সর্বশেষ
Home / বিনোদন / একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: দুই দলের মনোনয়ন দৌড়ে তারকারাও

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: দুই দলের মনোনয়ন দৌড়ে তারকারাও

সারাবিশ্বেই তারকাদের নির্বাচন করার নজির আছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও দিন দিন তারকাদের উপস্থিতি বাড়ছে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন পেতে দলীয় নেতারা যেমন চেষ্টা ও তদবিরে নেমেছেন, তেমনি বিভিন্ন পেশার তারকারাও পিছিয়ে নেই। ব্যবসায়ী, চিকিৎসক ক্রীড়াবিদসহ চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের অনেকেই এবার মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাদের কেউ কেউ নির্বাচনী তৎপরতাও শুরু করেছেন। নানা মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন তারা।

দুই দলের হাইকমান্ড থেকে বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যে ‘সবুজ সংকেত’ও দেয়া হয়েছে। এরপরই তারা বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন। তারকাদের মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিগত নির্বাচনে বেশ কয়েকজন তারকাকে মনোনয়ন ও তাদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হয়। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও খ্যাতিমান অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, অভিনেত্রী তারানা হালিম ও ফুটবলার আরিফ খান জয় বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্য। আগামী নির্বাচনেও তারকাদের মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে আরও ইতিবাচক দলটি।

পেশাজীবী তারকাদের রাজনীতির প্রতি আগ্রহী করে তুললেও তাদের মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে আছে বিএনপি। ক্ষমতাসীনদের মতো এবার বিএনপিও তারকাদের মনোনয়ন দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন ও মনির খানকে ইতিমধ্যে গ্রিন সিগনাল দেয়া হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজন তারকাও আছেন আলোচনায়।

তারকাদের মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, বিভিন্ন সেক্টরের তারকাদের নির্বাচনে অংশ নেয়া সারাবিশ্বেই একটি রেওয়াজ। সেটা যেমন আমেরিকায়ও হয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও হয়। আওয়ামী লীগ থেকে অতীতেও তারকারা মনোনয়ন পেয়েছেন, আগামী নির্বাচনেও পেতে পারেন। বেশ কয়েকজন তারকা ইতিমধ্যে নৌকা মার্কা নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থিতার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এদের মধ্যে প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তির কেউ কেউ মনোনয়ন পেতেও পারেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যুগান্তরকে বলেন, এ মুহূর্তে আমরা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকেই অধিক প্রাধান্য দিচ্ছি। তাকে মুক্ত করে এ দেশে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই। এরপর সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করি।

তিনি বলেন, মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে দলের প্রতি কমিটমেন্ট, স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্যতাসহ আরও বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হয়। নেতাদের পাশাপাশি পেশাজীবীদের মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারেও এসব বিষয় বিবেচনায় আনা হবে।

গয়েশ্বর বলেন, পেশাজীবীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনিই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেশাজীবীদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তার ডাকে বিভিন্ন পেশার লোকজন রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হন। সেই ধারা এখনও অব্যাহত আছে। আগামী নির্বাচনে যেসব তারকার জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাদের অবশ্যই দলীয় মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগ : বরাবরের মতো আগামী নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন এক ঝাঁক তারকা। অনেকে প্রার্থী হতে আগ্রহী হলেও বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

বর্তমান সংসদেও কয়েকজন তারকা আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হয়েছেন। কেউ কেউ সংরক্ষিত কোটায়ও এমপি হয়েছেন। এদের মধ্যে নাট্যশিল্পী আসাদুজ্জামান নূর (নীলফামারী-২) এমপি হয়ে এবার সংস্কৃতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। অবশ্য নূর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাও ছিলেন। এ ছাড়া কণ্ঠশিল্পী মমতাজ (মানিকগঞ্জ-২), ক্রিকেটার নাঈমুর রহমান দুর্জয় (মানিকগঞ্জ-১), যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী ফুটবলার আরিফ খান জয় (নেত্রকোনা-২) প্রমুখ এ তালিকায় রয়েছেন। আর তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি। তিনি এবার টাঙ্গাইল-৬ থেকে সরাসরি নির্বাচন করতে চান। এর আগে চিত্রনায়িকা কবরীও (নারায়ণগঞ্জ-৪) এমপি হয়েছিলেন।

দুই ক্রিকেট তারকার নির্বাচন করার বিষয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয় গত ২৯ মে। সেদিন একনেকের বৈঠক থেকে বের হয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এবং ক্রিকেট সংগঠক মোস্তফা কামাল বলেন, জাতীয় ক্রিকেট দলের দুই খোলোয়াড় মাশরাফি বিন ম–র্তজা এবং সাকিব আল হাসান নির্বাচন করবেন। তাদের জন্য অগ্রিম ভোটও চান তিনি। এর পরদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাসায় যান সাকিব। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষে ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার বলেন, তারা দু’জন নির্বাচন করবেন কিনা সেটা বিশ্বকাপের পরে নিশ্চিত করে বলা যাবে। তবে তিনি সেদিন জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের ক্ষেত্রে চমক থাকবে। অবশ্য তার আগেই ৩০ মে বুধবার দলের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ নিয়ে কথা বলেন। সেদিন এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সারাবিশ্বেই তারকাদের নির্বাচন করার নজির আছে। এ দেশেও তারকারা নির্বাচন করতেই পারেন।

মাশরাফি ও সাকিবের বিষয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী নির্বাচনে এ দু’জনকে নির্বাচনের মাঠে দেখা যেতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একটি সূত্র যুগান্তরকে জানায়, এ দু’জনকে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং পছন্দ করেন। মাশরাফি নড়াইল থেকে এবং সাকিব মাগুরা থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন।

সাবেক ফুটবলার এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদী অনেকদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি খুলনা-২ অঞ্চলের ছেলে। ওখান থেকেই উঠে এসেছি। জাতীয় দলের হয়ে ফুটবল খেলেছি, ব্যবসায়ী সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছি। রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে। জনগণের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে চাই। দল যদি উপযুক্ত মনে করে এবং মনোনয়ন দেয় তাহলে এ আসনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে পারব। আর জনগণের প্রতি যে দায়িত্ব রয়েছে তা পুরোপুরি পালন করতে পারব বলে আত্মবিশ্বাসী।

চিত্রনায়িকা শাবানা তার স্বামী চলচ্চিত্র প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিকের জন্য বেশ জোরেশোরেই নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন। ২০১৭-এর জুন মাসে তিনি স্বামীসহ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখাও করেছেন। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে নির্বাচন করতে চান ওয়াহিদ সাদিক।

আওয়ামী লীগ থেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে চান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও প্রযোজক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের একাংশের সভাপতি ফারুক গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ-গাজীপুর মহানগর-সদর আংশিক) আসনে নৌকার প্রার্থী হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। আকবর হোসেন পাঠান ফারুক যুগান্তরকে বলেন, ৫৮ বছর ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলের সুসময়-দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। সামনের নির্বাচনে তিনি গাজীপুর-৫ থেকে মনোনয়ন চাইবেন। দল উপযুক্ত মনে করে তাকে প্রার্থী করলে নৌকার বিজয় উপহার দিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজের কাছে মনোনয়ন চাওয়া নিয়ে জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি আমাকে রাজনীতিতে এনেছেন। প্রথমে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বানিয়েছেন। তারপর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি তার আস্থার প্রতিদান দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।

নাট্যাভিনেত্রী শমী কায়সার আগামী নির্বাচনে নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছও নোয়াখালী-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীও। ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনি। খ্যাতিমান চলচ্চিত্রাভিনেতা ও পরিচালক এটিএম শামসুজ্জামান ঢাকা-৬ (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী।

নায়িকা অরুণা বিশ্বাস চাইছেন মানিকগঞ্জ-১ (দৌলতপুর-ঘিওর-শিবালয়) আসনে দলীয় মনোনয়ন। এ আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয়। প্রার্থিতা নিয়ে অরুণা বিশ্বাস বলেন, আমার বাবা অমলেন্দু বিশ্বাস, মা জ্যোৎস্না বিশ্বাস আজীবন দেশ ও সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিত ছিলেন। তার পথ অনুসরণ করে আমিও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মনের মধ্যে লালন করেছি। আওয়ামী লীগের হয়ে অনেক বছর ধরে নানা কার্যক্রমের সঙ্গে অংশ নিয়েছি।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের বাইরে প্রখ্যাত চিকিৎসক নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত (কুমিল্লা-৭) মনোনয়ন পেতে পারেন। চিকিৎসা জগতে ডা. প্রাণ গোপালের নাম রয়েছে। দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম ব্যক্তিগত চিকিৎসকও তিনি। বঙ্গবন্ধু শেক মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ ভিসি যুগান্তরকে বলেন, তিনি আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন। এলাকার সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দল যদি মনোনয়ন দেয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব আর আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য কাউকে দিলে তাকে জেতাতে কাজ করব।

এ ছাড়া সাবেক তারকা ফুটবলার দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল (মানিকগঞ্জ-২), চিত্রনায়ক শাকিল খান (বাগেরহাট-৩), চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী (নারায়ণগঞ্জ-৪) ও অঞ্জনা সুলতানা চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসন থেকে নির্বাচন করতে চান।

বিএনপি : তারকাদের মনোনয়ন দেয়ার রেকর্ডে অনেকটা পিছিয়ে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। তবে আগামী নির্বাচনে বেশ কয়েকজন তারকাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা চলছে। বিশিষ্ট সুরকার ও গীতিকার গাজী মাযহারুল আনোয়ার কুমিল্লা থেকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু ওই আসনে দলের প্রভাবশালী এক নেতা থাকায় তাকে ঢাকার একটি আসন থেকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে।

গাজী মাযহারুল আনোয়ার যুগান্তরকে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এরপর তার নেতৃত্বে মুগ্ধ হয়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে অবশ্যই নির্বাচন করব। যেখান থেকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন আশা করি ধানের শীষের জয় উপহার দিতে পারব।

বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী বেবী নাজনীন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে দলটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাকদের দায়িত্বে আছেন। দলের হাইকমান্ডের তার প্রতি আস্থা রয়েছে। তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়া সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তিনি।

বেবী নাজনীন যুগান্তরকে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্নেহ ও ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। পেশাজীবী হয়েও নানা মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে কাজ করে আসছি।

তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমরা আমাদের মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তিকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। তাকে নিয়েই আমরা একাদশ নির্বাচনে যেতে চাই। বেবী নাজনীন বলেন, হাইকমান্ডের নির্দেশে নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছি। সর্বশেষ চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে ইফতার-পূর্ব দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করেছি। তিনি বলেন, দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, আশা করি বিপুল ভোটে জয়লাভ করব। কারণ, দলের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষও আমাকে সমর্থন দেবে।

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনির খান এখন বিএনপির রাজনীতিতে বেশ সক্রিয়। জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক। আগামী নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৩ থেকে নির্বাচন করার পুরোপুরি প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

মনির খান যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জাতীয়তাবাদী পতাকা তুলে ধরার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ঝিনাইদহ থেকে নির্বাচন করার সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছি। দল মনোনয়ন দিলে দেশের অন্য আসনে কী হবে বলতে পারি না, তবে আমার আসনে ধানের শীষের নিশ্চিত জয় হবে এটা বলতে পারি।

তারকা ফুটবলার আমিনুল হক বিএনপির রাজনীতিতে এখন বেশ পরিচিত মুখ। দলের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক। মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক এখন রাজনীতিতে ভালো কিছু করতে চান। আগামী নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঢাকা-১৬ আসনে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছেন।

আমিনুল যুগান্তরকে বলেন, আমাদের পরিবার সব সময় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু খেলোয়াড় থাকাকালে কখনও রাজনীতির বিষয়টি সামনে আনিনি। খেলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি। খেলা থেকে অবসর নেয়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছি।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ঢাকা-১৬ থেকে নির্বাচন করতে চাই। দল যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে অবশ্যই ধানের শীষের বিজয় উপহার দিতে পারব বলে আশা করি।

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। এক সময় বিএনপির রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় থাকলেও মাঝে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। ইদানীং আবার সক্রিয় হচ্ছেন। কুমিল্লা সদর আসন থেকে নির্বাচন করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। জনপ্রিয় চিত্রনায়ক হেলাল খান বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমানে জাসাসের সাধারণ সম্পাদক। আগামী নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন চাইবেন এবং সেই প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। সিলেটের একটি আসন থেকে তার নির্বাচন করার কথা রয়েছে।

অভিনেতা বাবুল আহমেদ বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। জাসাসের রাজনীতিতে বেশ সক্রিয়। আগামী নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী কনকচাঁপা। তিনিও পিছিয়ে নেই। সিরাজগঞ্জ থেকে এবার নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। সঙ্গীত জগতের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র রিজিয়া পারভীন। জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা। তিনিও আগামী নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করতে চান। টাঙ্গাইল থেকে তার নির্বাচন করার কথা রয়েছে।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

ঝিনাইদহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২জন নিহত আহত একজন

ঝিনাইদহ সংবাদদাতাঃ ঝিনাইদহে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু ঘটেছে। আহত হয়েছে একজন। সোমবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *