সর্বশেষ
Home / রাজনীতি / খালেদা জিয়া বলেছেন- সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : মির্জা ফখরুল

খালেদা জিয়া বলেছেন- সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : মির্জা ফখরুল

সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্ব শর্ত হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বর্তমান সংসদ বাতিলসহ সাত দফা দাবি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এসব দাবি মানা না হলে দলটি কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে জেলা ও বিভাগীয় শহরে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। একইসাথে জনগণের ভোটে সরকার গঠন করলে প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাসহ ১২টি লক্ষ্য স্থির করেছে দলটি।

বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী দিনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া আমাদের বলেছেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ দানব সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। কারণ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া মুক্তির কোনো উপায় নেই।

রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল জনসভা থেকে দলটির সাত দফা দাবি ও ১২ লক্ষ্য ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ঘোষিত দাবি আদায়ে পর্যায়ক্রমে আমরা আন্দোলনকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাবো। ইনশাআল্লাহ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এ সরকারকে বাধ্য করব দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে, তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে এবং আমাদের যেসব নেতাকর্মী বন্দী রয়েছেন তাদের মুক্তি দিতে।’

জনসভায় দলের সিনিয়র নেতারাও আন্দোলনের সুস্পষ্ট বার্তা দেন। তারা গণতন্ত্রকামী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকার পতনের আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান। শিগগরিই পরিবর্তন আসবে নেতাকর্মীদের এমন আশাবাদ শুনিয়ে তারা বলেন, স্বৈরাচারী এ সরকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে। তাদের বিদায় হবে খুবই করুণ।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এ জনসভায় রোববার জনতার ঢল নেমেছিল। সকাল ১০টার পর থেকেই ঢাকা মহানগর, অঙ্গসংগঠন ও আশপাশের জেলাগুলোর নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতিসংবলিত পোস্টার হাতে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন। বেলা ২টার মধ্যেই উদ্যানের মাঠ ও এর চারপাশের এলাকা নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে তিল পরিমাণ ঠাঁই ছিল না। জনসভাটি জনসমুদ্রে রূপ নেয়। উদ্যান পেরিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মূল ফটকের সামনে, মৎস্যভবন থেকে শাহবাগ সড়কেও দেখা যায় জনস্রোত। নেতাকর্মীরা- ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘খালেদা জিয়া এগিয়ে চলো আমরা আছি তোমার সাথে’, ‘শেখ হাসিনার গদিতে আগুন জ্বালাও একসাথে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

মঞ্চে টাঙানো ব্যানারে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবির পাশেই বড় অক্ষরে লেখা ছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি। প্রতীক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে সমাবেশে প্রধান অতিথি রাখা হয়। মঞ্চে তার চেয়ারও ছিল ফাঁকা।

সুষ্ঠু নির্বাচনে ৭ দফা : সভাপতির বক্তব্যে সাত দফা ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব। এসব দফার মধ্যে রয়েছে-একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি ও তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। জাতীয় সংসদ বাতিল করতে হবে। সরকারের পদত্যাগ ও সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনাসাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার বিধান নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে তাদের ওপর কোনো ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ না করা ও দেশের বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনী ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন কোনো মামলা না দেয়ার নিশ্চয়তা, পুরনো মামলায় কাউকে গ্রেফতার না করার নিশ্চয়তা, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশের অভিযোগে ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির নিশ্চিয়তা দিতে হবে।

ক্ষমতায় গেলে করণীয় ১২ দফা : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কী করবে সেগুলো ১২টি লক্ষ্য আকারে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা যদি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারি তাহলে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।

এসব লক্ষ্যের মধ্যে আরো রয়েছে-দলীয়করণের ধারার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রক্ষমতার গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা, সশস্ত্র বাহিনীর আরো আধুনিকায়ন, শক্তিশালী ও কার্যকর করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে শক্তিশালী করা, প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি, কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়া, সবার সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়- এ পররাষ্ট্র নীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, নিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবনমান নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন-মজুরি নির্ধারণ, সবার জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকারভাতা, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যবীমা চালু, কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, শিল্প-বাণিজ্য ও কৃষির সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও আধুনিক করা।

স্নাতকপর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক এবং উচ্চশিক্ষা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে জীবনমুখী শিক্ষানীতি চালু করা, তৈরী পোশাক শিল্পের অব্যাহত উন্নয়ন এবং শিল্প ও রফতানি খাতকে বহুমুখী করা, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে উন্নয়নের ধারাকে গ্রামমুখী করা, তরুণ প্রজন্মের প্রতিভার বিকাশ ও তাদের আধুনিক চিন্তাচেতনাকে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষা, তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া প্রভৃতি।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

প্রচারণার পেরেক ঠুকে প্রতিনিয়ত গাছের সর্বনাশ: চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের রাজনীতি এখন গাছে গাছে!

সাইদুল ইসলাম: চুয়াডাঙ্গা-২ আসন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক সরগরম হয়ে উঠেছে। আওয়ামীলীগ, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *