সর্বশেষ
Home / অপরাধ-দুর্নীতি / গাংনীতে প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্য চলছেই; সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে গাইড বই বিক্রিসহ স্কুলেই চলছে কোচিং বাণিজ্য

গাংনীতে প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্য চলছেই; সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে গাইড বই বিক্রিসহ স্কুলেই চলছে কোচিং বাণিজ্য

গাংনী অফিস: গাংনীতে প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্য চলছেই।সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে গাইড বই বিক্রি সহ কোচিং বাণিজ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের নাকের ডগায় চলছে। গাংনী উপজেলার হাটে বাজারের সব বইয়ের দোকানে গাইড বই অবাধে বিক্রি হচ্ছে।কেউ দেখার নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মেহেরপুর জেলা শিক্ষা অফিস ও গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিস বিদ্যালয়গুলোতে মনিটরিং শুরু করলেও কোচিং বাণিজ্য থেমে নেই ।

গাংনী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের সাথে আলাপ আলোচনা করা হলেও মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষক সমিতিগুলো সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এই অবৈধ গাইডবই বিক্রি ও কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। গাংনী উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অসংখ্য কোচিং সেন্টারে চলছে জমজমাট শিক্ষাবাণিজ্য।

এতে করে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ক্লাসে শিক্ষকগণ ঠিকমত ক্লাস না করাতে শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল করতে পারছে না। পাশাপাশি গরিব, অসহায় শিক্ষার্থীরা ওই সব কোচিং সেন্টারে কোচিং করতে না পেরে পরীক্ষায় ‘ফলাফল ভালো’ করতে পারছে না বলে তাদের পড়ালেখায় বিপর্যয় ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকারি নীতিমালায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাইভেট কোচিং পরিচালনা নিষিদ্ধ থাকার পরেও গাংনী উপজেলার সরকারি, বেসরকারি, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের অসাধু শিক্ষকরা এসব বিদ্যালয়ের-কলেজের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে তাদের নির্দিষ্ট কোচিং সেন্টারে সকাল-সন্ধ্যা কোচিং করতে বাধ্য করছেন বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ জানিয়েছেন।

জানা গেছে, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব বিদ্যালয়-কলেজ শিক্ষকদের কোচিং সেন্টারে কোচিং ক্লাস করতে অস্বীকৃতি জানালে পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের অকৃতকার্য দেখানো হয় বলে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় শতাধিকের বেশি কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। এ সব কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা শহর গ্রামগঞ্জের হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে চটকদার সাইনবোর্ড, ব্যানার টানিয়ে এবং এ সব সাইনবোর্ড, ব্যানারে ‘শতভাগ পাশের নিশ্চয়তা’ দিয়ে জমজমাটভাবে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।এতে করে স্কুল-কলেজের পড়ালেখা বিদ্যালয়মুখি না হয়ে ‘কোচিংমুখি’ হয়ে পড়েছে। অপরদিকে, অভিভাবকমহল তাদের সন্তানদের কৃতকার্য’ আর ‘ভালো ফলাফলের’ আশায় স্কুল-কলেজে পাঠানোর পরেও ‘কোচিংমুখি’ করতে বাধ্য হয়ে পড়েছেন। এতে করে অভিভাবকমহল চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন এক অসম প্রতিযোগিতা আর আর্থিক অনিশ্চয়তায়।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে মন্ত্রণালয়-নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পাঠদানে ব্যস্ত খোদ সরকারি-বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা।গাংনী উপজেলার হিন্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সিন্দুরকৌটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস বাদ দিয়ে প্রতিদিনই চলছে কোচিং ব্যবসা। এসব শিক্ষককে ব্যবহার করে কোচিং সেন্টারগুলো বাড়াচ্ছে শিক্ষার্থী।

এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর হাবিবুল বাসার জানান, আমরা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের জানিয়েছি, কোন বিদ্যালয়ে স্কুল চলাকালীন সময়ে কোচিং করানো যাবে না। বাইরে কেউ কোচিং সেন্টার চালালে সেই দায়িত্ব আমরা নিতে পারি না।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

ঝিনাইদহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২জন নিহত আহত একজন

ঝিনাইদহ সংবাদদাতাঃ ঝিনাইদহে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু ঘটেছে। আহত হয়েছে একজন। সোমবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *