সর্বশেষ
Home / অর্থনীতি / কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশেও সুদ কমায়নি পাঁচটি ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশেও সুদ কমায়নি পাঁচটি ব্যাংক

image-45456-1478111433ডেস্ক: ঋণের সুদ কমিয়ে আনতে আমানত ও ঋণের সুদ হারের ব্যবধান (স্প্রেড) ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে নামিয়ে আনতে ২২ ব্যাংককে সময়সীমা বেঁধে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে ১৩ ব্যাংকের সময় দেওয়া হয় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ে নির্দেশনা মেনে ৮টি ব্যাংক স্প্রেড ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে নামিয়ে আনলেও ৫টি ব্যাংক সুদ হার কমায়নি। এদিকে আগে ঋণের সুদ হার কম থাকলেও গত সেপ্টেম্বরে তা নতুন করে বাড়িয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত টাকার প্রবাহ ও ঋণের চাহিদা কম থাকার কারণে আমানত নেওয়া কমিয়েছে ব্যাংকগুলো। ফলে দ্রুত কমেছে আমানতের সুদের হার। এর সঙ্গে ঋণের সুদের হারও কমানোর কথা। কিন্তু ঋণের সুদের হার খুব একটা কমানো হয়নি। যে কারণে ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্প্রেড অনেক বেশি। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিনিয়োগের মন্দা দূর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমিয়ে ঋণের চাহিদা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার না কমানোর কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলতি বছরে মে মাসের স্প্রেড সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ২২টি ব্যাংক ঋণ ও আমানতের মধ্যকার সুদের হারের ব্যবধান ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের ওপরে ছিল। এদের আমানতের সুদের হার অনেক কম এবং ঋণের সুদের হার অনেক বেশি। ফলে তাদের ঋণ ও আমানতের সুদের হারের মধ্যকার ব্যবধানও বেশি। এই ব্যবধানের কারণে একদিকে গ্রাহকরা ব্যাংকে আমানত রেখে ভালো মুনাফা পাচ্ছে না, অন্যদিকে ঋণ গ্রহীতারাও কম সুদে ঋণ নিয়ে তা ব্যবসায়িক কাজে লাগাতে পারছে না।

এর মধ্যে ১৩টি ব্যাংকের স্প্রেড ৫ থেকে ৬ শতাংশীয় পয়েন্টের মধ্যে। এই ব্যাংকগুলোকে স্প্রেড ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে নামিয়ে আনতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। গত মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এর মধ্যে এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, মেঘনা ও মধুমতি ব্যাংক নির্দেশনা মানেনি। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক নির্দেশনা মেনে স্প্রেড কমিয়ে এনেছে। অন্যদিকে নতুন করে নির্দেশিত মাত্রা অতিক্রম করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। গত মে মাসে স্প্রেড ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশীয় পয়েন্ট থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৩০ শতাংশীয় পয়েন্ট।

মধুমতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সফিউল আজম বলেন, বর্তমানে আমাদের স্প্রেড ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে। তবে সেপ্টেম্বরে স্প্রেড কত ছিল এটি সঠিক মনে নেই।

অন্যদিকে নির্দেশনা মেনে স্প্রেড ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে নামিয়ে এনেছে উরি ব্যাংক, দি সিটি, পূবালী, ইস্টার্ন, ঢাকা, ব্যাংক এশিয়া ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক।

উল্লেখ্য, ৬ থেকে ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট স্প্রেড থাকা ৬টি ব্যাংককে ৩০ অক্টোবর, ৮ থেকে ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট থাকা স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াকে ৩০ নভেম্বর এবং ৯ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি স্প্রেড থাকা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও ব্র্যাক ব্যাংককে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্প্রেড সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে ব্যাংকগুলো আমানতের বিপরীতে গড়ে ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ সুদ দিয়েছে। ঋণের বিপরীতে আদায় করেছে ১০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ভোক্তা ও ক্রেডিট কার্ডের ঋণের সুদ হার বাদে সেপ্টেম্বরে স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ভোক্তা ঋণ ও ক্রেডিটসহ স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। মে মাসে স্প্রেড ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে তিন মাসের ব্যবধানে নির্দেশিত মাত্রার তুলনায় স্প্রেড বেশি থাকা ব্যাংকের সংখ্যা ২২টি থেকে ১৮টিতে নেমে এসেছে

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

বেস্ট ইলেক্ট্রনিক্সের বাৎসরিক ডিলার সম্মেলনে মোটর বাইক উপহার

সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বেস্ট ইলেক্ট্রনিক্সের বাৎসরিক ডিলার সম্মেলন ২০১৮। সোমবার কক্সবাজারের স্যায়মান বীচ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *