সর্বশেষ
Home / খেলাধুলা / অস্ট্রিয়া ও বৃটেনের ফুটবল শৈল্পিকতার ছাপ

অস্ট্রিয়া ও বৃটেনের ফুটবল শৈল্পিকতার ছাপ

এলিস হক : কিছু ভবঘুরে কিছু দূরন্ত স্বভাবের ইংরেজরা ফুটবল খেলাকে অস্ট্রিয়ায় নিয়ে যায়। সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতায় অস্ট্রিয়ার সারাদেশে অসম্ভব জনপ্রিয়, সম্পূর্ণ অন্যভাবে ভিয়েনীজ মাটি ও আবহাওয়ায় অনিংরেজ রূপে এবং অস্ট্রিয়ায় অভিজাত শ্রেণীর পরিচর্যার ফলে ফুটবল নগরী হিসেবে গড়ে উঠে।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ফুটবল নরম ছোঁয়ার দৃষ্টিভঙ্গিতে বেড়ে উঠে। ধনতান্ত্রিক দেশে প্রতি শনিবার বিকেলে ফুটবল খেলা হয়। তাই এক ফালি স্বাধীনতার বহ্নিশিখার উৎসবের মধ্যদিয়ে তাদের শ্রমিকরা ফুটবলটা খেলে। মধ্যইউরোপের সমুদ্রোপকূলহীন বলতে সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও চেকোশ্লোভাকিয়ার মত দেশকে বোঝায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত লক্ষ্য করলে প্রতীয়মান হয় যে, ‘ফুটবল একটি নির্দিষ্ট ঘরাণার রূপ ধারণে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে।’ ইংল্যান্ডে অবশ্য পুরোদমে অন্যরকম ফুটবল খেলা পরিবেশন হয়, এখানে ভিয়েনীজদের ধারার সাথে ওদের কিছুটা মিল সাদৃশ্য আছে।

অস্ট্রিয়াকে নিঃসন্দেহাতীতভাবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের পূর্ব ইতিহাস প্রাক-পর্বে পাওয়া যাবে। সমসাময়িক আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচের পরিসংখ্যান অস্ট্রিয়ার সাথে হাঙ্গেরির যোগ আছে। আবার এই হাঙ্গেরির সঙ্গে ইংল্যান্ড-স্কটল্যান্ডের মধ্যে বহু ম্যাচ হয়। ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ড-হাঙ্গেরি-অস্ট্রিয়ার মধ্যকার হাঙ্গেরিই একটি চমৎকার দলগঠন সম্পন্ন করে।
রাজকীয় ফরোয়ার্ড ম্যাথিয়াস সিন্ডেলারকে সামনে রেখে ‘ওয়ান্ডার টিম’ আখ্যায়িত হয়। ফলাফলের দিকে তাকালে এই বিস্ময়ের কারণ স্পষ্ট বোঝা যায়নি।

এই বিস্ময়কর কিন্তু ইংল্যান্ডের গোয়ার্তুমির কাছে বেশির ভাগ সময়ে হেরেছে। বৃটিশরা পেছন হতে ল্যাং মারা ভিয়েনীজরা একে ‘ভীষণ অসভ্য’ বলে মনে করেছে। তার কারণ, অস্ট্রিয়াগোষ্ঠী অশুদ্ধ শিল্পচর্চার পথে পা মাড়া দেয়নি। এতকিছু ঘটার পরেও মধ্যইউরোপে একটি ফুটবল ঘরাণা হয়ে উঠতে পারলো না। কেন পারেনি, তার একটি ব্যাখ্যাও এখানে আছে।

দক্ষিণ ইউরোপিয়ানদের কিছু ফুটবল ধারার সঙ্গে অনেকগুলো আশ্চর্য মিল লক্ষ্য করা যায়-টেকনিক, ট্যাকটিক্স আর স্ট্র্যাটেজির প্রতিফলন। আর মধ্যইউরোপের ফুটবল ধারার মধ্যে ছিল ছোট ছোট ড্রিবলিং, শর্ট পাসিং লং বল, উইদাউথ দ্য বল আনপ্যাটার্ন, ইনডিভিজুয়্যাল টু গুড পারফরমার অফ প্রফেশনাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে দক্ষিণ ইউরোপে এতটা সম্পৃক্ততা না থাকলেও বেশ কিছু ধারার সঙ্গতি ধরা পড়ে। লং বল খেলাকে তারা যদিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে না। জেদ ও শারীরিক প্রস্তুতির কোনো অভাব সেই অভিজাত সদস্য অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও চেকোশ্লোভাকিয়ার মধ্যে ছিল না। খোদ চেকোশ্লোভাকিয়ার ফুটবল গ্রাউন্ডের দর্শকরা আদর করে নাম ডাকে ‘স্ট্রিট অফ ফুটবল’ বা রাস্তার ফুটবল।

এর অংশ হিসেবে হাঙ্গেরি দারুণ এক ফুটবল আমুদের দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথমদিকে বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠে। হাঙ্গেরিই সমসাময়িককালের ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, উরুগুয়ে ইত্যাদি দেশগুলোতে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পূর্বপর্যন্ত মাঠের বিশ্বকাপ পর্দায় কাঁপিয়ে দেয়।
আবার ইংল্যান্ডের ফুটবল খেলার অবস্থা সুসংহত জয় জয়কার। গায়ের জোরে ফুটবল খেলার আবির্ভূত হওয়া নাৎসিখ্যাত জার্মানিরা এত বিশ্রী ব্যাপার ঘটায় যা চিন্তার অতীত। একদিকের ফুটবলকে ন্যাড়া মাথায় বেল দিয়ে ঘনঘটার কারণ ঘটিয়ে দিচ্ছিল, অন্যদিকে ভিয়েনীজদের চোখে বিলাসিতার জোয়ার ভাসিয়ে দেয়।

সবকিছু আমূল পরিবর্তনের হাওয়া সেই ভাবাদর্শের গায়ে লাগে। নেতিবাচক প্রভাবের মাঝেও সেই যাদুমোহিত অসাধারণ তরুণ ফুটবলারদের পায়ে পায়ে সম্মোহনীর শক্তি দারুণভাবে স্পর্শলাভ করলো বৈকি! সম্পূর্ণ একটি বিপ্লব ঘটিয়ে পুরো ইউরোপকে একহাত দেখিয়ে দেয়। আর সেই বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফসল আজকের উত্তর ইউরোপীয় ফুটবল ঘরাণা।

প্রিন্ট

About এডমিন

Check Also

‘বাংলাদেশে আমরাই বৈষম্য- নির্যাতনের শিকার’, বলছেন পুরুষ অধিকার কর্মীরা

বাংলাদেশে যখন হ্যাশট্যাগ মি-টু আন্দোলনের ঢেউ এসে লেগেছে, যৌন নিপীড়নের শিকার হবার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *