সর্বশেষ
Home / কৃষি / গাংনীতে কৃষকদের মাঝে গমের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী করণীয় বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

গাংনীতে কৃষকদের মাঝে গমের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী করণীয় বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

গাংনী(মেহেরপুর)সংবাদদাতা:মেহেরপুর গাংনী উপজেলার বামুন্দী উইনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের মাঝে গমের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী বিষয়ক ও অবহিতকরণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিসের উগ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে,এম শাহাবুদ্দিন আহমেদ,তিনি বলেন,প্রধানত গমের শীষে ছাত্রাকের আক্রমণ হয়।শীষের আক্রান্ত স্থানে কালচে ধূসর বর্ণের দাগ পড়ে এবং আক্রান্ত স্থানের উপরের অংশ সাদা হয়ে যায়।তবে শীষের গোড়ায় আক্রমণ হলে পুরো শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়।

পাতায়ও এ রোগের আক্রমণ হতে পারে এক্ষেত্রে পাতায় চোখের ন্যায় ছোট ছোট ধূসর বর্ণের দাগ পড়ে।তিনি আরও বলেন,এই ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধের প্রধান পরামর্শ হলো এলাকার কৃষককের কাছে রক্ষিত কোন বীজ ব্যবহার না করা।প্রতি কেজি বীজ ৩ গ্রাম প্রোভ্যাক্স এমকোজিম /ব্যাভিস্টিন দিয়ে বীজ শোধন করে ৬ঘন্টা পরে জমিতে বপন করা,৩০শে নভেম্বর বা ১৬ই অগ্রহায়নের মধ্যে গম বোনা শেষ করা।

গমের শীষ বের হবার সময় এবং আশেপাশে রোগের আক্রমন শুরু হলে অথবা বৈরী আবহাওয়া হলে নাটিভো/টুপার ৬ গ্রাম প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ¯েপ্র এবং ১২-১৫ দিন পর ২য় বার ¯েপ্র করা এভাবে তিনি গম চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন। বর্তমান গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে,এম শাহাবুদ্দিন আহমেদের সহযোগীতায় এবছর গাংনী উপজেলার কোন গম ক্ষেতে ব্লাস্ট আক্রমণ হয়নি।

এবছর গম চাষে বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের।উল্লেখ২০০১৭ও ২০০১৮অর্থ বছরে ব্ল্যাস্ট রোগে আক্রান্ত হয় গাংনী উপজেলার গম ক্ষেত।ফলে কৃষকদের ঘাম ঝরানো উৎপাদিত ফসল পুড়িয়ে ফেলতে হয়।বীজ বাহিত এ রোগের আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে গত বছরে গম আবাদে নিরুতসাহিত করে কৃষি বিভাগ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গম চাষ করে চাষিরা।

গমের শীষ বের হবার সাথে সাথে ব্ল্যাস্ট রোগে আক্রান্ত হয় গম ক্ষেত।বিভিন্ন প্রকার ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও কোন কাজ হয়নি।এদিকে হঠাৎ করে গম ক্ষেত আক্রান্ত হবার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়ে কৃষকেরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব মতে ২০০১৭ও ২০০১৮অর্থবছরে জেলায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে গমের আবাদ পুড়িয়ে ফেলতে হয়েছিলো।

গাংনী উপজেলার দর্মচাকী গ্রামের গম চাষী শুকুর আলী জানান,২০০১৭ সালে তার ৪ বিঘা জমিতে গম চাষ করেছিলেন। কিন্ত হুইট ব্ল্যাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় জমির গম জমিতেই পুড়িয়ে ফেলতে হয়।

ধর্মাকী গ্রামের গম চাষী শুকুর আলী আরও জানান,চলতি বছরে তিনি ৩ বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছেন।কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে শোধীত বীজ বপন করে ও বিভিন্ন ধরনের ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করে এবছর ব্লাস্ট আক্রমণ হয়নি।এবার গম চাষে লাভবান হবেন বলে তিনি জানান।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

জীবননগরে ভালোবাসায় সিক্ত হলেন যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল

জীবননগর প্রতিনিধিঃ জীবননগরে রাজনৈতিক, সুধী, সাংবাদিক ও স্থানীয় সাধারণ জনগনের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন জীবননগর উপজেলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *