সর্বশেষ
Home / মুক্তমত / গ্রাম বাংলার ঐতিজ্যবাহী বৈঠক খানার ইতিকথা

গ্রাম বাংলার ঐতিজ্যবাহী বৈঠক খানার ইতিকথা

আনোয়ারুল কবীর: এটা আমাদের বাংলাদেশের পারিবারিক গ্রাম বাংলার ঐতিজ্যবাহী বৈঠকখানা। ৬০ ও তার পূর্বের দশকগুলোতে বৈঠকখানার অনেক কদর ও গুরুত্ব ছিল। যাকে বলা হত পারিবারিক ঐতিহ্য। মুরব্বীদের আড্ডাখানা হিসেবে বৈঠকখানা ব্যবহারিত হত । সেই সাথে ছেলে-মেয়ের বিবাহর সকল অনুষ্ঠানসহ মেহমানদের-মেমানদারী ও বিচার-সালিশর কাজও বৈঠকখানাতে করা হত ।

গ্রামে যাদের পারিবারিক বৈঠকখানা ছিল তাদেরকে বলা হত কুলিন বা বংশ মর্যদা সম্পূর্ন পরিবার। বৈঠকখানা না থাকলে কুলিনতার অভাবে বিয়ে ভেঙ্গে যেত।

কৃষক পরিবারে সেই আমলে প্রায় সবই ছিল মাটির দেওয়াল আর খড়ের ছাওনির বৈঠকখানা। ২০ গ্রামের মধ্যে ২/১টি পাকা বৈঠকখানা  চোখে পড়ত। পাকা বৈঠকখানা পরিবারগুলোকে অতি  বুনিয়াদী সম্ভ্র্রান্ত পরিবার হিসেবে ধরা হত।

বর্ষাকালে প্রবীনরা সারাদিন ব্যাপি জমকালো আড্ডার সাথে ভাল মন্দ খাওয়ার আসর বসাত। সেই সাথে চলত গড়গড়া হুকার রমরমা টান। ৫০ এর দশকে শিশু দর্শক হিসেবে কিছুটা উপভোগ করেছি আমি। আজ তার আমল পরিবর্তন। বৈঠকখানার যুগ আজ আর নেই। বিলীন হয়ে গেছে সে আমলের ঐতিহ্যবাহী বৈঠকখানা।

পাকাগুলো থাকলেও তা অযত্নে অবহেলায় খসে খসে পড়ছে। অনেকে বাপ দাদার ঐতিহ্য হিসেবে সংস্কার করেছে। নতুন প্রজন্মের হয়ত এই বৈঠকখানা সমন্ধে কোন ধারনা নেই। যারা আজ প্রবীন তারা জানে বৈঠকখানার গুরুত্ব সে দিনে কত প্রয়োজন ছিল।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসক পরিবেশ পদক পেল চার প্রতিষ্ঠান

 চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসক ২০১৮ সালের পরিবেশ পদক প্রদান করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে জেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *