সর্বশেষ
Home / খেলাধুলা / আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে দু’য়েকটি কথা….

আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে দু’য়েকটি কথা….

এলিস হক: আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের মধ্যে এমনকিছু কঠিনতা আছে, যেটা দিয়ে কখনো সফলতার পথ দিয়ে দেখানো যায় আবার যায় না। যদিও কালে ভদ্রে বিশ্বকাপ ফুটবল আর্জেন্টিনা দল এই পর্যন্ত দু’বার ফিফা ট্রফি জিতেছে। দলীয় সাফল্যের কথা যদি বলতে হয় তবে একে ঐ দৃষ্টিকোণ দিক দিয়ে অস্বীকার করা যায় না…

দৃষ্টিকোণ যদি ইতিবাচক হয়ও তবে সাধারণভাবে যুক্তি দিয়ে বলতে হবে, সাধারণ দর্শকদের মনে এক ধরণের টেনশন যুদ্ধ বাঁধে। মর্মটার উপর উপলব্ধি হয়ে আসে, তা যদি করতে না পারে সেটার কথা একটু হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার স্থানবদল নিয়ে লিখতে হলে সুপরিসরে অনেক বড় হয়ে যাবে। একটু সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা তুলে ধরলেই শেষ হবে না। তবুও লিখছি….

নেতিবাচকতার ছায়ায় একটা গন্ডিবদ্ধ হওয়াও ঠিক নয়। ঐ সমর্থকরা খুব সহজে বিষয়টি ধরে নেয়, জ্ঞানগম্যির মধ্যে যাবো না। যদিও ঘটনাকে এড়ানো যায় না। আলাদাভাবে একে বিশ্বস্তরের ফুটবলবোদ্ধাদের মনে মনে একটু হিসাবের খাতা আঁকতে হয়।

১৯৮৬ বিশ্বকাপ। একবার এরকম একটা ঘটনা ঘটেছিল আর্জেন্টিনা বনাম উরুগুয়ে। খেলার বিবরণে বোঝা যাবে দলটা কেমন ছিল? আজেন্টাইনের ভ্যালডানো প্রতিপক্ষ উরুগুয়ের ডানদিকে থ্রুব্রেকে মাঝখানে দৌঁড়ে যাওয়া জিউইস্তিকে ওয়াল পাস দেন, ওভাবে বের হয়ে যাচ্ছিলেন সেই জিউইস্তি….

এমন পরিস্থিতির মধ্যে এর চিত্র পাল্টানো সম্ভব-সেটা বুঝেছিলেন জিইউস্তি স্বয়ং নিজেই। ব্যক্তি নয়, দলের স্বার্থেই ফুটবলের সহাবস্থান তৈরি করা-এই উপলব্ধি তার মাথায় আসে বটে। কিন্তু সেটা ঐ মুহুর্তে অসম্ভব একটা পরিস্থিতি চাপে পড়েন সেই ভ্যালভানো আর জিউইস্তি। খেলার মধ্যে পড়ে কেউ চৌকস হয় না। গোল তৈরি করতে হলে নিজেদের ঝালাইয়ের যোগ্যতা গড়ে নিতে হয়..এটা খুব বেশি সময় লাগে না…সেই ফিরিস্তি ছিল অসম্ভবের পর্যায়ে। যা অনেক দেশগুলোর খেলোয়াড়দের মাঝে কেন যেন প্রবল আপত্তি!

উরুগুয়ের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা বুঝতে পারছিল না, কি করা উচিত? আজেন্টাইনরা সিঙ্গেল খেলোয়াড়কে রুখে দিতে উরুগুয়ানের ৩ ডিফে-ারই যথেষ্ট…জিউইস্তিকে ঠেকাতে তিন পজিশনের চোরাগুপ্তা বের করেছে ঐ তিন খেলোয়াড়।
কী সাংঘাতিক ব্যাপার, তাই না? ভ্যালডানোর থ্রুব্রেককে আটকানোর উদ্দেশ্য নিয়ে ঐ জিউইস্তিকেও ওয়ালস্ট্রিট বা খোলারাস্তাকে বন্ধ করতে চাওয়ার মধ্যে এক মুহূর্তেও সময় বের করে নিতে হয় না তা কে জানতো!
যা কেউ ভাবেইনি যেভাবে ঘটার কথা সেভাবে হওয়ার কথা নয়, কিন্তু ঘটে গেছে দৈবাৎ শক্তির আধারের নিঃসীমের ছন্দে!

জিউইস্তি বুঝে যান, কি করতে হবে? ভ্যালডানোর কক্ষে জিউইস্তি ঐ ছোট্ট একটি ক্ষুদে টোকা দেন; সেই বল চলে যায় সকল খেলোয়াড়ের মাথার উপর। উড়ন্ত বলটাকে না দেখে দৌড়ে যান ভ্যালডানো। কি অবাক কা-!!

গতিপথটা সোজা মাপার মধ্যে বল চলে গেছে ভ্যালডানো’র কাছে…তিনি কিনা সোজা গোলপোস্টের জালে জড়িয়ে দেন। আপসে যোগাযোগ কিনা? মন্ত্রণায় বলে-বল অনুশীলনে সেভাবে হয় না, আসল খেলায় ঘটে। একেবারে ওয়ান টু টাচ!

তর্কে অলাভজনক বিষয়। কাজেই শোনা কথাইয়ের গোষ্ঠীদের কাছে এঁরা আসলে কিছু না। প্র্যাকটিসে এমন এমন যদি হয়, তাহলে অন্যকিছু তো হয় না। তবে খেলোয়াড়দের সাধনার কোনো বিকল্প নেই।

ঈশ্বর প্রদত্ত কোনো বান্দা এভাবে যাদুর ছোঁয়ার পরশ দিয়ে দেন খেলোয়াড়ের পায়ে পায়ে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠে। এই ঘটনার পর দীর্ঘদিন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ সাফল্যের আলোচনা হতে অনেক দূরে ছিল। ৪৮ বছর পর…সহসা একদিন এমন ঘটনা ঘটে ১৯৭৮ বিশ্বকাপ মঞ্চে।

বিষয়টা অন্য প্রসঙ্গে চলে যেতে হয়, বাংলাদেশের ক্রীড়ামোদীরা আর্জেন্টিনাকে ভালো করে জানতে পারেন ১৯৭৮ সালের পরবর্তী ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে…১৯৭৮ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা জাতীয় দল তাদের চূড়ান্ত টপ ফর্মের স্বাভাবিক খেলা সকলকে মুগ্ধ করেছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

১৯৮৬ মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ফুটবলবোদ্ধাদের মন্তব্য-‘একমাত্র দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্ব এমনটি উদাহরণ ঘটানো সম্ভব হয়েছে যা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নের খেতাবটির অর্জন করা।’ শোনা যায়, ‘ম্যারাডোনা গ্রেট ফুটবলার।’ তাঁর যোগ্যতা প্রমাণিত। ম্যারাডোনা ছাড়া বিশ্বের দরবারে তার মতো খুব কম বিরল প্রতিভা খেলোয়াড়কে দেখা গেছে। ঈশ্বর প্রেরণকৃত দেবদূতধারী ম্যারাডোনা ১৯৮২ সালে ১২তম বিশ্বকাপ হতে ১৯৯৪ সালে ১৫তম বিশ্বকাপ পর্যন্ত একাই টেনেটুনে দলটিকে এতদূর নিয়ে যান। এর মধ্যে তাঁর সময়ে সেরা টপফর্মের ১৯৮৬ সালে ১৩তম বিশ্বকাপ ফিফা কাপ ট্রফির মতো দুর্লভ পুরস্কার আর্জেন্টিনাবাসীদের দরবারে সম্মাণ পাইয়ে দেয়া ছিল সত্যিই বিরল ঘটনার মিশন।

১৯৭৮’র ১১তম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যারিও কেম্পেস, বার্তোনি, প্যাসারেলা, বুরুচাগা, ভ্যালডানো, জিউয়িস্তি (১৯৮৬) প্রমুখ চমৎকার প্রতিভাময়ী একদল ফুটবলারের সমাবেশে কি চমৎকার বিশ্বকাপের পর্দায় ফুটবল খেলে ফুটবলবোদ্ধাদের মন জয় করেন। বিগত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কৌশলগত দিক দিয়ে খুব ভালো ফুটবলার দলে ছিল, এ কথা কে বলবে?

সর্বশেষ মেসি বাহিনীরা আসছে রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮ সালকা বাত…কিভাবে অত্যাধুনিক ফলাফল (!?) করে-এটা এখন পরবর্তী মিশনটি নিয়ে একটু বাছ বিচারের বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে…..!!

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

মাদকাসক্তরা বেপরোয়া নির্যাতনের শিকার পরিবারকে হুমকি-ধামকী দিচ্ছে: অবশেষে থানায় লিখিত অভিযোগ!

আতিকুজ্জামান:  জীবননগর লক্ষীপুরপ মাদকাসক্তরা বেপরোয়া নির্যাতনের শিকার পরিবারকে হুমকি। মাদকসেবনকারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় প্রতিবাদিকে মাদকাসক্তরা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *