সর্বশেষ
Home / রাজনীতি / গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: মওদুদ

গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: মওদুদ

নির্বাচনের আগে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেই সরকার ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

আজ শুক্রবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, এই আইনটি করা হয়েছে নির্বাচনের আগে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের রাখার জন্য। ৫৭ ধারায় যে বিধান ছিলো সেটাকে এখন চারটা সেকশনের মধ্যে দিয়ে দিয়েছে। একটাই মাত্র কারণ, একটা মাত্র উদ্দেশ্য হলো গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেবে না, তাদেরকে আমাদের নিয়ন্ত্রনের রাখতে হবে।

নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য মরহুম আ স ম হান্নান শাহের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের সহ-সভাপতি মজিবর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবিরা নাজমুল, ফরিদউদ্দিন, ভিপি ইব্রাহিম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারাসমূহ তুলে ধরে সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, এই আইনে আরো ডেনজারাস প্রভিশন করেছেন সেকশন ৩২ তে। এই সেকশনে সরকারের কোনো কাগজপত্র যদি আপনি খবরের কাগজে দেন তাহলে আপনার খবর আছে। ১৪ বছরের সাজা ও ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা। এর অর্থটা কী? এর অর্থ হলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ করে দেয়া, তাদের টুটি চেপে ধরা, তাদের হাত-পা বেঁধে দেয়া, তাদের বিচার শক্তি তাদের বলার শক্তি, তাদের স্বাধীনতা, তাদের সংবাদ উপস্থাপন করার যে বাক যেটা সংবিধানের পরিপন্থি সেটা করা হয়েছে শুধুমাত্র নিজেদের ক্ষমতায় থাকার জন্য।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার লেখা ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ বইকে ঐতিহাসিক দলিল অভিহিত করে তিনি বলেন, এই বইটাতে স্পষ্ট করে তিনি বলে দিয়েছেন কী করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের উপরে সরকার রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতেন এবং তিনি বলে দিয়েছেন কী কারণে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন নাই।

 

সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাদের ভয়ে-ভীতিতে বিচারপতিরা কম্পিত ছিলেন এবং তারা স্বাধীনভাবে বিচার কায্র্ পরিচালনা করতে পারেন নাই। ষোড়শ সংশোধনীর সংবিধান পরিপন্থি বলে উনিসহ ৬ জন রায় দিয়েছেন। আমি মনে করি ষোড়শ সংশোধনী রায় এবং এসকে সিনহার এই বই আমাদের রাজনৈতিক বলেন বা আমাদের সামাজিক জীবনে বলেন একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে থাকবে। তার এই বই যুগ যুগ ধরে এদেশের মানুষ স্মরণ করবে।

 

গুলশানে নিজের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে মওদুদ আহমদ বলেন, তিনি রায় দিয়েছিলেন আমার বাড়ির ব্যাপারে। উনি বলেছিলেন যে, এটা সরকারি বাড়ি নয়। কিন্তু তিনি একটা অন্যায় কাজ করেছেন। সেটা হলো যদি এটা সরকারের বাড়ি না হয়, তাহলে তিনি সরকারের আপীল কেনো গ্রহণ করলেন। ঠিক আছে ওটা বলেছেন- সরকারি বাড়ি নয়। কিন্তু আপীল গ্রহণ করে আমাকে টেকনিক্যাল গ্রাউন্ডে করেছেন।

সরকার সেই রায়ের সুযোগ নিয়ে জোর করে আমাকে আমার বাড়ি থেকে পুলিশ পাঠিয়ে দখল করে নিয়েছে। তারপরেও আমি মনে করি, এসকে সিনহার ষোড়শ সংশোধনী রায়কে ডিফেন্ড করি এবং তার এই বইয়ের প্রশংসা করি। তার এই ভুমিকার জন্য তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

প্রচারণার পেরেক ঠুকে প্রতিনিয়ত গাছের সর্বনাশ: চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের রাজনীতি এখন গাছে গাছে!

সাইদুল ইসলাম: চুয়াডাঙ্গা-২ আসন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক সরগরম হয়ে উঠেছে। আওয়ামীলীগ, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *