সর্বশেষ
Home / অর্থনীতি / কঠিন শর্তে ভারতের ঋণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে : বিশেষজ্ঞ মতামত

কঠিন শর্তে ভারতের ঋণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে : বিশেষজ্ঞ মতামত

b.phpডেস্ক রিপোর্টার : বাংলাদেশের শর্ত শিথিলের দাবি উপেক্ষা করে ৩৬ হাজার কোটি টাকার ঋণচুক্তির পর ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি ‘নিজস্বার্থেই’ এই চুক্তি সম্পন্নের কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘নিজেদের স্বার্থে ভারতের প্রয়োজন একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।’ তবে এই ঋণকে বায়ার্স ক্রেডিট উল্লেখ করে বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, ভারত প্রথম ক্রেডিট লাইনই এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ছাড় করেনি। তাই তৃতীয় ক্রেডিট লাইনের চুক্তি করে দায় বাড়ানোর কোন মানে হয় না। অবশ্য ভারতীয় ঋণ চুক্তির অর্থ ছাড়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ভারতের লাইন অব ক্রেডিট ঋণের ১ বিলিয়ন এবং ২ বিলিয়ন চুক্তির পর অর্থ ছাড় সন্তোষজনক নয়। তবে এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।
গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক শেষে অরুণ জেটলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদার হতে চায় ভারত। নিজেদের স্বার্থে ভারতের প্রয়োজন একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আমরা আমাদের পারস্পরিক সংযোগ গভীর করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ।’
সকালে ভারতের অর্থমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরে অর্থমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দুই দেশের অর্থমন্ত্রীর বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে সাড়ে চারশ কোটি ডলারের ক্রেডিট লাইন এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর হয়। যা টাকার অংকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব এবং ভারতের পক্ষে দেশটির এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই ঋণে আগের চেয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন অনেক দ্রæত হবে বলে আশা করছেন দুই দেশের অর্থমন্ত্রী। ভারতের তৃতীয় এলওসির এই অর্থের জন্য বছরে এক শতাংশ হারে সুদ আর প্রতিশ্রæতি মাশুল আধা শতাংশ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে।
এই ঋণের অনুকূলে গৃহীত প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ পণ্য বা সেবা ভারতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে আনতে হবে। এছাড়া কমিটমেন্ট ফি, গ্রেস পিরিয়ডসহ পরিশোধের সময় কমসহ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর আগে এই শর্তে আরও দু’বার ঋণ নিয়েছে সরকার। কিন্তু তৃতীয় দফায় কমিটমেন্ট চার্জ কমানোসহ শর্ত শিথিলের অনুরোধ করে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে এ নিয়ে নেগোশিয়েশন করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হয়নি।
এই ঋণের অর্থ ব্যবহারে মোট ১৭ প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে তৃতীয় দফার এ ঋণ চুক্তির শর্ত শিথিলের বিষয় নিয়ে উভয় দেশের প্রতিনিধি দলের আলোচনা হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘কমিটমেন্ট ফি’ (প্রতিশ্রæতি ফি) শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বাতিল ও প্রথম এলওসির মতো কিছু অংশ অনুদান দেয়ার দাবি জানানো হয়। ভারতীয় প্রতিনিধি দল এসব দাবি ভেবে দেখবে বলে জানায়। যা পরে আর জানানো হয়নি।
ইআরডির অতিরিক্ত সচিব শহিদুল ইসলাম বলেন, ইআরডির পক্ষ থেকে চুক্তির কয়েকটি বিষয় নিয়ে শর্ত শিথিলের কথা বলা হয়েছে। আমরা কমিটমেন্ট ফি বাতিলের কথা বলেছি। যা তারা তারা (ভারত) নোট নিয়েছে। এছাড়া তৃতীয় এলওসির কিছু অংশ অনুদান ঘোষণার দাবি আসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর পক্ষ থেকে। কিন্তু তারা চুক্তির আগেই জানাবে বলে জানিয়েছিল ইআরডিকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঋণ দিয়ে বস্তুত একতরফাভাবে লাভবান হতে চায় ভারত। কেননা ভারতের অনেক পণ্যই গুণগত মানসম্পন্ন নয়। তবুও অন্য কোনো দেশ থেকে গৃহীত প্রকল্পের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় করা যাবে না। এর আগে এলওসির আওতায় বিআরটিসির যেসব বাস নেয়া হয়েছে, তার সবই নষ্ট হয়ে গেছে।
তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আমি সবসময় বলছি এগুলো তো হচ্ছে মোটামুটি সাপ্লাায়ার্স ক্রেডিট। এসব ঋণে আপাতত দৃষ্টিতে দেখা যাবে সুদের হার হয়তো খুব একটা বেশি না। কিন্তু ভারত থেকে অধিকাংশ জিনিসপত্র কিনতে হবে। কেনার সময় কোনো টেন্ডার হবে না এর ফলে তো জিনিসের দাম বেশি হবে। এতে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাবে। এর মানে হচ্ছে, আমি সুদের হার কম নেব কিন্তু জিনিসপত্রে দাম বেশি নিয়ে সুদের হারের বিষয়টি পুষিয়ে নেব।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে আমি খুব একটা পক্ষপাতী না। এ চুক্তি করে আমাদের তেমন লাভ হবে না। পাইপলাইনে আটকেপড়া সহজ শর্তের প্রায় তিন হাজার ২০০ কোটি ডলার পড়ে আছে, আমরা ব্যবহার করতে পারি না। এসব সহজ শর্তের ছাড় করা গেলে এবং যথাযথভাবে ব্যয় করতে পারলে এ ধরনের ঋণ নেয়ার দরকার নেই। তাছাড়া ভারতের এটা তৃতীয় ঋণচুক্তি হতে যাচ্ছে। প্রথমটাই মনে হয় এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। দ্বিতীয়টাও খুব সামান্য ব্যবহার হয়েছে। কাজেই খামাখা একটার পর একটা চুক্তি করে দায়বদ্ধতা বাড়ানোর তো কোনো অর্থ হয় না।
আগের দুটি এলওসিতে মোট ৩০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়। গত জুন মাস পর্যন্ত প্রথম এলওসির মাত্র ৩৫ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। প্রথম এলওসির ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি প্রকল্প শেষ হয়েছে। তবে দ্বিতীয় এলওসির কোন প্রকল্পে অর্থ ছাড় হয়নি এখনও।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের প্রথম এলওসি ঋণচুক্তি হয় ২০১০ সালে। পরে অবশ্য ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার অনুদানে রূপান্তর করে ভারত। এরপর ২০১৫ সালের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় ২০০ কোটি ডলার ঋণ বা দ্বিতীয় এলওসির সমঝোতা চুক্তি হয়। পরে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি হয়। এ ঋণের আওতায় ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা হাতে নেয় বাংলাদেশ।
ভারতের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ভারতের সঙ্গে ঋণ চুক্তিকে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির সুসম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ বলে সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এ ঋণ বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সুসম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।’
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ভারত থেকে নেওয়া ক্রেডিট লাইনের প্রথম পর্যায়ের এক বিলিয়ন ডলারের ঋণ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ের দুই বিলিয়ন ডলারের ঋণ বাস্তবায়ন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তবে তা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এবার তৃতীয় ধাপের ঋণ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হবে। এ জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত এ ঋণের অর্থ ব্যয় হবে সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। তিনি আরও বলেন, ‘এ ঋণের সুদ হার অনেক কম এবং ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেখে ভারতের অর্থমন্ত্রী মুগ্ধ বলে জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অন্য দেশের জন্য মডেল হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এখন দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও অত্যন্ত চমৎকার।’
অরুণ জেটলি বলেন, সা¤প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশকে তিনটি পর্যায়ে মোট আটশ কোটি ডলারের ঋণ দিয়েছে ভারত। যা এ পর্যন্ত ভারতের দেওয়া কোনও দেশকে সর্বোচ্চ ঋণ। অনেক কম সুদে এ ঋণ দেওয়া হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আজ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে যা অন্যান্য দেশের জন্য অনুসরণযোগ্য একটি মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশকে ভারতের সরকারি-বেসরকারি খাতের বিভিন্ন কোম্পানির নানা বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন।
তিনি আরও বলেন, তৃতীয় ঋণ চুক্তি সইয়ের ফলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, রেলপথ, সড়ক, জাহাজ চলাচল, বন্দর ইত্যাদি অবকাঠামোগত গুরুত্বপূর্ণ খাতের ১৭টি পূর্ব চিহ্নিত অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এ ঋণের সুদ হার বছরে মাত্র এক শতাংশ। যা ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে।
ভারতের অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের দ্রæত অগ্রগতি দেখে আমি মুগ্ধ। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে, যা ক্রমবর্ধমান।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী ও আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে ঘোষিত সাড়ে চারশ কোটি ডলারের তৃতীয় ঋণ চুক্তি সই প্রত্যক্ষ করলাম।’
সূত্র মতে, গত সাত বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো বড় ধরনের ঋণ দিল ভারত, যা তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) নামে পরিচিত। বৈদেশিক ঋণচুক্তির ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় বড় ঋণ। এরআগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণচুক্তি হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত আকারে সবচেয়ে বড় ঋণ।
ভারতের দেয়া ৪৫০ কোটি ডলার বা ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণের অর্থ দিয়ে ১৭টি প্রকল্প করার জন্য একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে বাংলাদেশ। তবে ঋণচুক্তিতে কোন প্রকল্পের নাম উল্লেখ নেই বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে।
প্রাথমিক তালিকায় থাকা প্রকল্পগুলো হলো- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নয়ন, পায়রা বন্দরের বহুমুখী টার্মিনাল নির্মাণ, মোংলা বন্দর উন্নয়ন, বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার ও তীর সংরক্ষণ, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত দ্বৈতগেজ রেলপথ নির্মাণ, সৈয়দপুর বিমানবন্দর উন্নতকরণ, বেনাপোল-যশোর-ভাটিয়াপাড়া-ভাঙ্গা সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা, ঈশ্বরদীতে কনটেইনার ডিপো নির্মাণ, চট্টগ্রামে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, কাটিহার-পার্বতীপুর-বরনগর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন তৈরি, চট্টগ্রামে ড্রাই ডক নির্মাণ, মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট থেকে রামগড় পর্যন্ত চার লেনে সড়ক উন্নীত করা, মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, মোল্লাহাটে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর হয়ে সরাইল পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ১ লাখ এলইডি বাল্ব সরবরাহ প্রকল্প।
এদিকে, গতকাল হোটেল সোনারগাওঁয়ে পলিসি রিসার্স ইনিস্টিটিউট অব বাংলাদেশ এবং ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত ‘ভারত সরকারের ম্যাক্রোইকোনমিক উদ্যোগ : ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিমোনিটাইজেশন অ্যান্ড ক্যাশলেস ইকোনমি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভারতের অর্থমন্ত্রী। এ সময় তিনি ডিজিটাল লেনদেনের (ক্যাশলেস) সুবিধার কথা তুলে ধরেন। এটা বাড়ানোর ফলে ভারতে ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে দেশটির রাজস্ব আয়। অন্যদিকে কমেছে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন। ফলে গোটা ভারতের অর্থনীতিতে একধরনের আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে ক্যাশলেস লেনদেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিয্ক্তু ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধণ শ্রিংলাসহ দুই দেশের অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দু’দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সুরক্ষার চুক্তির উপর যৌথ ব্যাখ্যামূলক নোটসমূহ গতকাল স্বাক্ষরিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে শিল্প সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ স্বাক্ষর করেন।
এদিকে আজ ৫ অক্টোবর দুই দেশের যৌথ সংবাদ সম্মেলন হবে। পরে ঢাকা ছাড়বেন জেটলি।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে বাংলাদেশের জন্য ৪৫০ কোটি ডলারের একটি ভারতীয় ক্রেডিট লাইন এগ্রিমেন্টের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ চুক্তি সই হলে বাংলাদেশকে ভারতের দেওয়া সর্বমোট ক্রেডিট লাইনের পরিমাণ দাঁড়ায় আটশ কোটি ডলার। তৃতীয় ডলার ক্রেডিট লাইন চুক্তি সইয়ে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা অর্জন করবে।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

আ.লীগের সঙ্গে ইসলামি দল বেশি

প্রচলিত ধারণা, ইসলামপন্থী দলের ভোট বিএনপির দিকে বেশি যায় ইসলামপন্থী ভোটব্যাংকের দিকে নজর আ. লীগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *