না আল্ল¬াহওয়ালাদের সাথে?

অধ্যক্ষ সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্ল¬াহ আল-মাদানী বলেন, প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় প্রকৃত মানুষ গড়ার কোন উদ্যোগ নেই। মানুষ নৈতিকতা হারিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ডের দিকে ধাবিত হচ্ছে।  বিবর্জিত জাতিকে ফিরিয়ে আনতে হলে রাসূল সা.-এর সুন্নাহ কায়েম করতে হবে। তিনি নারী নেতৃত্বের অবসান ও ভ্রান্ত মতাদর্শ পরিহার করে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় সকলকে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, আল¬াহভীরু ও মোত্তাকি নেতৃত্বের অভাবে সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে দুর্র্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী জেঁকে বসেছে। তিনি বলেন, ইসলাম না মানলে দুনিয়ায় অশান্তির আগুন জ্বলতেই থাকবে। তিনি বলেন, দুনিয়ার মধ্যে সর্বোত্তম আদর্শ হলো রাসূল সা. এর আদর্শ। রাসূল সা. আদর্শ আঁকড়ে ধরতে পারলেই সর্বত্র  শান্তি ফিরে আসবে। তিনি শাসকদেরকে দেশ, জনগণ ও জনগণের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় কাজ করার আহবান জানান।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

জীবননগরে ভালোবাসায় সিক্ত হলেন যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল

জীবননগর প্রতিনিধিঃ জীবননগরে রাজনৈতিক, সুধী, সাংবাদিক ও স্থানীয় সাধারণ জনগনের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন জীবননগর উপজেলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *