সর্বশেষ
Home / শিক্ষা / জীবননগরের উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ!

জীবননগরের উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ!

ovijog13জীবননগর অফিস: রোববার সকাল থেকেই উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পরিবেশ ছিল থমথমে এবং উত্তেজনায় ভরপুর। ছাত্রীদের চোখে ছিলো বিদ্রোহের আগুন। শনিবার সকালের ঘটনায় তেতে ছিলেন ছাত্রীরা। এদিন বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সুফিয়া নাসের ইফতিকে অযাচিত ভাবে শ্রেণি কক্ষ থেকে বের করে দেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সালাউদ্দীন কাজল। ইফতির অপরাধ, তার দাদার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গল থেকে বৃহস্পতি মোট তিনদিন শ্রেণিতে তিনি গর হাজির ছিলেন।

এদিন এই অপরাধে তাকে শ্রেণি কক্ষথেকে বের করে দেন সালাউদ্দীন কাজল। যা সভাপতির ক্ষেত্রে অনাধিকার চর্চা। এই ঘটনা ছাড়াও সভাপতির বিরুদ্ধে সেচ্ছাচারিতা বিভিন্ন ধরনের আইনের নামে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সন্মানহানিসহ বহুবিধ অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষুদ্ধ এক ছাত্রী জানালেন, বর্তমান সভাপতি প্রায়ই কারনে অকারনে শ্রেণী কক্ষে ঢোকেন। এসময় যদি কোন ছাত্রী গর হাজির থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ খাড়া করেন। তিনি অশ্লিল ইঙ্গিত করে বলেন, তোমরা মেয়েরা ক্লাস ফাকি দিয়ে বয়ফ্রেন্ডের সাথে ডেটিং করতে যাও। আর একথা গোপন রাখতে পয়সা দিয়ে স্কুলের ফাইন পরিশোধ কর। তাই পিতামাতার কাছ থেকে কোন দরখাস্ত আনতে চাওনা। পিছে বাবা মা‘রা তোমাদের কুকৃর্তির কথা জেনে ফেলেন।
আরেকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তাকে (সভাপতি কাজলকে) স্যার বলতে হবে। না বললে তিনি স্কুল থেকে বের করে দেবেন বলে  প্রায়ই হুমকি দিয়ে থাকেন। এমনকি স্কুল থেকে ফোর্স টিসি দিয়ে শিক্ষা জীবন চিরতরে বন্ধ করে দেবেন। এমনি হাজারো অভিযোগ করলেন প্রতিবাদী ছাত্রীরা।
তার সর্বপ্রকার অমানবিক আচরনের ক্ষোভ এদিন প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা তিন ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করে সভাপতি কাজলের অপসরন চাই বলে স্লোগান  দিয়ে মানববন্ধন করেন। এসময় কাজলের ভয়ে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের মানববন্ধন বন্ধ করার চেস্টা চালালেও বিক্ষুদ্ধরা সে কথায় নিবৃত হয়নি। তারা এতোটাই বেপরওয়া ছিলেন  অভিভাবকের বাধা মানেন নি।। কয়েক অভিভাবক তো প্রকাশ্যে বলেই ফেললেন , কাজল যাকে ধরে তাকে নিঃস্ব করে ছাড়ে।

তার ভাই রাজু একজন চিহিৃত ফেনসিডিল ব্যবসায়ী এটা কি সংবাদিকরা জানেনা। আমাদের উথলীর সব সাংবাদিকই তো জানে রাজু আর লিখনের মাদক ব্যবসার কথা কিন্তু কই কখনো তো কোন সাংবাকিকে দেখলাম না এ বিষয়ে কোন কথা বলতে। ভাবখানা এমন কৃষন করলে লীলা আর সাধারনে করলে পাপ। অভিভাবকরা এভাবেই কাজলের চরিত্রের বর্ননা দিলেন। তবে এঘটনা জীবননগর উপজেলায় চায়ের কাপে ঝড় বইছে। কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকায় সত্য ঘটনা তুলেধরে  সংবাদ প্রকাশ হলেও একটি স্থানীয় পত্রিকায় উল্টো মি. কাজলের পক্ষে সংবাদ ছেপেছে। একটি সূত্র জানায়, মি. কাজল ওই পত্রিকাতেই লেখেন তাই শাক দিয়ে মাছ ডাকতে নিজের ছাপাই নিজেই গাচ্ছেন। এদিকে শিক্ষাথীদের ক্লাশ বর্জন চলমান রয়েছে। সোমবারও ক্লাশ বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এবিষয়ে অভিযুক্ত কাজলের সাথে কথা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

চুয়াডাঙ্গায় এডাব আয়োজনে সম-নাগরিকত্ব শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

রিফাত রহমান :বাংলাদেশে কর্মরত বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সমুহের সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান এডাব চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আয়োজনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *